Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

‌মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ মহমেডানের বিরুদ্ধে ৭-‌০ গোলের বিশাল জয়। আইএসএলের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের এটা একটা রেকর্ড। এত বড় ব্যবধানে লাল হলুদ কখনও জেতেনি। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের ৪ নম্বর উঠে এসেছে ইস্টবেঙ্গল। এটাই লাল হলুদের চিফ কোচ অস্কার ব্রুজোঁকে বেশি তৃপ্তি জোগাচ্ছে।

ম্যাচ শেষে প্রচারমাধ্যমকে অস্কার বলেন, ‘‌ গত ম্যাচের পর দলকে ঘিরে অনেক কথা হয়েছে। ফুটবলারদের একটা চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। সেটা সামলে মহমেডান ম্যাচের নিজেদের আসল চরিত্রটা তুলে ধরে যেভাবে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়। কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে পয়েন্ট নষ্ট আমাদের কিছুটা হলেও পিছিয়ে দিয়েছিল। ওই ম্যাচে মনঃসংযোগের অভাবে গোল হজম করতে হয়েছিল। কিন্তু মহমেডান ম্যাচে ফুটবলাররা প্রথম থেকে নিজেদের ফোকাস ঠিক রেখেছিল। গোলের সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে। এই জয়ের ফলে ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ইন্টারন্যাশানাল ব্রেকের আগে এই ৩ পয়েন্ট পাওয়াটা খুব জরুরি ছিল। এখন যা পরিস্থিতি তাতে পরের ম্যাচ জিতলে লিগ টেবিলে আরও ওপরের দিকে ওঠা সম্ভব হবে।’‌

মহমেডানের বিরুদ্ধে বেশি গোল জয় খেতাবী দৌড়ে ফেরালো কিনা এই প্রশ্নে অস্কারের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ আমি আগেও বলেছি, এখন থেকে চ্যাম্পিয়নশিপের কথা ভাবতে চাই না। এখনও তাই বলছি। আগে লিগ টেবিলের ওপরের দিকে থাকাটা নিয়ে বেশি ভাবছি। আমাদের আরও ৭টা ম্যাচ বাকি। প্রতিটাই আমাদের কাছে ফাইনাল ভেবে খেলতে হবে। তারপর যেখানে পৌঁছানো সম্ভব হবে, সেখানে পৌঁছাব।’‌

আপাতত ইস্টবেঙ্গলের সামনে কোনও ম্যাচ নেই। পরের ম্যাচ চেন্নাইয়ের মাঠে চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে ১১ এপ্রিল। তাই সামনের সোমবার পর্যন্ত ফুটবলারদের ছুটি দিচ্ছে কোচ অস্কার তরতাজা হওয়ার সুযোগ দিতে। এই লম্বা ব্রেকটা কি আশীর্বাদ হবে, না ছন্দপতনের কারণ হতে পারে?‌ অস্কারের জবাব, ‘‌ এটা ঠিক অনেকক্ষেত্রে দলের ছন্দপতন ঘটে লম্বা ব্রেকে, তবে আমার দলের ক্ষেত্রে সেটা ঘটবে না। ফুটবলাররা নিজেদের দায়িত্ব বোঝে। তাই ব্রেকের পর বোঝাপড়া জমাট করার কাজটা চালিয়ে যেতে অসুবিধা হবে না।’‌

গোল করে ও রক্ষণে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচের সেরা আনোয়ার। কোনও একজন ফুটবলারের প্রশংসা অস্কার করেন না। তবে তাঁর মুখে মহমেডান ম্যাচে ভাল খেলা ও জয়ের পিছনে রশিদ ও ক্রেসপোর যুগলবন্দাীর কথা উঠে আসে। ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কারের মুথে ছিল মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিন সম্পর্কে প্রশংসা। বলেন, ‘‌ ওয়াডু বড় কোচ। যেভাবে বিনা বিদেশিতে যেভাবে সাধ্যমত লড়াই চালাচ্ছে প্রতি ম্যাচে, তা যথেষ্ট সাহস লাগে।’‌

ম্যাচ শেষে মহমেডান কোচ মেহারাজও জানান, ‘‌ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আগের কোচ, ফুটবলাররা দল ছেড়ে চলে গেলেও , আমি বিপদে পড়া মহমেডান দল ছেড়ে চলে যাইনি। জানতাম আইএসএলের অসম লড়াইটা হবে বেশি কঠিন। এমনকি ফল খারাপ হলে, আমার কোচিং কেরিয়ারে কালো দাগ পড়বে। তবু চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা, ফুটবলারদের লড়াইয়ে কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু খামতি কোয়ালিটিতে। সঙ্গে অনভিজ্ঞতা। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে হারটা অনেক বড় ব্যবধানের। সিলি মিস্টেকে শুরুতে গোল খেয়ে গেলে ফুটবলাররা খেই হারিয়ে ফেলে. তারওপর ১০ জন হয়ে গেলে ইস্টবেঙ্গলের মতো হেভিওয়েট দলের বিরুদ্ধে গোল বাঁচানো কঠিন হয়েই যায়। ফলটা হতাশাজনক। ম্যাচ হেরে প্রতি রাতেই ঘুম আসে না। তবে আবার পরদিন নতুন করে শুরু করতে হয়। এবারও করব। যাতে একবারে লিগ শেষ স্থানের ওপরে দলকে তুলে নিয়ে যেতে পারি।’‌ সত্যি মেহরাজকে অসাধ্যসাধন করতে হবে, এই দল নিয়ে আইএসএল অবনমন বাঁচানো।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *