অলস্পোর্ট ডেস্ক: ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ন এফসিকে হারিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের খেলা এখনও স্বস্তি দিচ্ছে না লাল-হলুদ সমর্থকদের। প্রথমার্ধে যে খারাপ ফুটবলের উদাহরণ রেখে দল তা ম্যাচের পরে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। তবে দলের দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় তিনি খুশি। যেভাবে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা তাঁকে স্বস্তি দিলেও ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে বেঞ্চে থাকা হচ্ছে না কুয়াদ্রাতের। গত ম্যাচে রেফারির সঙ্গে তর্কে জরিয়ে হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছে তাঁকে। সব মিলে চারটে হলুদ কার্ড নিয়ে মাঠের বাইরে তিনি। যে কারণে ওড়িশা উড়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন দলের সহকারি কোচ দেলগাদো।
তিনিও যদিও বলছেন দলের পরিস্থিতি একই রয়েছে, একদম স্বাভাবিক। কোচ মাঠে থাকবেন এই পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেবেন তিনি জানতে চাওয়া হলে দেলগাদো বলেন, ‘‘পরিস্থিতি স্বাভাবিকই রয়েছে, কোনও বদল নেই তাতে। যেভাবে আমরা এতদিন অনুশীলন করেছি, খেলেছি সেটাই থাকবে। সবাই সবার কাজটা খুব ভাল করে জানে। মাঠে নেমে সেটাই করবে যেটা তার কাজ। তাই পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। সব স্বাভাবিক। আমরা তিন পয়েন্টের জন্য ঝাঁপাবো।’’
নন্ধা কুমারের অনুশীলনে না থাকা ফ্যানদের মধ্যে প্রশ্ন তুললেও সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সহকারি কোচ নিশ্চিত করে দিলেন, সব ঠিক আছে, খেলবেন নন্ধা। তিনি বলেন, ‘‘টানা ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তিন দিনের মধ্যে দুটো ম্যাচ। বিশ্রামের সুযোগ নেই। সে কারণেই আজ ও অনুশীলনে নামেনি। ম্যাচের জন্য একদম প্রস্তুত।’’ এদিন মাঠে নেমে অনুশীলন না করালেও উপস্থিত ছিলেন কোচ কার্লেস। সহকারি কোচকে নিয়মিত উপদেশ দিচ্ছিলেন। তাঁর দেখানো পথেই বৃহস্পতিবার ডাগআউটে তাঁর জায়গায় বসবেন দেলগাদো।
এদিন দেলগাদোর সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের বাঙালি ফুটবলার সায়ন। তিনি বলেন, ‘‘এমন একটি দলের সঙ্গে ডাগআউটে বসে থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। তার পরও আমি যখন সুযোগ পাচ্ছি খেলার তখন নিজের সেরাটা দিতে চেয়েছি। কোচ আমার উপর ভরসা রেখেছে সেকারণে আমি কৃতজ্ঞ। আমাকে নিজেকে প্রমাণ করা সুযোগ দিয়েছে। আমি কলকাতা লিগে তিন গোল করেছিলাম তার পর এখানে সুযোগ পেয়েছি।’’
হেড কোচ নেই, নেই দলের রক্ষণের মূল কাণ্ডারি হিজাজি মেহের। সব মিলে রীতিমতো চাপে ইস্টবেঙ্গল। তবে সহকারি কোচ দিমাস দেলগাদো বলছেন, খুব স্বাভাবিক মুডেই রয়েছে দল। যারা ওড়িশায় গিয়ে তাদের হারিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। একই আত্মবিশ্বাসের কথা শোনা গেল সায়নের গলায়ও। বাংলার এই দলে এতদিন একমাত্র জ্বল জ্বল করছিলেন একমাত্র বাঙালি শৌভিক চক্রবর্তী। এবার দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে সায়নকেও দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি। স্বপ্ন দেখছেন কোচেরাও। দলের পরবর্তী প্রজন্মকে তুলে ধরার প্রচেষ্টাতেই কার্লেসের হাত ধরে উঠে আসছেন সায়নরা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
