Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: এবার যে ডুরান্ড কাপের পুরস্কারে মূল্য অনেকটাই বাড়ছে তা আগেই জানিয়েছিল আয়োজকরা। সেই মতো ডুরান্ড কাপ ২০২৫ ফাইনাল শেষে মঞ্চে দেখা গেল তারই প্রদর্শনী। ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সাইড লাইনে সাজানো ছিল তিনটি গাড়ি। বোঝাই যাচ্ছিল সেগুলো পুরস্কারের জন্যই আনা হয়েছে। আর জোড়া গাড়ি জিতে নিলেন আলাদিন আজারে। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের প্রাণভোমরা এই আলাদানি। তিনি যেন এই দলের আশ্চর্য প্রদীপ হয়েই এসেছেন। তিনি আসার পর থেকেই দলটা অন্য খাতে বইছে। না হলে পর পর দু’বার ডুরান্ড কাপ জিতে নেওয়া সহজ কাজ নয়। এবং দু’বারই কলকাতার মাটিতে কলকাতার দলের বিরুদ্ধে। এবার তো রীতিমতো প্রতিপক্ষ ডায়মন্ড হারবারকে নাস্তানাবুদ করে হারিয়েই ট্রফি জয় জন আব্রাহামের দলের। আর তার কারিগর সেই আলাদিন আজারে।

এই কলকাতা শহরে তাঁকে ঘিরেও উচ্ছ্বাসে মাতল সমর্থকরা। সবার শেষে ড্রেসিংরুম ছাড়লেন। সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে গেলেন ফটোশিকারীদের ভিড়ে। সবার সঙ্গে হাসি মুখেই সেলফিও তুললেন। আর যেতে যেতে বলে গেলেন, ‘‘এই মাঠ আমাদের জন্য লাকি।’’

টুর্নামেন্ট শেষে তাঁর হাতে উঠেছে জোড়া পুরস্কার। চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি তো ছিলই। সঙ্গে গোল্ডেন বুট আর গোল্ডেন বল পুরস্কারও নিয়ে গেলেন তিনি। গত মরসুমেই আইএসএল-এর সর্বোচ্চ স্কোরার হয়েছিলে‌ন। মরসুম শুরুর ডুরান্ডেও তা ধরে রাখলেন। তবে নর্থইস্ট ইউনাইটেড ছাড়া অন্য কোনও ক্লাব নিয়ে এখনই কথা বলতে চান না। সাধারণত দেখা যায় অন্য দলের ভালো খেলা ফুটবলারকে পরের বছর কোনও না কোনো কলকাতার ক্লাব নিয়ে আসে। তার পর যা হওয়ার তাই হয়। তবে আলাদিন তাঁর আশ্চর্য প্রদীপ নিয়ে এই শহরের ক্লাবে আসবেন কিনা সেটা তিনি নিজেই এখনও জানেন না।

বলছিলেন, ‘‘ভবিষ্যতে কী হবে আমি জানি না। এখন আমি একটা ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। আমি সেটাকে সম্মান করি, আমি নিজেকে সম্মান করি। তাই ভবিষ্যৎ জানি না।’’ তবে তাঁর বার বার এই অসাধারণ পারফর্মেন্সের জন্য তিনি তাঁর ‘গড’কেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন। তবে এবারের পুরস্কার কাকে উৎসর্গ করবেন জানতে চাওয়ায় সপ্রতিভ ভাবেই উত্তর দিলেন, ‘‘আর কে, আমার মেয়ে সোফিয়াকে।’’

আলাদিনকে যতটা উচ্ছ্বসিত তাঁর নিজের কোচ জুয়ান পেড্রো ঠিক ততটাই প্রতিপক্ষ কোচ কিবু ভিকুনা। হেরে হতাশা থাকলেও আলাদিন সম্পর্কে ভুয়সি প্রশংসাই শোনা গেল তাঁর গলায়। বলছিলেন, ‘‘আলাদিন একজন অসাধারণ প্লেয়ার। ভারতে খেলা বিদেশিদের মধ্যে সেরা।’’ আর তাঁর নিজের কোচ পেদ্রো? ‘‘আমার বলার কথা নয় আলাদিন ভারতে খেলা সেরা বিদেশি কিনা, সেটা আইএসএল বলছে, সেটা ডুরান্ড বলছে।’’

আর আলাদিন, যার মধ্যে নেই কোনও অহঙ্কার, নেই কোনও ঔদ্ধত্য। সব সময় এক একগাল হাসি নিয়েই সবার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর কাছে যখন এই শহর, এই শহরের মাঠ লাকি, তখন কখনও তাঁকে দেখা যেতেই পারে কলকাতার দলে। সেই দিনের অপেক্ষায় থাকবে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *