সুচরিতা সেন চৌধুরী: ঘরের মাঠে আহাল এফকে-র বিরুদ্ধে হারের পর বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথমত তো কোচ হোসে মোলিনার দল নির্বাচন প্রথম থেকেই কপালে ভাজ ফেলেছিল। মনে করা হয়েছিল, তিন বিদেশি দিয়ে শুরু করে দ্রুত ছয় বিদেশিতে চলে যাবেন তিনি। কিন্তু তেমনটা হল না। তিনি যখন পাঁচ বিদেশিতে গেলেন ম্যাচের বয়স প্রায় তখন ৬০ মিনিটের গন্ডি ছুঁই ছুঁই। তাও তিনি ছয় বিদেশিতে গেলেন না। দিমিত্রি পেত্রাতস রিজার্ভ বেঞ্চে বসে বসে দলের হার দেখলেন। স্বাভাবিকভাবেই হতাশা গ্রাস করেছিল তাঁকে। যার ফল ম্যাচ শেষে মাঠের মধ্যে কিছু দৃশ্য তৈরি হল। যার শব্দ আমাদের কাছে না পৌঁছলেও শরীরী পরিভাষা অনেক কথা বলে গেল।
ম্যাচ শেষে অনেকক্ষণ মোলিনাকে দেখা গেল মাঠে থেকে যেতে, মাঠ জুড়ে হেঁটে বেড়াতে। সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁকে তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, এর পিছনে বিশেষ কোনও কারণ ছিল না। তবে মাঠ ছেড়ে বেরনোর আগে তাঁর সঙ্গে দিমিত্রির কথোপকথন নিয়ে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। দু’জনের কথোপকথনের সময় সামান্যই। দিমিকে কিছুটা উত্তেজিত দেখালেও, ঠান্ডা মাথায় জবাব দিয়ে মাঠ ছাড়লেন মোলিনা। তার আগে পিছন ফিরে আরও কিছু বললেন। তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলেন দিমি। জানা যাচ্ছে কোচের কাছে দিমি জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাঁকে খেলানো হল না? মোলিনা টিম মিটিংয়ে জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন।
এই পর্ব এখন অতীত, সামনে ইরান সফর। সেপাহান এসসি, যা এই পর্বের কঠিনতম প্রতিপক্ষের অন্যতম। তার আগে অন্য জটিলতায় পড়তে পারে মোলিনার দল নির্বাচন। অতীতেও এমন সমস্যা দেখা গিয়েছে। বেশ কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান যাওয়ার অনুমতি দেয় না। একবার পাসপোর্টে ইরানের ছাপ পড়ে গেলে সমস্যায় পড়তে হয় ইরান ভ্রমণকারীদের। আর তার মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়া। আর এই মোহনবাগান দলে রয়েছেন তিন জন অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার। যাদের এসিএল ২ খেলতে ইরানে যাওয়া নিয়ে সমস্যা হতে পারে। সেই তালিকায় রয়েছেন জেমি ম্যাকলারেন, দিমিত্রি পেত্রাতস ও জেসন কামিন্স। রবসন রবিনহো ও রডরিগেজকে নিয়ে কোনও সংশয় নেই, সমস্যা নেই কোচ হোসে মোলিনাকে নিয়েও। টম আলড্রেড-ও প্রায় নিশ্চিতই বলা যেতে পারে।
তবে ক্লাব শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবে তিন অস্ট্রেলিয়ানকে ইরান নিয়ে যেতে। ভিসার জন্য আবেদনও করে দেওয়া হবে। তার পরও তাঁদের যাওয়া নিয়ে একটা সংশয় থাকছে। সমস্যার কথা ভেবে প্লেয়াররাও বেকে বসতে পারেন, এমন নজির রয়েছে অতীতে বিভিন্ন ক্লাবে। যদি আশঙ্কা সত্যি হয় তাহলে ইরানের সেপাহান এসসির মতো কঠিন দলের বিরুদ্ধে সেই তিন বিদেশিতেই খেলতে হবে মোহনবাগানকে। যেভাবে তিন বিদেশিতে আহাল এফকের বিরুদ্ধে দল সাজিয়েছিলেন মোলিনা, এখানে সুযোগ ছিল ছয় বিদেশি খেলানোর, তবে সে পথে হাঁটেননি তিনি। তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা বিরক্ত হয়েই জবাব দিয়েছিলেন, ‘‘সেটা আমার স্ট্র্যাটেজি।’’ যার ফল, সহজতম ম্যাচ হেরে এসিএল ২ শুরু করেছে মোহনবাগান।
সঙ্গে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে হোসে মোলিনাকে নিয়েও। ইরান ম্যাচের আগেই তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট, যেখানে জানতে চাওয়া হতে পারে ঘরের মাঠে আহাল এফকে-র বিরুদ্ধে হারের কারণ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
