Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ‘গো ব্যাক’ ধ্বনির মধ্যে মরসুমে প্রথমবার মাঠ ছাড়তে হল অস্কার ব্রুজোঁকে। শুরুতেই গোল তুলে নেওয়ার পর আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার কথা ছিল ইস্টবেঙ্গলের তরফে, কিন্তু কোথায় যেন আটকে গিয়েছে অস্কারের দল। যার প্রমাণ পাওয়া গেল কেরালা ম্যাচেও। ৯ মিনিটে পেনাল্টি তুলে নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল, যখন রশিদের পাস থেকে বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়া এডমুন্ডের বাড়ানো বল গোলে শট নেওয়ার আগেই এজেজ্জারিকে ফাউল করেন কেরালার আইবান। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি এজেজ্জারি। ১০ মিনিটে ঘরের মাঠে এগিয়ে গিয়েও সেই ছন্দ খুঁজে পেল না লাল-হলুদ ব্রিগেড। ক্লাবের অন্দরের সমস্যা, যা ম্যাচের আগের সাংবাদিক সম্মেলনে বলে ফেলেছিলেন অস্কার, তাহলে কি এটা তারই প্রভাব? আর গোলের ব্যবধান তো বাড়াতেই পারল না, উল্টে শেষ বেলায় গোল হজম করে জেতা ম্যাচ ড্র করে সমস্যা অনেকটা বাড়িয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। খেলা তো স্বস্তি দিলই না সঙ্গে কেরালার কাছেও আটকে যাওয়া উত্তপ্ত করে তুলল গ্যালারিকেও।

কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে যতটা দাপট দেখানোর কথা ছিল ততটা দেখা গেল না। একে তো ঘরের মাঠ, তার উপর এবার রীতিমতো দুর্বল দল কেরালা। চার ম্যাচে চার হার নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল দক্ষিণের এক সময়ের দাপুটে দল। এবার অবশ্য বেশিরভাগ দলেরই একই অবস্থা। অপ্রস্তুতিতে ধুকছে সবাই। তার মধ্যেই নমো নমো করে হওয়া আইএসএল-এ খেলছে দলগুলো। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ভালো জায়গায় থাকার কথা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। এক তো ঘরের মাঠেই প্রায় সব খেলা। তার উপর অনেক আগে থেকেই অনুশীলন শুরু করে দিয়েছিল কলকাতার এই দল। পাশাপাশি এবার নিজের মনের মতো দলও গড়েছেন অস্কার ব্রুজোঁ। তবুও প্রথম দুই ম্যাচে পর পর জয়ের পরের দুই ম্যাচে একটি হার ও একটি ড্রয়ের মুখ দেখতে হয়েছে। তার পর এই ম্যাচ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিঙ্গল লেগের ম্যাচে একটা হারই পরিস্থিতি কঠিন করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের পাঁচ ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে।

১০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়ার পর ১৮ মিনিটে সল ক্রেসপোর গোলমুখি শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। চোট সারিয়ে প্রথম দলে ফিরেছেন অধিনায়ক। তিনি যে ফিরবেন তা আগের দিনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অস্কার। তবে তাঁকেও সেই চেনা ছন্দে দেখা গেল না। সে কারণে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাঁকে তুলে সৌভিক চক্রবর্তীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। এদিন তিনি পিভি বিষ্ণুকে লেফটব্যাকে রেখে দল সাজিয়েছিলেন। বিষ্ণুর জন্য কিছুটা অনভ্যস্ত জায়গা তো বটেই। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে জয় গুপ্তাকে নামিয়ে বিষ্ণুকে তাঁর চেনা জায়গা ফিরিয়ে দিলেন কোচ।

এর মধ্যেই বার কয়েক আক্রমণে উঠে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে পরীক্ষার মুখে ফেলল কেরালা। এদিনও গোলের নিচে বেশ কয়েকবার মান রাখলেন প্রভসুখন সিং গিল। না হলে এক গোলের ব্যবধান কখনওই যথেষ্ট ছিল না। ৫২ মিনিটে এজেজ্জারি আর ৬৮ মিনিটে মিগুয়েলের কর্নার থেকে রশিদের গোল মুখি শট আশা জাগিয়েও হতাশ করল প্রায় হাজার ১৪-র যুবভারতীকে। ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পায়নি তেমনটা নয়, কিন্তু ফিনিশিংয়ে গিয়ে বার বার মুখ থুবড়ে পড়তে হল। যা আগের দুই ম্যাচেও স্পষ্ট ছিল। যা ভাবাবে কোচ অস্কার ব্রুজোঁকে। শেষ বেলায় ঝামেলায় জরালেন ইস্টবেঙ্গলের মিগুয়েল ও কেরালার ফলাও। তবে রেফারির হস্তক্ষেপে তা বেশি দূর গড়ায়নি। যদিও শেষটা ইস্টবেঙ্গলের জন্য ভালো হল না যখন অতিরিক্ত সময়ে কেরালার মহম্মদ আজসাল ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে দাঁড় করিয়ে রেখে কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলকে সমতায় ফেরালেন। প্রথম পয়েন্টটাও তারা নিয়ে গেল কলকাতা থেকেই। আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল এক গোলের ব্যবধান কখনোই যথেষ্ট নয়।

ইস্টবেঙ্গল এফসি: প্রভসুখন সিং গিল, পিভি বিষ্ণু, আনোয়ার আলি, জিকসন সিং, মহম্মদ রাকিপ, বিপিন সিং (মহেশ সিং), মহম্মদ রশিদ, সল ক্রেসপো (সৌভিক চকবর্তী), মিগুয়েল ফেরেরা, এডমুন্ড লালরিনডিকা (জয় গুপ্তা), ইউসুফ এজেজ্জারি

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *