অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, তুলনামূলকভাবে কম ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভেন্যুতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে টিকিটের অত্যধিক চাহিদার কারণে লিগের ফাইনাল বেঙ্গালুরুতে আয়োজন করা “অসম্ভব” হয়ে পড়েছিল। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম—যেখানে ১ লক্ষ ৩০ হাজার দর্শকের জায়গা রয়েছে—আগামী ৩১ মে এই জমকালো টি-টোয়েন্টি ইভেন্টের ফাইনালের আয়োজন করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুই ছিল ফাইনালের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত আয়োজক শহর; কারণ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু হল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল। তবে, বিসিসিআই বুধবার জানিয়েছে যে, ‘‘স্থানীয় সংস্থা এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন কিছু নির্দিষ্ট চাহিদার কারণে—যা বিসিসিআই-এর প্রতিষ্ঠিত নির্দেশিকা ও প্রোটোকলের আওতার বাইরে ছিল—ভেন্যুটি পরিবর্তন করে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’’ পিটিআই-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ধুমল বিসিসিআই-এর সম্মুখীন হওয়া সমস্যাগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। কর্ণাটক সরকারের একটি নির্দিষ্ট কোটা রয়েছে, যার আওতায় রাজ্যের বিধায়ক, বিধান পরিষদ সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের প্রত্যেককে তিনটি করে বিনামূল্যে আইপিএল টিকিট দিতে হয়; ৪০,০০০-এর বেশি দর্শক ধারণ করতে অক্ষম এমন একটি ভেন্যুতে এই নিয়ম বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হতো।
‘‘দেখুন, আদর্শগতভাবে ফাইনালটি বেঙ্গালুরুতেই হওয়া উচিত ছিল। আমরা কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। গত বছর সেখানে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা (পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা) ঘটেছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা ছিল। রাজ্য সরকারকে বিধায়কদের বিনামূল্যে টিকিট দিতে হয় এবং কেএসসিএ-এরও তাদের নিজস্ব সদস্যদের প্রতি কিছু দায়বদ্ধতা বা প্রতিশ্রুতি থাকে,’’ তিনি বলেন।
‘‘স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতাও খুব একটা বেশি নয়। এমনকি লিগ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্যও সেখানে খুব অল্প সংখ্যক টিকিটই বিক্রির জন্য উপলব্ধ ছিল। যেহেতু আইপিএল ফাইনাল সারা বিশ্ব থেকে দর্শকদের আকৃষ্ট করে, তাই ভক্তদের জন্য আমাদের কাছে টিকিটের একটি বড় ভাণ্ডার বা ‘ইনভেন্টরি’ থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া ওই সময়েই আমাদের আইসিসি-এর বোর্ড সভাও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার জন্য অনেক সদস্যই সেখানে আসবেন।’’
‘‘সবকিছু বিবেচনা করে আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম যে, একটি বৃহত্তর ভেন্যু বা স্টেডিয়ামই ফাইনালের জন্য অধিকতর উপযুক্ত হবে। ভক্তদের পাশাপাশি আইসিসি বোর্ড সভায় যোগ দিতে আসা আন্তর্জাতিক অতিথিদের সুবিধার্থে আমরা শেষমেশ আহমেদাবাদকেই বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,’’ ধুমাল জানান।
আহমেদাবাদ নিয়মিতভাবে আইপিএল ফাইনালের আয়োজক হওয়ায়—যা অন্যান্য শহরের তুলনায় এই ভেন্যুকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগের জন্ম দিয়েছে—সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ধুমাল বলেন, ‘‘না, আদর্শগতভাবে চ্যাম্পিয়ন দলের শহরই ফাইনাল আয়োজনের অধিকার পায়। কিন্তু আমরা যেসব সমস্যার কথা উল্লেখ করলাম, সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বেঙ্গালুরুতে ফাইনাল আয়োজন করাটা আর সম্ভবপর বা বাস্তবসম্মত ছিল না। ধরুন, গত মরসুমে যদি সিএসকে জিতত, তবে আমরা নিশ্চিতভাবেই চেন্নাইতেই এটি আয়োজন করতাম,’’ বলেন ধুমল।
ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজনের সুযোগ না পাওয়ায় কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তাদের হতাশা প্রকাশ করেছিল; তারা জোর দিয়ে বলেছিল যে, আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে যা কিছু করা প্রয়োজন ছিল, তার সবকিছুই তারা করেছিল।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
