Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
আইএসএল

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ আইএসএল আয়োজন নিয়ে জট কাটার ইঙ্গিত এআইএফএফের কমিটি ও ক্লাব জোটের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছিল ২৪ ডিসেম্বর। সেদিন ফেডারেশনের তরফে ক্লাব জোটের সামনে রাখা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার হয়। তবে ক্লাব জোটের পক্ষে বলা হয়েছিল, তারা যৌথকমিটির দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে বাকি ক্লাবের সঙ্গে কথা বলার পর ২৬ ডিসেম্বর নিজেদের মতামত জানাবেন। অবশ্য সেদিনের আলোচনায় ক্লাব জোটের প্রতিনিধিরা বারবার জোর দিয়েছিলেন শুধুমাত্র কোনওরকমে এবারের আইএসএল আয়োজন উতরে যাওয়া নয়, একটা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান জরুরি আইএসএল চালিয়ে যেতে।

শুক্রবার সেইমতো আবার আলোচনায় বসেছিলেন এআইএফএফ ও ক্লাব জোটের প্রতিনিধিরা। তাতে শর্টটার্ম ও লংটার্ম সমাধানের দুটো মডেল নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়। ক্লাব জোট বেশি খুশি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের মডেল সামনে উঠে আসায়। তারা গোটা বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য ক্লাব প্রতিনিধি ও মালিকের সঙ্গে কথা বলে ২৮ ডিসেম্বর তাদের চুড়ান্ত মত জানাবে। সেটা ইতিবাচকই মনে হয়েছে আলোচনায়। তার ভিত্তিতে ২৯ ডিসেম্বর এআইএফএফের কমিটি আইএসএলের ভবিষ্যত নিয়ে আলোকপাত করতে পারবে। যে মডেলটা গ্রহণযোগ্য হবে, আগের পরিকল্পনামতো কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের হাত ঘুরে সেটা বড়দিনের ছুটির পর আদালত খুললে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে পেশ হবে রিপোর্ট আকারে। আশা করাই যায়, সুপ্রিম কোর্টে তার অনুমোদন মিলবে। তারপরই আইএসএল শুরু নিয়ে জোর কদমে কাজ শুরু করতে পারবে এআইএফএফ ও ক্লাবজোটের যৌথ কমিটি। সব ঠিকঠাক চললে ক্লাবগুলোকে তৈরি হওয়ার যথেষ্ট সময় দিয়ে আইএসএল শুরু করার সম্ভাবনা ফেবরুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।

এই মরশুমের আইএসএল আয়োজনের পাশাপাশি একটি দীর্ঘমেয়াদী মডেল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে যৌথকমিটির দেওয়া প্রস্তাবে। তাতে ২০ বছর(‌মরশুম)‌ ধরে আইএসএল চালানোর ওপরই বেশি করে জোর দেওয়া হয়েছে। যার মেয়াদ হবে ১ জুন থেকে ৩১ মে। এতে প্রাথমিকভাবে আইএসএলে অংশগ্রহণকারী সব ক্লাবকে অংশগ্রহণের ফি বাবদ ১ কোটি চাকা করে দিতে হবে প্রতিবছর। তবে এই টাকাটা ক্লাব ফেরত পেতে পারে, সেন্ট্রাল পুলের রেভিনিউ থেকে লাভের মুখ দেখলে। লিগের সেন্ট্রাল অপারেশনাল বাজেটের ওপর ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণের ফি নির্ধারিত হবে। প্রাথমিক ভাবে সেটা ২০ শতাংশ ধরা হলেও, ক্লাবজোট ও এআইএফএফের যৌথকমিটির বোর্ড ঠিক করবে, অপারেশনাল বাজেটের বৃদ্ধি ধরে ক্লাবেদের অংশগ্রহণের ফি ১০ শতাংশ করে বাড়ার পথ খোলা থাকবে।

আইএসএলের প্রথম বছরের সম্ভাব্য ‘‌সেন্ট্রাল অপরাশনাল বাজেট’‌ ৭০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। ৭০ কোটি বাজেটের ওপর নির্ভর করে ৯৬ কোটি টাকা রেভিনিউ জেনারেশন হলে লভ্যাংশের ভাগটা রেভিনিউ পুল থেকে ১০-‌৫০-‌৩০-‌১০ শতাংশ ভাগে সমানভাবে সব স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ভাগ করার কথা প্রস্তাবিত মডেলে রাখা হয়েছে।

লিগ পরিচালনার স্বত্ত্ব যেহেতু পুরোপুরি এআইএফএফের হাতেই থাকবে, তাই ‘‌রেভিনিউ শেয়ার রাইটস’‌ ঠিক করবে তারাই। রেভিনিউ শেয়ারের ৬০ শতাংশ স্বত্ত্ব এআইএফএফের হাতেই থাকবে। যার মধ্যে ১০ শতাংশ সবসময়ই এআইএফএফের দখলে থাকবে। বাকি ৫০ শতাংশ ‘‌লিগ মেম্বারশিপ কনট্রিবিউশন’‌ হিসেবে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে , তারসঙ্গে অতিরিক্ত ‘‌ফিক্সড শেয়ার অ্যালোকেশন’‌ সহ। ৩০ শতাংশ স্থায়ী রেভিনিউ শেয়ার আসবে সম্ভাব্য ‘‌কমার্শিয়াল পার্টনারের’‌(‌বানিজ্যিক সহযোগী)‌ থেকে। আর এই বানিজ্যিক সহযোগী ঠিক করার অধিকার ক্লাবজোট নিজের কাছেই রাখবে। ভেতরের যা খবর,তাতে বানিজ্যিক সহযোগী হিসেবে ক্লাব জোট ইতিমধ্যেই এফএসডিএলের সঙ্গে কথা সেরে রেখেছে। আর এফএসডিএলও রাজি আবার আইএসএলে বানিজ্যিক সহযোগী হতে, দীর্ঘমেয়াদী মডেল, অর্থাৎ ২০ বছরের জন্য আইএসএল চালানোর প্রতিশ্রুতি সামনে আসায়। এটাই তো তারা চাইছিল। বাকি ১০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে সেই ক্লাবদের জন্য যারা সেন্ট্রাল রেভিনিউ পুলে ‘‌ফিক্সড রেভিনিউ শেয়ার’‌এর ভাগ পেতে অতিরিক্ত ইনভেস্টমেন্টের পথে হাঁটবে।

এখন দেখার শর্টটার্ম ও লংটার্ম মডেলের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের ফেবরুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আইএসএল ঘিরে ভারতের মাঠে বল গড়ায় কিনা?

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *