Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের। কথাটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এটাই সত্যি। ভারতীয় সিনিয়র মহিলা ফুটবল দলকে এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে তুলেছিলেন দেশীয় কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী। প্রথমবার এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপের আসরে পৌঁছেছিলেন সঙ্গীতা, মনীষারা কোয়ালিফায়ার পর্বে ভাল খেলে যোগ্যতার্জন করে। অথচ এশিয়ান কাপের ঠিক আগে হঠাৎ ফেডারেশনের কর্তাদের কেন যে মনে হল, সিনিয়র মহিলা দলের জন্য বিদেশি কোচ দরকার, সেটাই দুর্বোধ্য। ক্রিসপিনকে সরিয়ে আমেলিয়া ভালভার্দেকে তাঁর জায়গায় কোচ করে কী ম্যাজিকের আশা করেছিলেন ফেডারেশন কর্তারা, সেটা তাঁরাই ভাল বলতে পারবেন। আমেলিয়াকে কোচ করে বাস্তবে যেটা ঘটল, সেটা হল ভরাডুবি।

এশিয়ান কাপের গ্রুপ লিগের তিন ম্যাচে জাপানের কাছে ১১ গোল সহ মোট ১৬ গোল হজম করে টুর্নামেন্ট থেকে হতাশাজনক বিদায় ভারতীয় সিনিয়র মহিলা ফুটবল দলকে মালসিকভাবে বড় ধাক্কা দিয়েছেন। সঙ্গীতা, মনীষা, গ্রেসরা ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও সরাসরি ২০২৮ এলএ অলিম্পিক্সে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা মাঠেই মারা গেছে। এখন ফেডারেশনের বোধোদয় হয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর ৬ সপ্তাহ বাকি থাকতে বিদেশি কোচ আমেলিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হয়নি। এই বোধোদয়টা যদি এশিয়ান কাপে খেলার আগে হত, তাহলে ক্রিসপিন ছেত্রীর কোচিংয়ে এত খারাপ ফল হত বলে মনে হয় না।

ভারতীয় সিনিয়র পুরুষ ফুটবল দলের ক্ষেত্রে বিশ্বকাপার কোচ ইগর স্টিমাচকে সরিয়ে ভারতীয় কোচ নিয়োগ করে একটা বড় ভুল করেছিল ফেডারেশন। বিশ্বকাপ যোগ্যতানির্ণায়ক পর্বে ফেডারেশন কর্তাদের ইগোর লড়াইয়ের শিকার হয়ে স্টিমাচকে বারবার সমস্যার মাঝে পড়তে হয়েছিল। তার প্রভাব পড়েছিল ফুটবলারদের পারফরমেন্সে। ভারতীয় দলের সাফল্য নয়, তখন ফেডারেশন কর্তাদের কাছে একটাই অ্যাজেন্ডা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যেন তেন প্রকারেণ স্টিমাচকে তাড়ানো। আর তা করতে গিয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ফেডারেশন। তার থেকে বেশি ক্ষতি হয় ভারতীয় দলের।

স্টিমাচ কোচ থাকলে এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে সুনীলদের ফল এতটা খারাপ হত না, যা হল তাঁকে তাড়িয়ে। দু’‌নৌকায়(‌এফসি গোয়া ও জাতীয় দলে)‌ পা দিয়ে চলা মানোলো মারকোয়েজকে কোচ করে প্রথম ভুল করেছিল ফেডারেশন। প্রথম ২ ম্যাচে বাজে ফল করার পর মানোলো যখন বুঝলেন, তাঁর দ্বারা ভারতীয় দলকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে তোলা সম্ভব নয়, তখন তিনি কেটে পড়লেন নানা ছুতো দেখিয়ে। এফসি গোয়ার নিশ্চিন্ত কোচিং তো তাঁর ছিলই। সেখানেই মন দিলেন ভারতীয় দলকে অনাথ করে। ফেডারেশন বুঝল, বিদেশি কোচ করে আর লাভ নেই। তাছাড়া তখন তাঁদের তহবিল ভাঁড়ে মা ভবানী। তাই জামশেদপুর এফসির দায়িত্বে থাকা খালিদ জামিলকে তড়িঘড়ি কোচ করে দিলেন। এতে যে ভাল কিছু হওয়ার নয় জেনেও। ভাল কিছু তো হলই না, বরং সুনীল, সন্দেশরা ৫ ম্যাচের একটাও জিততে না পেরে, ৩টি হেরে, ২টিতে ড্র করে, এশিয়ান কাপে মূল পর্বে ওঠার দৌড় থেকে ছিটকে গেলেন।

নিজেদের ইগোর স্বার্থ চরিতার্থ করতে ফেডারেশন যে ‘‌অণ্যায়’‌ করেছিল ইগর স্টিমাচকে বরখাস্ত করে, ঠিক সেই ভুলটাই করে বসে এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপে ঠিক আগে ক্রিসপিন ছেত্রীর জায়গায় আমেলিয়া ভালভার্দেকে কোচ করে। আমেলিয়া ভালভার্দেকে স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে ভারতীয় মহিলা দলের কোচ করেছিল ফেডারেশন। এশিয়ান কাপে ভাল ফল করলে, তাঁর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতো ফেডারেশন। কিন্তু ৩ ম্যাচে মাত্র ২ গোল করা ছাড়া ভাল কিছু ঘটেনি ভারতীয় দলের খেলায়। বরং ১৬ গোল হজম করার লজ্জা নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছে। তাতেই কোস্টা রিকা মহিলা ফুটবল দলকে দু’‌টি বিশ্বকাপে কোচিং করানো আমেলিয়া ভালভার্দে সম্পর্কে মোহভঙ্গ হয়েছে ফেডারেশনের। তাঁর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কথা আর ভাবছে না ফেডারেশনের টেকলিকাল কমিটি।

আইএম বিজয়নের চেয়ারম্যানশিপে ফেডারেশনের টেকনিকাল কমিটি আলোচনায় বসেছিল ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের পারফরমেন্সের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে। এই বৈঠকে বিজয়ন ছাড়াও হাজির ছিলেন টেকনিকাল কমিটির সদস্য সাবির আলি, হরজিন্দার সিং, ভিক্টর অমলরাজ, ক্লাইম্যাক্স লরেন্স, সন্তোষ সিং। এক ঘন্টা আলোচনায় পর সকলেই একমত হন, আমেলিয়ার সঙ্গে চুক্তি বাড়ানোর কোনও প্রয়োজন আর নেই। বরং সেটা করলে শুধু অর্থের অপচয় হবে। বরং ভারতীয় কোন কোচকেই সিনিয়র মহিলা দলের দায়িত্ব দেওয়া হোক। যিনি নতুন করে দলটা গড়ে তুলবেন।

মূলত দুটি নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে বেশি করে। একজন ক্রিসপিন ছেত্রী, অন্যজন অ্যান্টনি ফার্নান্ডেজ। জোরালোভাবেই অ্যান্টনির নাম উঠে এসেছে পরবর্তী কোচ হিসেবে। তার কারণ এএফসি ‘‌এ’‌ লাইসেন্সধারী অ্যান্টনি কোচ হিসেবে আইডব্লিউএলে গোকুলাম কেরালাকে পরপর দু’‌বার চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গল কোচের ভূমিকায় আইডব্লিউএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। সিনিয়র মহিলা দলেটর কোচের পদ থেকে টমাস ডেনারবি সরে দাঁড়ানোর পর অ্যান্টনির নামই নতুন কোচ হিসেবে সামনে এসেছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাঁর দায়িত্ব পাওয়া হয়নি। এখন আমেলিয়া ভালভার্দের জায়গায় অ্যান্টনিকে কোচ করার জন্য টেকনিকাল কমিটির একাংশ আগ্রহী। এনিয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেশনের টেকনিকাল কমিটি।

মে মাসে এশিয়ান কাপে অংশ নেবে অনূর্ধ্ব ১৭ ভারতীয় মহিলা দল। এই দলের দায়িত্বে রয়েছেন ইতালির আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার কন্তি। আমেলিয়া ভালভার্দের হাতে ভারতীয় সিনিয়র ফুটবল দলের ভরাডুবির পর কন্তি যে প্রচন্ড চাপ থাকবেন এশিয়ান কাপের আসরে, সেটা বলাই বাহুল্য।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *