Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার পর থেকে সঙ্গীতা, মনীষা কল্যানদের মধ্যে একটা বাড়তি জোস ছিল ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ২০২৮ লস এঞ্জেলস অলিম্পিক্সে খেলার স্বপ্নপূরণে। কিন্তু তাঁদের সেই লক্ষ্যপূরণের জন্য যা যা করার দরকার ছিল, তা কি ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা আদৌ করেছিলেন?‌ করলে এমন হতাশাজনক ফল করে মন খারাপ করে ভারতে ফিরে আসতে হত না সিনিয়র দলের মহিলা ফুটবলারদের।

ভারতের গ্রুপে ছিল জাপান, ভিয়েতনাম, চাইনিজ তাইপে। এর মধ্যে জাপান ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক ওপরের দিকে থাকায়, তাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতাটা একটা অসাধ্যসাধন ছিল। তাই বলে ১১ গোল হজম করাটাও মোটেই কোনও কাজের কথা নয়। পরিকল্পনার সঠিক অভাবেই এত গোল খেতে হয়েছে গ্রেস, সুইটি, সিল্কিদের। কিন্তু অপর দুই প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম ও চাইনিজ তাইপে শক্তিশালী হলেও, তাদের হারানোটা অসম্ভব ছিল না। তাও সেটা সম্ভব হয়নি। বরং ভিয়েতনামের কাছে শেষমুহূর্তের গোলে ১-‌২ গোলে আর চাইনিজ তাইপের বিরুদ্ধে তেড়েফুঁড়ে খেলতে গিয়ে ১-‌৩ গোলে হেরে এশিয়ান কাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মনীষা, সঙ্গীতাদের।

এশিয়ান কাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সব কোচ যেমন বলে থাকেন, ভারতীয় দলের কোস্টা রিকান কোচ আমেলিয়া ভালভার্দের মুখেও একই বুলি শোনা গেছে। তাঁর সাফাই, ‘‌ ভারতের মেয়েরা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাধ্যমত লড়েছে। গোলের সুযোগ যে ভিয়েতনাম ও চাইনিজ তাইপে ম্যাচে আমাদের ফুটবলাররা পায়নি এমন নয়, সেটা কাজে লাগাতে পারলে ছবিটা অন্যরকম হত। জাপান ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের ধাক্কা সামলে চাইনিজ তাইপে ম্যাচে ছন্দে ফিরেছিল দল। প্রথম ১৫ মিনিট দাপট দেখিয়েছিল। কিন্তু নিজেদের ভুলের সুযোগে চাইনিজ তাইপে গোল করে এগিয়ে যায়। এতে লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। খোলামেলা আক্রমণে উঠতেই হয়েছিল গোল পেতে। গোল এসেওছিল। পরে আবার ছন্দপতন। তাতেই হার। ভারতীয় ফুটবলারদের কাছে এই মঞ্চটা অনেক বড়। ওরা অনেক কিছু শিখল। ভবিষ্যতে যা ওদের এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’‌

এমন কথা সবাই বলে। কিন্তু বড় প্রশ্ন একটাই এশিয়ান কাপ শুরুর ঠিক আগে অর্থাৎ ৬ সপ্তাহ আগে মহিলা দলের পদ থেকে ক্রিসপিন ছেত্রীকে সরিয়ে বিদেশি কোচ আমেলিয়া ভালভার্দে ও তাঁর সাপোর্টিং স্টাফদের দায়িত্ব দিয়ে কোন অসাধ্যসাধন করতে চেয়েছিলেন ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা, সেটাই দুর্বোধ্য?‌ ভালভার্দে এসে ম্যাজিক দেখাবেন, এটা কি তাঁদের মনে হয়েছিল?‌ বরং যাঁরা এতদিন ভারতীয় মহিলা ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে দলটাকে তুলেছিলেন, তাঁদের হাতে থাকলে, এতটা খারাপ ফল হত, এটা জোর দিয়ে বলা যায়।

ফেডারেশনের তরফে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছিল। ভারতীয় মহিলা দল নাকি ৮৩ দিনের শিবির করবে তিন দফায়। একইসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে প্রস্তুতি হিসেবে। কিন্তু কোথায় কী?‌ ইরান ও নেপাল ছাড়া কোনও উন্নত মানের দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাননি সঙ্গীতারা। তখন ভিয়েতনাম ও চাইনিজ তাইপে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, উজবেকিস্তান, মায়ানমার, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দলগুলোর সঙ্গে খেলে এশিয়ান কাপের জন্য প্রস্তুতি সেরেছে। সেখানে চীনে বা নর্থ ম্যাসিডোনিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের মেয়েদের খেলার কথা থাকলেও, তাদের শেষপর্যন্ত পাঠানোই হয়নি ওই ম্যাচ খেলতে। কেন যে তাদের তুরস্কের ক্লাব দলের সঙ্গে খেলতে পাঠানো হল, তার উত্তর দিতে পারবে ফেডারেশন। এরপর এমন এমন নিম্মমানের দলের বিরুদ্ধে খেলতে বাধ্য করা হল, যাতে নিজেদের যাচাই করার সুযোগই পেলেন না সঙ্গীতারা। ফলে যা হওয়ার তাই হল। ভরাডুবি।

আবার গোড়া থেকে লড়াই শুরু করতে হবে ভারতীয় মহিলা দলকে। তবে ফেডারেশনের মাথায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের সদিচ্ছা না হলে, মনোভাবে বদল না আসলে, বারবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়েই আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে শূণ্য হাতে ফিরতে হবে সঙ্গীতা, মনীষাদের।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *