অলস্পোর্ট ডেস্ক: সোমবার কাজের দিন। স্কুল, কলেজ, অফিসে সপ্তাহের শুরুর দিন হলেও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে দিনটি শুধুই উৎসবের সঙ্গে আবেগে ভেসে যাওয়ার। যারা এদিন সকালে ভুবনেশ্বর থেকে ইস্টবেঙ্গলের সুপার কাপ জয়ের সাক্ষী হয়ে ফিরেছেন তাঁরারও সরাসরি পৌঁছে গিয়েছিলেন বিমানবন্দরে। কলিঙ্গ স্টেডিয়ামের বাইরেই ম্যাচ শেষে সেই পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সেই সংখ্যাটা আর কতই বা হবে। আসল তো সেই মানুষগুলো যাঁরা গ্যালারিতে বসে দলের খেলা দেখতে পাননি ঠিকই কিন্তু দলের হিরোদের সামনে থেকে দেখতে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিমান বন্দরে। আবার অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন ক্লাব তাঁবুতে।
গেট থেকে ভিতর পর্যন্ত এদিন সকাল থেকেই কলকাতা বিমান বন্দর চলে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের দখলে। ঘনঘন স্লোগানে গমগম করছিল চত্তর। গেটের বাইরে শুধুই মাথার পর মাথা। যার সংখ্যাটা নিশ্চিত ছাঁপিয়ে গিয়েছে রবিবার কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে সুপার কাপ ফাইনালের দর্শক সংখ্যাকে। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, পতাকা উড়িয়ে এদিন যেন শহরের সব রাস্তারও দখল নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। তবে নিন্দুকে যাই বলুক না কেন, সত্যিই তো এই সাফল্যের জন্য সমর্থকরা কম চোখের জল ফেলেননি। এতদিন যেটা ছিল যন্ত্রণার, এখন সেটা আনন্দাশ্রু হয়ে বেরিয়ে আসছে।
২০১২ সালে শেষবারের মতো সর্বভারতীয় ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেটা ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের সময়। তার পর গঙ্গা দিয়ে, পদ্মা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। কোচ থেকে স্পনসর বদলে গিয়েছে একাধিকবার। বদলেছে ফুটবলার। কিন্তু ভাগ্য ফেরেনি ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের। বছরের পর বছর ধরে শুধুই হতাশা জুটেছে সমর্থকদের ভাগ্যে। তবুও তাঁরা আশা ছাড়েননি। প্রায় প্রতি ম্যাচেই কলকাতা থেকে দলে দলে হাজির হয়েছেন ভুবনেশ্বরে। ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের সংখ্যা দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছে আয়োজকরা। আসলে এটাই ইস্টবেঙ্গল আবেগ। একরাত আগেই যাঁরা বদলে দিয়েছিল ভুবনেশ্বরের রঙ তাঁরাই আজ বদলে দিয়েছে কলকাতার রাজপথ থেকে, বিমানবন্দরের রঙ।
এদিন কলকাতা বিমান বন্দরের রঙ শুধুই লাল-হলুদ। ভুবনেশ্বর থেকে ২.৪০-এর বিমানে কলকাতায় নামার কথা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। নির্ধারিত সময় ছিল সাড়ে তিনটে। সেই সময়ের কিছু পরেই কলকাতায় পৌঁছে যায় সুপার কাপ জয়ী ইস্টবেঙ্গল দল। তার অনেক আগে থেকেই ওয়ান-এ, ওয়ান-বি গেটের বাইরে লাল-হলুদ ঝড় উঠে গিয়েছে। পুরুষ, মহিলা থেকে শিশু কে ছিল না সেই তালিকায়। বাইকবাহিনী তৈরিই ছিল টিমবাসকে এসকর্ট করে শহরের রাস্তা দিয়ে ক্লাবে পৌঁছে দিতে। সেখানে পৌঁছে সম্বর্ধনার পাশাপাশি কাটা হল কেক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের অন্য কর্তা ব্যক্তিরা।
কিন্তু তার আগে সমর্থকদের ভির সামলাতে বেশ বেগ পেতে হল পুলিশকে। তাঁদের শান্ত থাকার জন্য মাইকিং করতে হল বার বার। একটা সময় সেই দায়িত্ব তুলে নিতে হল ক্লাবের অন্যতম কর্তা দেবব্রত সরকারকেও। ততক্ষণ বিমানবন্দরের ভিতরেই আটকে থাকতে হল পুরো দলকে। শেষ পর্যন্ত বেশ খানিকটা অপেক্ষার পর পুলিশি ব্যারিকেডে এক এক করে বিমান বন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে উঠলেন ক্রেসপো, বোরহা, শৌভিক, নন্ধা, গিলরা। সবার শেষে বেরলেন কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত ও ক্লেটন সিলভা। এমন জনজোয়ার বহুদিন দেখেনি এই শহর। এমন পাগলামো একযুগের উপর করার সুযোগ পাননি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। ১২ বছর নেহাৎই কম নয়। আর হয়তো সে কারণেই এই বাধ ভাঙা উচ্ছ্বাস থামানোর ক্ষমতা অন্তত আজ কারও নেই।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
