Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

আর্জেন্টিনা ২(‌মেসি‌-‌২)‌                        অস্ট্রিয়া ০

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক দিয়ে দুরন্ত শুরু করেছিলেন লিওনেল মেসি ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ। গোটা বিশ্ব মুগ্ধ হয়েছিল মেসি ম্যাজিকে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসির তিন গোলেই আলজিরিয়াকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট ঘরে তুলেছিল। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে একইরকম মেজাজে খেলা শুরু করে ৩৮ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দেন মেসি, একইসঙ্গে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল(‌১৭)‌ করার ব্যক্তিগত রেকর্ডটাও পকেটে পুরে ফেলেন মিরোস্লাভ ক্লোজেকে(‌১৬ গোল)‌ টপকে। এক গোলেই থেমে থাকেননি মেসি। ৯৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি সুযোগসন্ধানীর পরিচয় দিয়ে। বিশ্বকাপে নিজের গোল সংখ্যা নিয়ে গেলেন ১৮য়। মেসির করা গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-‌০ ফলে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় প্রাপ্তির সুবাদে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড অফ ৩২য়ে যাওয়া নিশ্চিত করে ফেলল গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

এ যেন ধন্যি মেয়ের সিনেমার পুনরাবৃত্তি। অভিনেতা উত্তমকুমার তাঁর ফুটবলার ভাইকে বলেছিলেন, বগলা হাড়ভাঙ্গা দলের বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করিস না। বাইরে মার। ফিল্ড গোল করে ম্যাচ জিততে হবে। বগলা বল বাইরে মেরেছিল। মেসির পেনাল্টি শট যেভাবে বাইরে মারলেন, তাতে বগলাকেই মনে পড়ালেন। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আলজিরিয়া ম্যাচে খেলা প্রথম একাদশের থেকে একটাই মাত্র বদল আনেন অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে। স্কালোনি তাঁর পছন্দের ৪-‌৪-‌২ ছকে অস্ট্রিয়াকে শুরু থেকেই কোনঠাসা করে ফেলেন। তা থেকেই প্রথম গোলের সুযোগ এসেছিল। ৪ মিনিটের মাথায় মেসির থ্রু ধরে লওতারো মার্টিনেজ বল নিয়ে বক্সের ঢুকে শট নেওয়ার মুহূর্তে দু’‌দিক থেকে ছুটে এসে তাঁকে ট্যাকল করে মাটিতে ফেলে দেন। অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার বল বিপন্মুক্ত করলেও বক্সে পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন লওতারো। আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা সেব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে রেফারি আমিন মহম্মদ ওমর খেলা থামিয়ে দেন।

আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের আবেদনে সাড়া দিয়ে সম্ভাব্য পেনাল্টির জন্য চতুর্থ রেফারির সংকেতের অপেক্ষা করেন। সেই সংকেত আসতে ভার চেকের জন্য মাঠের ধারে রাখা টিভিতে রিপ্লে দেখতে ছুটে যান রেফারি। রিপ্লে দেখে চটজলদি পেনাল্টির নির্দেশ দেন আর্জেন্টিনার পক্ষে। ডালাসের মাঠে গ্যালারিতে হাজির আর্জেন্টিনার সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন তাতে। কারণ তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেবেন তাঁদের হৃদয়ের মনিকোঠায় থাকা মেসি। আর ওই গোলের সুবাদে মিরোস্লাভ ক্লোজের ১৬ গোল টপকে ১৭ গোল করে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড গড়ে ফেলবেন মেসি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে মেসি পেনাল্টি বাইরে মারেন। অথচ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই পেনাল্টি স্পটে বল বসিয়েছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র। কোনও চাপ নজরে আসেনি শট নেওয়ার সময়। তাও তাঁর হাল্কা চালে নেওয়া বাঁপায়ের পেনাল্টি শট অস্ট্রিয়া গোলকিপারের বাড়ানো হাতের নাগাল এড়িয়ে ডানদিকের পোস্ট ঘেঁয়ে বাইরে চলে যায়।

তারপরও আর্জেন্টিনার আক্রমণের চাপ বজায় ছিল। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা মুহুর্মূহ আক্রমণ তুলে আনে। ১৮ মিনিটে এমনই একটা আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ এসেছিল মেসির সামনে। তাঁর প্রচেষ্টা সেসময় রুখে দেন অস্ট্রিয়ার গোলকিপার আলাবা। কিন্তু গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মেসিকে। ৩৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিশ্বকাপে ১৭ নম্বর গোলটা পেয়েই গেলেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সে পড়ার ঠিক ২ দিন বাকি থাকতে। আসন্ন জন্মদিন পালনের জন্য এর থেকে ভাল উপহার আর কী হতে পারে ফুটবল ঈশ্বর মেসির জন্য।

ফাইনাল থার্ডে হুগো আলমাডা বল ধরে বাঁদিকে মেডিনাকে বাড়িয়ে দেন। মেডিনা সেই বল ধরে অস্ট্রিয়া বক্সের ধারে পোঁছে গড়ানো মাইনাস রাখেন গোললাইন থেকে ১৬ গজ দূরে ওত পেতে থাকা মেসিকে। এবার আর মেসি কোনও ভুল করেননি। ঠান্ডা মাথায় বাঁপায়ের নিখুঁত নীচু শট অস্ট্রিয়ার গোলের ভেতর পাঠিয়ে দেন পোস্টের কোন দিয়ে গোলকিপার আলাবাকে হার মানিয়ে। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোজের রেকর্ড ভেঙে দেওয়া গোলের পর মেসি নিজের উচ্ছ্বাস লুকোননি। সতীর্থদের অভিনন্দনে আলিঙ্গন শেষে দু’‌হাত ঝাঁকিয়ে গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের যেন বোঝান, দেখ আমি পেরেছি। তোমাদের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য নিয়ে মসীহার ভূমিকায় আমি শেষপর্যন্ত লড়ে যাব।

মেসি যখন ছন্দে, তখন আর্জেন্টিনাকে রোখে কে?‌ ৯৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোল মেসির। প্রতিআক্রমণ থেকে বল পেয়ে মেসি অস্ট্রিয়া অর্ধে পৌঁছে আলভারেজকে পাস বাড়িয়েছিলেন। আলভারেজের শট গোলকিপারের গায়ে লেগে ফেরে মেসির পায়ে। মেসির প্রথম শট অস্ট্রিয়া ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে ছিটকে এসেছিল। মেসি সেই বল দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গোলের ভেতর পাঠাতে কোনও ভুল করেননি। বিশ্বকাপে ১৮ নম্বর গোল করে রেকর্ডটা আরও উন্নত করলেন।

বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল করার মেসির রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ এখন আছে এমবাপের। ফ্রান্সের তারকা স্ট্রাইকারের গোল ১৪। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপে বাকি ম্যাচে গোল করে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলতে পারেন। অবশ্য মেসি যদি আরও গোল করেন, তাহলে এমবাপের কাজটা কঠিন হবে। তবে মেসির এটাই শেষ বিশ্বকাপ ধরে নিলে ভুল হবে না। সেখানে এমবাপে যদি চোট বা অন্য কোনও কারণে খেলা ছেড়ে দিতে বাধ্য না হল, তাহলে পরের ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড ছুঁয়ে বা ভেঙে ফেলার সুযোগ থাকবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *