Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মাহিকা ভট্টাচার্য: ২২ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএল । জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে তার প্রস্তুতি। প্রতি বছরের মতো, এ বছরেও বেশ কিছু ভারতীয় প্লেয়ার তাঁদের শেষ বেলার প্রহর গুনছে।  সময়ের কাছে থামতে হয় সবাইকেই। দলে পুরনোদেরও যেমন প্রয়োজন, তেমন পুরনোদের হাত ধরে নতুন প্রজন্মরাও এগিয়ে আসে। যদিও বয়স দেখে সব সময় সব কিছুর বিচার করা যায় না। তবুও কিছু ক্ষেত্রে বয়সের কাছে খেলাকে হার মানতেই হয়। পারফরম্যান্স, ফিটনেসের উপর অনেকটাই নির্ভর করে। এ বছরই শেষ আইপিএল হতে পারে বেশ কয়েক জন ভারতীয় ক্রিকেটারের। হয়তো এই মরসুমের শেষে তাঁরা তাঁদের অবসর ঘোষণা করে দিতে পারেন।

মহেন্দ্র সিংহ ধোনি— আইপিএল আসা মানেই শিরোনামে তিনি থাকবেন। তিনি মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। এই লিগের সফল অধিনায়কও বটে। কিন্তু তাঁর অবসর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২০-এর ১৫ অগস্ট তিনি তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়োর মাধ্য়মে তাঁর অবসর ঘোষণা করেছিলেন। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার নজির গড়া ধোনির আইপিএল কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ঠিক ১৬ বছর আগে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ধোনিকে ৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে নিলামে কিনেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। তার পর থেকেই ধোনি যুগ চলছে আইপিএল-এ।

বয়স ৪২ পেরিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটাই হয়তো শেষ মরসুম। ধোনিকেও বার বার সেই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ২০২৩-এ তাঁর নেতৃত্বে চেন্নাই সুপার কিংস পঞ্চম বার আইপিএলের খেতাব জেতার পর সকলেই প্রায় ভেবেছিলেন ট্রফিটা হাতে তুলে তিনি অবসর ঘোষণা করবেন। কিন্তু, ধোনি বরাবরই বাকিদের থেকে আলাদা। আবেগে ভেসে, সতীর্থদের কাঁধে চেপে মাঠ ঘুরে বিদায় নেওয়ার পাত্র তিনি নন। তাই পঞ্চম আইপিএল ট্রফি জিতেও অবসর ঘোষণা করেননি তিনি। জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘‘হয়তো অবসর ঘোষণা করার এটাই সেরা সময়। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে গোটা দেশে যে ভালবাসা পেয়েছি সেটা কোনও দিনই ভোলার নয়। এখান থেকে ক্রিকেটকে পাকাপাকি ভাবে বিদায় জানাতেই পারি। কিন্তু আমার কাছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ হল, পরের ন‘মাসে কঠোর পরিশ্রম করে এবং আরও একটা আইপিএল খেলার চেষ্টা করা।” এবার কি বক্তব্যটা বদলাবে?

দীনেশ কার্তিক— আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবন প্রায় দু’দশকের। দেশের হয়ে খেলেছেন ১৫২ ম্যাচ। তার মধ্যে এক দিনের ম্যাচ ৯৪টি। দীনেশ কার্তিকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে অন্ধকার নেমেছে বহু বার। সেই আঁধার কাটিয়ে বার বার তিনি আলোকিত করেছেন নিজেকে। ভারতীয় দলে শেষ বার ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে দেখা গিয়েছিল কার্তিককে। তার পর থেকে আর সুযোগ পাননি তিনি। আইপিএলেও হয়েতো এ বারই শেষ বার দেখা যাবে তাঁকে।

দেখতে দেখতে বয়স এখন ৩৮।  ২০০৮ থেকে প্রতি বছর আইপিএল খেলেছেন কার্তিক। ছ’টি দলে খেলেছেন তিনি। শুরুটা হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালসে। তার পরে পঞ্জাব কিংস, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, গুজরাট লায়ন্স এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স। দু’বছর কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়কও ছিলেন তিনি।  ২০২২-এ আরসিবিতে আবার ফিরে আসেন কার্তিক। ২৪২টি আইপিএল ম্যাচে ৪৫১৬ রান করেছেন কার্তিক। ১৩২.৭১ স্ট্রাইক রেট ও ২৫.৮১ গড়ে রান করেছেন তিনি। ২০টি অর্ধশতরান করেছেন কার্তিক। উইকেটের পিছনে ১৪১টি ক্যাচ ও ৩৬টি স্টাম্প আউটও করেছেন তিনি।

পীযূষ চাওলা— ২০০৮ থেকেই আইপিএল খেলছেন পীযূষ চাওলা। তবে, ২০২২-এর নিলামে তিনি অবিক্রিত ছিলেন। ২০২৩ আইপিএলের আগে মিনি নিলামে পীযূষকে ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময় কেনে মুম্বই। এ বছরও তাঁকে ওই দলেই দেখা যাবে।  পঞ্জাব কিংসের সঙ্গে তাঁর আইপিএলের পথ চলা শুরু হয়। এর পর, তাঁকে কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স  এবং চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতেও দেখা যায়। এই ৩৫ বছর বয়সী স্পিনার মোট ১৮১টি ম্য়াচে ৩৬৪০ বল করেন। রান দেন ৪৭৯৬। ১৭৯টি উইকেট আছে তাঁর। ইকোনমি রেট ৭.৭১। পীযূষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষ খেলেছিলেন ২০১২ সালে। ভারতীয় দলে এখন আর তাঁকে দেখতে পাওয়া যায় না। হয়তো আইপিএলেও এটাই তাঁর শেষ মরসুম।

অমিত মিশ্র— বয়সের দিক থেকে তিনি মহেন্দ্র সিংহ ধোনির সমসাময়িক। কিন্তু ধোনিকে নিয়ে যে পরিমাণ মাতামাতি হয়, তার বিন্দুমাত্রও দেখা যায় না তাঁকে নিয়ে। অমিত মিশ্র বরাবর থেকেছেন অন্তরালেই। কিন্তু আইপিএলের অন্যতম সেরা বোলার তিনি। ধারাবাহিক ভাবে প্রতি মরসুমে উইকেট নিতে তাঁর জুড়ি নেই। ২০০৮ থেকেই খেলছেন আইপিএল। ২০১০ পর্যন্ত তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে ছিলেন। ২০১১ থেকে ২০১২ পর্যন্ত তিনি ডেকান চাজার্স দলে খেলেছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৪ তিনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদে খেলেছেন। ২০১৫-তে অমিত তাঁর পুরনো দল দিল্লিতে আবার ফিরে যান। ২০২১ পর্যন্ত তিনি ওই দলের হয়েই খেলেন। ২০২২-এ তিনি নিলামে অবিক্রিত ছিলেন। ২০২৩-এ লখনউ সুপারজায়েন্ট তাঁকে ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময় কেনে। এ বছর তাঁকে ওই দলের জার্সিতেই দেখা যাবে। ১৬১টি ম্যাচ খেলে তিনি ১৭৩টি উইকেট নিয়েছেন। ইকোনমি রেট ৭.৩৮।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁকে ২০১৭-তে শেষ বারের জন্য দেখা গিয়েছিল। ধোনির সঙ্গে সঙ্গে অমিতও হয়েতো এ বারই আইপিএলকে বিদায় জানাতে চলেছেন।

শিখর ধাওয়া‌ন— এক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে রোহিত শর্মার সঙ্গে তিনি নিয়মিত জুটি বাঁধতেন। একাধিক বার দলকে জিতিয়েছেন তাঁরা। শেষ বার ২০২২-এ ভারতের হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে খেলেছিলেন শিখর ধাওয়ান। তার পর থেকে নির্বাচকরা তাঁকে আর ডাকেননি। এশিয়ান গেমসের দলে সুযোগ না পাওয়ায় বিস্মিতও হয়েছিলেন ধাওয়ান।  বোর্ডের বার্ষিক চুক্তি থেকে বাদও পড়েছেন তিনি। গতবার বার্ষিক চুক্তিতে তিনি ছিলেন। তা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, তাঁকে নিয়েও আর ভাবছেন না নির্বাচকেরা। ধাওয়ান দীর্ঘ দিন ভারতের কোনও ফর্ম্যাটের দলেই জায়গা পাননি। এমন নয় যে খারাপ ফর্মের জন্য তিনি বাদ পড়েছেন। আসলে তাঁর জায়গা নিয়ে নিয়েছেন শুভমন গিল ও যশস্বী জয়সওয়ালরা। ভারতীয় দলে ওপেনারের অভাব নেই। সেই কারণেই ধাওয়ানকে আর ভাবা হচ্ছে না।

তাই আইপিএলকে পাখির চোখ করেছেন শিখর ধাওয়ান। এখান থেকেই তিনি ঘুরে দাঁড়াতে চাইবেন। জাতীয় দলের শিকে আর ছিড়বে না কিন্তু আইপিএলকে ধরে রাখথে চাইবেন। সবটাই অবশ্য নির্ভর করবে তাঁর পারফর্মেন্সের উপর। বর্তমানে আইপিএলে পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক ধাওয়ান।

২০০৮ থেকেই আইপিএল খেলছেন ধাওয়ান। তাঁর প্রথম দল দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস (দি‌ল্লি ক্য়াপিটাল্স)। ধাওয়ান তাঁর নিজস্ব স্ট্রোক প্লে খেলার জন্য বিখ্য়াত। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ধরে রাখারও ক্ষমতা রাখেন তিনি। তিনি ওপেনার হিসাবেও ধারাবাহিকভাবে রান পান। তাঁকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং দিল্লি ক্য়াপিটালসেও খেলতে দেখা গিয়েছে। ধাওয়ান ২১৭টি ম্য়াচে ৬৬১৭ রান করেছে‌ন। তাঁর সর্বোচ্চ ১০৬ নট আউট। গড় ৩৫.৩৯ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৭.১৮। আছে দু’টি শতরান এবং ৫০টি অর্ধশত রান। এ বছর কি তাহলে তাঁর শেষ আইপিএল না কি তিনি ভারতীয় দলে খেলার জন্য মরিয়া? চলছে জল্পনা।

ঋদ্ধিমান সাহা— দেশের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহা। কিন্তু ভারতীয় দলে তাঁর  আর জায়গা নেই। মাঝে বাংলা ছেড়ে ত্রিপুরাও চলে গিয়েছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার জন্য। এ বছরও আইপিএল খেলার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি নিজের মতো করে। ৩৯ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক ব্যাটার ২০০৮ থেকে আইপিএল খেলছেন। ১৬১টি ম্যাচ খেলে তিনি ২৭৯৮ রান করেছেন। তাঁর সর্বোচ্চ ১১৫ রানে অপরাজিত। গড় ২৪.৯৮ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৮.০৫। আছে একটি শতরান ও ১৩টি অর্ধশত রান। উইকেটের পিছনে ৮৮টি ক্যাচ ও ২৪টি স্টাম্প আউটও করেছেন ঋদ্ধি। বর্তমানে তিনি গুজরাটের উইকেটরক্ষক। এ ছাড়া  ঋদ্ধিকে চেন্নাই, কলকাতা, পঞ্জাব এবং হায়দরাবাদেও খেলতে দেখা গিয়েছে। চোটের কারণে তিনি বেশির ভাগ সময়ই মাঠের বাইরে থাকেন। তবে, এ বার দেখার বিষয় ঋদ্ধি এই মরসুমে কী করেন।

তালিকায় ভারতীয়দের মধ্যে জোরে বোলার উমেশ যাদব এবং ইশান্ত শর্মার মতো তারকাদের রাখাই যায় তবে তাঁরা এই মরসুমেই শেষ খেলবেন কি না তা নির্ভর করছে এ বারের পারফর্মেন্স এবং পরের বছরের নিলামের উপর।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *