অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতীয় ফুটবল দলের যখন ঘুম ভাঙল, তখন অনকেটাই দেরি হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে কুয়েত সিটির মাঠে কুয়েতের বিরুদ্ধে প্রিওয়ার্ল্ড কাপের ম্যাচে শেষবার জয় পেয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল। তারপর লাগাতার হয় ড্র করেছে বা হেরেছে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে। এর ফলে বিশ্বকাপের যোগ্যতার্জন পর্ব থেকে বটেই, এমনকি এএফসি কাপ কোয়ালিফায়ারের গ্রুপের প্রথম ৫ ম্যাচের একটাও না জেতায়, ২০২৭ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ হারায় ভারত। এই ব্যর্থতা থেকে দলকে মুক্তি দিতে পারেননি গত তিনবছরে ভারতীয় ফুটবল দলের দায়িত্বে থাকা ৩ কোচ ইগর স্টিমাচ, মানোলো মারকোয়েজ ও এমনকি খালিদ জামিলও। মঙ্গলবার কোচির নেহরু স্টেডিয়ামে খালিদেরই কোচিংয়ে ভারতীয় দল হংকংকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার জয় পেলেও, তাতে নিয়মরক্ষার সম্মান পুররুদ্ধার ছাড়া আর কোনও প্রাপ্তি ঘটেনি। না, ভুল বলা হল, একটা প্রাপ্তি ঘটেছে, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ছেড়ে ভারতের জার্সি গায়ে অভিষেক ম্যাচে রায়ান উইলিয়ামসের ৪ মিনিটে করা দ্রুততম গোল। এর আগে জাপানের ইজুমি আরাতা ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে খেলেছিলেন।
ভারতীয় ফুটবল দল যদি এই খেলাটা এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের শুরু থেকে দেখাতে পারত, তাহলে ২০২৭ এশিয়ান কাপে তাদের খেলা আটকাত না। তবে হংকংয়ের বিরুদ্ধে সান্ত্বনা পুরস্কার লাভের মতো জয়ে ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল আগামী দিনে ভাল কিছু করার আশা দেখছেন। ম্যাচ শেষে প্রচারমাধ্যমকে জানান, ‘ আমি খুব খুশি। দলের প্রতিটি ফুটবলার শিবিরে প্রচন্ড পরিশ্রম করেছে। জয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল। তার ফল মিলেছে। এই জয়ের কৃতিত্ব ফুটবলারদের। আমি ধন্যবাদ জানাব কোচির সমর্থকদের, সংগঠকদের। মাঠ ভরিয়ে গলা ফাটিয়ে সমর্থন জানানোর জন্য।’
২৩ মার্চ থেকে ভারতীয় দলের শিবির চলেছিল কোচিতে। খালিদ জানালেন, ‘ এই শিবিরটা খুব কাজে দিয়েছে বোঝাপড়া গড়ে তুলতে। হংকং ম্যাচে ফুটবলাররা একটা দল হিসেবে শুধু খেলেছে তাই নয়, ভাল ফুটবল খেলেছে। গোটা ম্যাচে একটা গোল হজম ছাড়া পুরো আধিপত্য ছিল ভারতীয় দলের। আরও গোল হতে পারত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে। তবে যার শেষ ভাল, তার সব ভাল।’
আপাতত হংকং ম্যাচে জয় দিয়ে ভারতীয় দলের এবারের মতো মরশুম বা যাত্রা শেষ হলেও, এখন থেকেই ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন জাতীয় কোচ খালিদ। বললেন, ফেডারেশন কর্তাদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন, যাতে পরের এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের আগে ভারতীয় দল অনেক বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়, নিজেদের তৈরি করতে।
হংকংয়ের বিরুদ্ধে ৪ মিনিটে গোল করে ভারতীয় দলের জয়ের চাকাটা গড়িয়ে দেন রায়ান উইলিয়ামস। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্মালেও, মায়ের দিক থেকে ভারতীয় বংশের শেকড় থাকায় ভারতের নাগরিকত্ব পেতে সমস্যা হয়নি রায়ানের। কাগজপত্র ও আইনি জট ছাড়াতে কিছুটা সময় লেগেছিল মাত্র। তার জন্য ৫ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল। শেষপর্যন্ত হংকং ম্যাচে অভিষেক ঘটল। নেমেই ৪ মিনিটে গোল করলেন। সুনীলের অবসরের পর স্ট্রাইকিং পজিশনে যে অভাবটা বারবার ধরা পড়ছিল, তা মেটানোর ইঙ্গিত দিলেন রায়ান গোল করে। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পায়ে চোট পেলে খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়েন রায়ান। খালিদ চাননি তাঁকে মাঠে জোর করে রেখে চোট বাড়তে দিতে। পরে খালিদ বলেনও, ‘ ভারতের জার্সিতে এটা রায়ানের প্রথম ম্যাচ। খুব ভাল খেলেছে। গোল করেছে। সবচেয়ে বড় কথা আক্রমণে একটা বাড়তি ঝাঁজ এনেছে। চোট পাওয়ায় মাঠে রাখার ঝুঁকি নিইনি। যেটুকু জেনেছি, তাতে চোটটা গুরুতর নয়। দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।’
ভারতীয় দলের দ্বিতীয় গোলটা আসে মুম্বই সিটি ফুটবলার আকাশ মিশ্র পা থেকে। একটা সময় আকাশের ফুটবল জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছিল চোটের কারণে। ২০২৪য়ে চোটের জন্য ৫৫১ দিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল আকাশকে। গতবছর ফিট হয়ে সুপার কাপের সময় মাঠে ফেরেন আকাশ। মঙ্গলবার ভারতীয় দলের জার্সিতে প্রথম গোল করলেন হংকংয়ের বিরুদ্ধে। স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত। বলেন, ‘ অবশ্যই আমি খুব খুশি দেশের জার্সিতে প্রথমবার গোল করে। তবে এই জয়ের পেছনে গোটা দলের অবদান রয়েছে। সকলের মিলিত লড়াইয়ের ফসল। যা ভবিষ্যতে আমাদের আরও বড় সাফল্য পেতে সাহায্য করবে। আমার দুঃসময়ে সকলে পাশে ছিলেন। এবার ভারতীয় দলে সতীর্থরা সবসময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর সঙ্গে আছেন ঈশ্বর। তাতেই গোলটা পেয়েছি।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
