মোহনবাগান কোচ হোসে মোলিনা ও গোলকিপার বিশাল কাইথ —নিজস্ব চিত্র
সুচরিতা সেন চৌধুরী: আহাল এফকে-র বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে এসিএল ২-এর প্রথম ম্যাচ হেরে শেষ করতে হবে সেটা প্রতিপক্ষের গোল হওয়া পর্যন্তও কেউ ভাবেনি। বরং একটা সময়ের পর এটাই ধরে নেওয়া হয়েছিল, এই ম্যাচ গোল শূন্যভাবেই শেষ হবে। যাতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে শেষ করতে পারবে মোহনবাগান। কারণ এই পয়েন্ট দলের আত্মবিশ্বাসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামনেই ইরানের মাঠে ইরানের দলের বিরুদ্ধে খেলা, তার আগে ঘরের মাঠে জয় না হোক অন্তত একটা পয়েন্ট পেতেই পারত মোহনবাগান। যদিও মোহনবাগান কোচ হোসে মোলিনার মতে, তাঁরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারে এই ম্যাচের পল উল্টোও হতে পারত, মানে ০-১-এ হার ১-০ গোলে জয়ে বদলে যেতে পারত। কিন্তু তেমনটা হয়নি। আর তা নিয়ে হতাশায় ডুবতে নারাজ মোলিনা। বরং গলায় লড়াইয়ের সুর।
মঙ্গলবার যুবভারতীতে মোহনবাগানকে সমর্থন করতে উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। থ্রি ডি টিফো নিয়ে মোট ছয়টি টিফো নামলো গ্যালার জুড়ে। যা দলকে মোটিভেট করার জন্য অনেকটা। তার পর পুরো ম্যাচে সারাক্ষণ চলল স্লোগান, গান, বাজনা। লড়াইও করল দল কিন্তু আসল তো ফল, যেটা এল না। মেনে নিলেন মোলিনা। বলছিলেন, ‘‘আমরাও সুযোগ তৈরি করেছিল, ওরাও তৈরি করেছে। আমরা গোল করতে পারিনি, ওরা করেছে। আমরা যদি গোল করে দিতে পারতাম তাহলে ম্যাচের ফল ঠিক উল্টো হতে পারত। আমরা ১-০ গোলে জিততে পারতাম। কিন্তু দিনটা আমাদের ছিল না। তার মানে এই নয় যে আমরা খারাপ খেলেছি।’’
এদিন দুই দলই কমবেশি সুযোগ তৈরি করেছে। নিশ্চিত গোলের সুযোগও নষ্ট করেছে। শেষ বেলায় আনায়েভ এনভার গোলেই শেষ হয়ে গিয়েছিল ম্যাচে। দলের গোলকিপার ও ম্যাচের সেরা বিশাল কাইথ অবশ্য বলছেন, ‘‘সমানে সামনে খেলা হয়েছে। দুই দলের খেলায় বিশেষ কিছু পার্থক্য ছিল না। ওরা একটা গোল করে দিয়েছিল। এটাই ম্যাচের ফল করে দিল।’’ দলের ডিফেন্ডারদের নিয়েও সদর্থক বিশাল। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ডিফেন্ডাররা যথেষ্ট ভালো খেলেছে। আমরা অনেকদিন বিরতির পর খেলতে নেমেছি। সেটা একটা কারণ। তবে আমরা তৈরি হচ্ছি প্রতিদিন।’’
মোলিনা অবশ্য দলের খেলায় খুশি। বলছিলেন, ‘‘আমি দলের খেলায় খুশি। আমি প্লেয়ারদের লড়াইয়ে গর্বিত। এই হারে আমি হতাশ নই।’’ আর হতাশায় ডুবে যাওয়া দলের জন্য কোচের এই তিনটি লাইনই যথেষ্ট। তিনি জানেন কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে, তিনি জানেন ইরান তাদের থেকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ যা তিনি বদলাতে পারবেন না। তবে নিজের দল নিয়ে প্রতিদিন কাজ করে যেতে চান। বলছিলেন, ‘‘আমার তো মনে হয় প্রতিদিন, সব বিভাগে উন্নতি করে যেতে হবে। আমি একজন প্লেয়ার হিসেবে সেটাই মনে করি, সেটাই করি। সেটা রক্ষণ হতে পারে, সেটা মাঝমাঠ হতে পারে, সেটা ফিটনেস হতে পারে।’’
তবে দলে ফিটনেসের অভাব এটা সরাসরি মেনে না নিলেও, এটা বুঝিয়ে দিলেন দল এখনও পুরো তৈরি নয়। কারণ হাতে সময় খুবই কম। তবে টিম ফর্মেশন নিয়ে মোলিনা সুলভ ঔদ্ধত্য বেরিয়ে এল। এএফসি-তে ছয় বিদেশি খেলানোর অনুমতি রয়েছে। সেখানে তাঁর হাতে ছয় বিদেশি থাকলেও কেন তিনি তিন বিদেশিতে শুরু করলেন, বা কেন তিনি এক ফরোয়ার্ডে পুরো প্রথমার্ধ খেলে গেলেন, কেন পরে ছয় বিদেশিকেই ব্যবহার করলেন না— সেই সব প্রশ্ন এক কথায় জবাব দিলেন, ‘‘আমি জানি, আমার দল নিয়ে কী করব।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
