ইস্টবেঙ্গল ৬( হামিদ, বিপিন, আনোয়ার, রশিদ, সল, ডেভিড) ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স ১(আমন)
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: লাল হলুদ গোলায় বিধ্বস্ত বিমানবাহিনী। গ্রুপের প্রথম ২ ম্যাচ অনায়াসে জিতে নেওয়ায় ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টারফাইনালে চলেই গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তাদের কাছে রবিবার কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচটা ছিল শুধুই নিয়মরক্ষার। বলা ভাল কোয়ার্টারফাইনালে সম্ভাব্য ডার্বি ম্যাচের আগে ভাল প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে নিল লাল হলুদ ব্রিগেড। এয়ার ফোর্সকে ৬-১ গোলে হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক সেরে ফেলল।
গত ম্যাচে নামধারীর বিরুদ্ধে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে জয় এনে দিয়েছিলেন মরক্কোর স্ট্রাইকার হামিদ আহদাদ। সম্ভবত সেকারণেই লাল হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ হামিদকে সামনে রেখে আক্রমণ শানানোর পথে হাঁটেন শুরু থেকে। হামিদ সেই আস্থার মর্যাদা রাখেন ৭ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়ে। মাঝমাঠ থেকে আনোয়ারের থ্রু ডানদিকে এডমুন্ড লালরিনডিকার কাছে এলে, তিনি গোলমুখে ক্রশ ভাসালে, তা এয়ার ফোর্সের গোলকিপার শুভজিত বসুর হাতের নাগাল এড়িয়ে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে অনবদ্য হেডে তা জালের ভেতর পাঠান হামিদ।
১৩ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল পেয়ে যেতেন হামিদ শট নেওয়ার ক্ষেত্রে আর একটু মুন্সিয়ানা দেখালে। মহেশের থ্রু সামনে পেয়ে হামিদ আগুয়ান এয়ার ফোর্স গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে লব করে বল গোল লক্ষ্য আলতো টোকায় বল পাঠান। সেই টোকায় জোর না থাকায় পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে সেই বল গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন এয়ার ফোর্সের শঙ্কিত।
প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণের ঝাঁজটা বজায় রেখেছিল ইস্টবেঙ্গল, এরপর লাগাতার, মিগুয়েল, মহেশ ও বিপিনের মিলিত প্রচেষ্টায়। কোনওরকমে রক্ষণে ভিড় জমিয়ে ব্লক করে, আর গোলকিপার শুভজিত হার না মানা মনোভাব দেখিয়ে ২৪ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় গোল হজম ঠেকিয়ে রেখেছিল এয়ার ফোর্স। ২৫ মিনিটে লাকরা, মহেশের পা ঘুরে আসা বল বিপিনের কাছে এলে, তিনি গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষ বক্সে ঢুকে পড়ে কোনাকুনি গড়ানো শটে গোল করলে ২-০ হয়।
২ গোলে এগিয়ে যাওয়ায় অস্কার ব্রুজোঁর দলের ফুটবলারদের মধ্যে আত্মতুষ্টি আসা অসম্ভব নয়। তার খেসারত দিয়ে ৩৬ মিনিটে অপ্রত্যাশিতভাবে গোল হজম করে লাল হলুদ। ডানপ্রান্ত থেকে এয়ার ফোর্সের জিজো জেরনের তোলা ক্রশে বক্সের মাঝে বিনা বাধায় আমন খান হেড করলে, তা গোলকিপার প্রভুসুখনকে হার মানিয়ে পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে গোলে চলে যায়। বিরতির ঠিক আগে মিগুয়েলের বাঁক খাওয়ানো ফ্রিকিক প্রতিপক্ষ পোস্টের ধার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের চাপ বজায় রাখলেও গোল আসছিল না এয়ার ফোর্স গোলকিপারের দুরন্ত কয়েকটা সেভে। অবশেষে ৬৩ মিনিটে সেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে মিগুয়েলের কর্নারে আনোয়োর হেডে বল গোলের ভেতর পাঠানোয়(৩-১)। ওই গোলের পর দলে তিনটি বদল আনেন কোচ অস্কার। মহেশের জায়গায় সল, আনোয়ারের বদলে ডেভিড, হামিদের পরিবর্তে রশিদ মাঠে আসেন। প্রথম টাচেই দর্শনীয় শটে ৬৮ মিনিটে গোল করেন রশিদ। এয়ার ফোর্স বক্সের জটলা থেকে আলগা বল ছিটকে বেরিয়ে এলে ৩০ গজ দূর থেকে চোখধাঁধানো শটে গোলকিপার শুভজিতকে হার মানান রশিদ(৪-১)। ৮৫ মিনিটে এডমুন্ডের ক্রশ গোলকিপার শুভজিত আংশিক প্রতিহত করলে আলগা বল গোলে পাঠান সল ক্রেসপো(৫-১)। সংযুক্তি সময়ের প্রথম মিনিটে ডেভিডের গোলে গোলফিস্ট সম্পূর্ণ ইস্টবেঙ্গলের(৬-১)।
৬ গোল চাপিয়ে দিলেও লাল হলুদ জনতা ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে টিফোতে অপরেশন সিন্দুরের লড়াইয়ের অবদান স্মরণ করে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সকে কুর্নিশ জানাতে ভোলেননি।
ইস্টবেঙ্গল: প্রভুসুখন, রাকিপ, আনোয়ার(ডেভিড), সিবিলে, প্রভাত, মহেশ(সল), জিকসন, মিগুয়েল(শৌভিক), বিপিন(বিষ্ণু), লালরিনডিকা, হামিদ(রশিদ)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
