সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: দারুণ মুডে ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। কলিঙ্গ সুপার কাপ-এ তুলুনামূলকভাবে মোহনবাগানের থেকে ভাল ফুটবল খেলেই ডার্বি খেলতে নামছে তাঁর দল। তার উপর পয়েন্ট টেবলে একই জায়গায় থাকলেও ড্র করলেই সেমিফাইনালে চলে যাবে ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে মোহনবাগানের জন্য মাস্ট উইন ম্যাচ। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়েও নিজের অথবা দলের কোথাও এক ইঞ্চি ড্রয়ের মানসিতা ঢোকাতে চান না কোচ। কোচ বলছেন, “যদি আমরা ড্রয়ের জন্য খেলি তাহলে হয়তো হেরে যেতে পারি। তাই আমরা জয় ছাড়া আর কিছু ভাবছি না।” বরং কোচের সঙ্গে গলা মিলিয়ে একই কথা বলে গেলেন, দলের অন্যতম স্ট্রাইকার ক্লেটন সিলভা। জয় ছাড়া আর কিছুই ভাবছে না ইস্টবেঙ্গল। তিনি বলেন, “যেমন কোচ বললেন, আমরা ড্র নয়, জয়ের জন্য খেলব। আর এই ম্যাচের অংশ হতে পেরে আমি খুশি।”
তবে ডার্বিতে তাঁরা মোহনবাগানের থেকে ভাল জায়গায় রয়েছে সেটা মানতে চাইলেন না। বিশেষ করে জাতীয় দলে মোহনবাগানের অনেক প্লেয়ার থাকা নিয়ে বার বার কথা হচ্ছে কিন্তু কুয়াদ্রাত পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, “আমার প্লেয়ার জাতীয় দলে নেই? আমারও মূল দলের দু’জন প্লেয়ার রয়েছে জাতীয় দলে। আসলে খেলার সময় মাঠে যে সেরাটা দেবে সেই ভাল খেলবে। গত দুটো ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রেজাল্ট হয়েছে। তাই আগে থেকে কিছু বলা মুশকিল। তবে আমরা আমাদের লক্ষ্যে ঠিক আছি।”
ইস্টবেঙ্গল ভাল ফর্মে রয়েছে। সুপার কাপে ভাল খেলছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ডার্বির আগে এটা যে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে কোচ বলছেন, “আমরা শুধু সুপার কাপ নয়, আইএসএল-এও ভাল খেলেছি। তার আগে ডুরান্ড কাপেও ভাল খেলেছি আর এখন সুপার কাপ। আমার মনে হয় আইএসএল-এ আমাদের আরও বেশি পয়েন্টে থাকা উচিত ছিল। অনেকক্ষেত্রে আমাদের ভাগ্য সহায় ছিল না। কিন্তু দল একই রয়েছে, একই লক্ষ্য নিয়ে মঠে নামবে। যে পজিটিভ অ্যাটিটিউড দেখাচ্ছে দল তাতে আমি খুশি। এক্ষেত্রেও সেটাই দেখা যাবে।”
তবে মরসুমের শুরুতে যে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলেছিল ইস্টবেঙ্গল তা থেকে এই দলে অনেক বদল এসেছে। কোচ বদল হওয়াটা সব থেকে বড় পরিবর্তন। ইস্টবেঙ্গল কোচ কুয়াদ্রাত মেনে নিচ্ছেন সে কথা। তিনি বলছেন, “এটা ঠিক অনেক পরিবর্তন এসেছে। গত মরসুমের পর নতুন প্রজেক্ট, নতুন প্লেয়ার, নতুন কোচ। এখানে ক্লিফোর্ড মিরান্ডা কোচিং করাচ্ছে, নতুন নতুন প্লেয়ারদের ব্যবহার করে রেজাল্ট পাচ্ছে। এবার দেখা যাক ডার্বির ফল কী হয়।”
এদিকে ক্লেটনসিলভার সামনে ডার্বিতে প্রথম গোল করার সুযোগও রয়েছে। ভাল ফর্মে রয়েছেন তিনি। গোলও পাচ্ছেন। এবার কী তাহলে ডার্বির মঞ্চে হিরো থেকে ডর্বর হিরো হয়ে ওঠার সুযোগ তাঁর সামনে। তিনি বলেন, “ডার্বি খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। এই ম্যাচে গোল পেলে ভাল লাগবে তবে গোল নয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ দলের জয় । তার জন্য যা করতে হবে সেটাই করব।” তবে তিনি পরিষ্কার করে দিচ্ছেন, তিনি গোল করে হিরো হবেন তা নিয়ে মোটেও ভাবছেন না তবে যে কোনও একটা সাফল্যের পিছনে পুরো দলের ভূমিকা থাকে তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
তবে কোচ বলছেন ডার্বিতে যা খুশি হতে পারে। “তবে কলকাতাকে দেখেছি ফুটবলের শহর। আমিও তেমনই শহর বার্সেলোনা থেকে এসেছি। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে জয়টাই শেষ কথা। তবে খেলায় শেষ মুহূর্তে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। তাই কেউ অ্যাডভান্টেজে নয়।আমরা শুধু আমাদের খেলাটা খেলতে চাই যেভাবে এই টুর্নামেন্টে খেলে এসেছি।”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
