Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: প্রথম বছরের বেঙ্গল সুপার লিগ ফাইনালের মঞ্চে জুনিয়রের স্মৃতি প্রায় ফিরেই এসেছিল। তবে স্বস্তি, শেষ পর্যন্ত বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন হাওড়া-হুগলির দীপ গায়েন। গোল করেই গোলকিপারের সঙ্গে ধাক্কায় জ্ঞান হারান দীপ। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ম্যাচ বন্ধ থাকে প্রায় ১৫ মিনিট। রবিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স ও মালদহ-মুর্শিদাবাদ রয়্যাল সিটি এফসি। একদিকে যখন হোসে ব্যারেটো তখন উল্টোদিকে শাহিদ রামন। দু’জনেই ময়দানের প্রাক্তন। তবে ময়দানে সাফল্যের নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে হাওড়া-হুগলির কোচ সবুজ তোতা। যাঁর কোচিংয়ে দাপটের সঙ্গেই শুরু করেছিল হাওড়া-হুগলি। এগিয়েও গিয়েছিল প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষেই গোল হজম করে ১-১‌ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দীপের গোলে আবারও এগিয়ে যায় ব্যারেটোর দল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে মালদহ-মুর্শিদাবাদকে দুরন্ত গোলে সমতায় ফেরান মহম্মদ সুমিত। শেষবেলায় জমে যায় খেলা। তবে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তের গোলে চ্যাম্পিয়ন ব্যারেটোর হাওড়া-হুগলি।

এদিন শুরু থেকেই দুই দল ঘর সামলে আক্রমণে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নিজেদের ভুলেই বেশ কিছু সহজ সুযোগও নষ্ট করলেন দুই দলের ফুটবলাররা। গোলকিপারকে একা পেয়েও বাইরে মারলেন মালদহ-মুর্শিদাবাদের অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলার ইরফান সর্দার। তার পরও প্রথমার্ধ শেষ হল সমানে সমানে। বিকেল চারটে থেকে খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হল ১৭ মিনিট দেরিতে। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সেলা ট্যুরের গোলে এগিয়ে যায় হাওড়া-হুগলি। প্রথমার্ধের শেষে মালদহ-মুর্শিদাবাদকে সমতায় ফেরান সুখচাঁদ কিস্কু। ১-১ গোল নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামে দুই দল। তাও শেষ হয় ২-২ গোলে। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

বেঙ্গল সুপার লিগের ফাইনাল ঘিরে এদিন কল্যাণী ছিল সরগরম। দুই দলের সমর্থকরাই হাজির হয়েছিল অনেক পরিমাণে। অনীক ধরের গান থেকে হাফ টাইমে অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়ের আগমন, সব উপাদানই ছিল এদিনের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে। তার মধ্যেই একাধিকবার ঝামেলায় জড়ালেন দুই দলের ফুটবলাররা। তবে রেফারির তৎপড়তায় তা বেশি দূর গড়ায়নি। উত্তেজনা এতটাই ছিল যে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার আগেই লাল কার্ড দেখেন মালদহ-মুর্শিদাবাদের একজন সাপোর্ট স্টাফ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চাঞ্চল্য‌ ছড়ায় মাঠ জুড়ে। আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। গোল করেই লুটিয়ে পড়েন হাওড়া-হুগলির অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলার দীপ গায়েন। সাময়িকভাবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তিনি গোলে শট নেওয়ার সময় তা বাঁচাতে জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার সৌরভ সামন্ত। তাঁর সঙ্গে সংঘর্ষে মাঠে পড়ে যান দীপ। জ্ঞান হারান।‌ নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোতে থাকে। তাঁর সতীর্থদের উৎকণ্ঠার ছবি বলে দিচ্ছিল চোট গুরুতর। একটুও সময় নষ্ট না করে দ্রুত দীপকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘক্ষণ অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন, যা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁর সতীর্থরা। শেষ পর্যন্ত জানা গিয়েছে হাসপাতালের পথেই জ্ঞান ফিরেছে তাঁর। চিকিৎসার পর দলের জয়ের উৎসবে যোগও দেন তিনি।

দীপকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর একরাশ উৎকণ্ঠার মধ্যেই শুরু হয় খেলা। প্রথমার্ধের প্রায় শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধান ধরে রেখেও অতিরিক্ত সময়ে আবার গোল হজম করে বসে ব্যারেটোর দল। মালদহ-মুর্শিদাবাদকে অসাধারণ গোলে সমতায় ফেরান সুমিত। ১৮ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে, দুই দলের লক্ষ্যই ছিল নির্ধারিত সময়ে খেলা শেষ করা। কিন্তু তেমনটা হল‌ না। ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ১২০ মিনিট জ্বল জ্বল করছে। শেষ বাঁশির অপেক্ষা। ধরেই নেওয়া হয়েছে ম্যাচ গড়াবে টাইব্রেকারে। কিন্তু সব জল্পনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরাসরি কর্নার থেকে বল জালে জড়িয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করলেন পরিবর্ত হিসেবে নামা কৌস্তভ দত্ত। কোচ হিসেবে নিজের নামে প্রথম ট্রফি লিখে নিলেন ব্যারেটো। সঙ্গে সংগ্ৰাম মুখোপাধ্যায়, সুমন দত্তের মতো ময়দানের প্রাক্তনরাও।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *