Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
কলকাতা ডার্বি

সুচরিতা সেন চৌধুরী: এক কথায় বলাই যায় অপ্রত্যাশিত জয়। ইস্টবেঙ্গল যে মোহনবাগানকে হারিয়ে দিতে পারে, সেটা হয়তো ভুলেও কেউ ভাবেননি। কিন্তু সব হিসেবনিকেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কলকাতা ডার্বি-তে বাজিমাত করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। ৬০ মিনিটে নন্দকুমার সেকরের অসাধারণ একটা সোলো রানের শেষে গোলটাই সব বদলে দিল। মোহনবাগানের সব আশায় জল ঢেলে দিলেন তিনি। চার বছর পর ডার্বিতে জয়ের মুখ দেখল ইস্টবেঙ্গল। কার্লেস কুয়াদ্রাত যুগ কি তা হলে বদলে দেবে এই ইস্টবেঙ্গলকে? মরসুম যত এগোবে, প্রশ্নের উত্তর ততই সামনে আসবে। তবে আপাতত ডুরান্ড কাপ ২০২৩-এ ডার্বির মালিক ইস্টবেঙ্গল।

দুই স্প্যানিশ কোচের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন কুয়াদ্রাত। ম্যাচ জিতে তিনি খুশি। তবে আপ্লুত হতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘‘২০২৩-এ আমার এটা দ্বিতীয় ম্যাচ। সেখানেই আমরা ফল পেয়েছি। আগেই বলেছিলাম, অ্যাটিটিউডে আমি বিশ্বাসী নই। মাঠে নেমে খেলাটাই আসল। আমাদের খুশি হওয়ার মতোই দিন আজ। আমাদের প্রতিযোগিতা করার মতো ট্যালেন্ট রয়েছে। তবে এটা সবে শুরু। প্রতি দিন অনুশীলনের সঙ্গে তা আরও উন্নত হবে। আমাদের গর্বিত হওয়ার দিন অবশ্যই। তবে দল নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এখনও অনেক হিরো উঠে আসা বাকি রয়েছে।’’

এর মাঝেই মোহনবাগানের বিরুদ্ধে কঠিন অভিযোগও এনেছেন কুয়াদ্রাত। তিনি বলেন, ‘‘ডুরান্ডে ৩০ জন প্লেয়ারের নাম নথিভুক্ত করার কথা। মোহনবাগান কী করে ৩৩ জনকে করাল? আমার মনে হয় মোহনবাগান সব প্লেয়ারকে দেখে নিতে চাইছে এএফসি কাপের আগে। ওদের জন্য শুভেচ্ছা রইল।’’

মোহনবাগানের প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর মুখে। তিনি বলেন, ‘‘ওরা দলে নতুন প্লেয়ারদের এনেছে বেশ কিছু ভারতীয় ও বিদেশিকে ঢুকিয়েছে। যাঁদের অনেকেই পুরো ফিট নয়। সাদিকু, কামিন্সকে ভাল মতো ব্যবহার করা যায়নি। তাদের চেষ্টাকে সম্মান দিতে হবে যখন ওরা পুরো ফিট না হয়েও খেলেছে। ভারতীয় ফুটবলে ধারাবাহিকতাটাই আসল। ওরা ভাল খেলেছে। আমাদের হলুদ কার্ড হয়েছে। ওদের একটাও হয়নি। ওদের ডুরান্ডে এটি তৃতীয় ম্যাচ।’’

কুয়াদ্রাত আরও একটি বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যে ভাবে ম্যাচ শেষে সমর্থকেরা গ্যালারি টপকে মাঠে ঢুকে পড়লেন, সেটা কোনও ভাবেই তিনি মেনে নিতে পারেননি। তবে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, ভালবাসা দেখে আপ্লুত তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ম্যাচের পরে যে ভাবে সমর্থকেরা মাঠে ঢুকে পড়েছিল, সেটা ঠিক নয়। চোট, আঘাত লেগে যেতে পারত প্লেয়ারদের।’’

নন্দকুমারও আপ্লুত সমর্থকদের ভালবাসায়। এত দিন ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলেছেন। গোলও করেছেন। কিন্তু লাল-হলুদ জার্সিতে গোল পাওয়াটা অসাধারণ অনুভূতি তাঁর কাছে। তিনি বলেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গলের হয়ে শুরুতেই গোল করতে পেরে দারুণ ভাল লাগছে। ভাবিইনি গোল করব। ও রকম শটও অনুশীলন করিনি। এত দিন উল্টো দিকে খেলেছি। শুরুতেই ইস্টবেঙ্গলের জার্সি পরে খেলতে নেমে গোল করাটা অনেকটা বড় বিষয়। পাশাপাশি সমর্থকেরা যে ভাবে তাঁদের ভালবাসা দিল, ম্যাচ শেষে সেটা মনে রাখার মতো।’’

অন্য দিকে, মোহনবাগান কোচ হুয়ান ফেরান্দো হতাশ হলেও হার ভুলে এএফসি কাপের প্রস্তুতিতে নামতে চান তিনি। বললেন, ‘‘কাল সকাল থেকে আমরা এএফসি কাপের প্রস্তুতিতে নেমে পড়ব। এটা খুব ভুল হবে যদি আমরা এই হার নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ি। ফল সত্যিই হতাশাজনক। সমর্থকদের জন্যও খারাপ লাগছে। কিন্তু ভুল-ত্রুটি শুধরে নিতে হবে। অনুশীলনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্রমশ উন্নতি করব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের পর পর ম্যাচ রয়েছে। কলকাতা লিগ, এএফসি কাপ রয়েছে। আমরা কাল থেকে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করব। আমার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, দলে এই মুহূর্তে কোনও চোট, আঘাত নেই। আমার বিশ্বাস, প্লেয়াররা এর পর ক্রমশ ভাল খেলবে। একটা একটা করে গেম ধরে এগোব।’’

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *