Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএল ২০২৩-২৪-এর প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়ের ধারা ধরে রাখা হল না ইস্টবেঙ্গলের। বেঙ্গালুরুর কাছে হেরে যেতে হল কার্লেস কুয়াদ্রাতকে। তাঁর কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব আলাদাই ছিল। প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে চেনা মাঠে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। জানতেন সহজ হবে না লড়াই। পর পর দুই ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি বেঙ্গালুরু। তাই এই ম্যাচে রে জয়ের জন্য মরিয়া থাকবে দল তা কলকাতা ছাড়ার আগেই বলে গিয়েছিলেন কুয়াদ্রাত। তাঁর ফল বেঙ্গালুরু থেকে ১-২ গোলে হেরে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে।

এ দিন এশিয়াডে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ফেরা সুনীল ছেত্রী শুরু থেকে পুরো সময়ই খেলেন এবং পেনাল্টি থেকে গোলও করেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ‘তরুন’ স্ট্রাইকারের প্রখর ইচ্ছাশক্তি ও ফিটনেসের প্রশংসা আরও একবার না করলেই নয়।  আর তিনি ফিরতেই জয় পেল তাঁর দল।

নন্দকুমার শেখরের মাপা থ্রু বল পেয়ে এ দিন নিখুঁত ভাবে তাকে গোলে পরিণত করেন মহেশ। তাঁর প্রথম টাচ ও ফুটওয়ার্কে পরাস্ত হন বেঙ্গালুরুর রক্ষণের জুটি পরাগ শ্রীবাস ও স্লাভকো দামিয়ানোভিচ। তাঁরা ব্যর্থ হওয়ার পর মহেশের সামনে ছিলেন শুধু গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু, যাঁকে পেরিয়ে বল জালে জড়িয়ে দিতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি লাল-হলুদ বাহিনীর তারকা ফরোয়ার্ডের। 

কিন্তু তিনি গোল করে লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে যে আশার আলো জ্বালান, তা নিভে যায় মন্দারের ভুলে। গোলমুখী সুনীল ছেত্রীকে আটকাতে গিয়ে নিজেদের বক্সের মধ্যেই তাঁকে অবৈধ ভাবে বাধা দিয়ে ফেলেন তিনি। ফলে রেফারি পেনাল্টি দিতে দ্বিধা করেননি। গোলের ডানদিকে ওপরের কোণ দিয়ে বল জালে জড়াতে কোনও অসুবিধাই হয়নি ভারতীয় দলের অধিনায়কের। 

প্রতিপক্ষ সমতা আনার পরে ফের ব্যবধান তৈরির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল এফসি। গত কয়েকটি মরশুমের তুলনায় কুয়াদ্রাতের ইস্টবেঙ্গল যে অনেক বেশি তেল খাওয়া মেশিনের গতিতে দৌড়তে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে, তা এর আগের ম্যাচগুলিতেই বোঝা গিয়েছিল। এ দিনও একই গতি দেখা গেল তাদের খেলায়। কিন্তু যে ভুল তারা বারবার করে আসছেন, সেই প্রতিপক্ষের গোলের সামনে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং এলোমেলো পাস ও শট নেওয়া, সেগুলি এদিনও চালিয়ে যায় তারা। 

দ্বিতীয়ার্ধে মহেশ ও নন্দকুমার একে অপরের সঙ্গে দলকে গোল এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন বারবার। কিন্তু মহেশ যথারীতি এ দিনও ভাল খেললেও নন্দকে এ দিন কিছুটা হলেও ম্লান লেগেছে। ৫৪ মিনিটের মাথায় মহেশের মাপা ক্রস পেয়েও নন্দকুমার গোলের সামনে থেকে বারের ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে দেন। তাঁর মতো খেলোয়াড় কী ভাবে এতটা কাছ থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন, তা ভেবে বেশ অবাক হতে হয়। 

এতটা সহজ না হলেও এর কাছাকাছি একাধিক সুযোগ এদিন হাতছাড়া করে ইস্টবেঙ্গল। সারা ম্যাচে তাঁরা যেখানে চারটি শট গোলে রাখতে পেরেছে, সেখানে বেঙ্গালুরু এফসি দু’টি শট গোলে রাখে এবং সেই দু’টি থেকেই গোল পায়। ৭২ মিনিটের মাথায় যে গোলটি করেন কলকাতায় খেলে যাওয়া স্প্যানিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হার্নান্ডেজ, সেটিই এ দিনের ম্যাচের সবচেয়ে দর্শনীয় মুহূর্ত। 

তরুণ ফরোয়ার্ড রোহিত দানু বক্সের মধ্যে বল পেয়ে হেড করে বল পাঠান হাভির কাছে। তিনি যথেষ্ট সময় নিয়ে বল এক পায়ে রিসিভ করে বলকে সুবিধাজনক জায়গায় এনে একটি জোরালো ও দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিক মারেন, যা বাঁচাতে পারেননি প্রভসুখন গিল। ইস্টবেঙ্গলের দুই ডিফেন্ডার সল ক্রেসপো ও লালচুঙনুঙ্গা, যিনি সদ্য এশিয়ান গেমস থেকে ফিরেছেন, এই দু’জন আরও একটু তৎপর হলে বোধহয় হাভির এই গোলমুখী শটটি ব্লক করা যেত। 

এ রকম আরও একটি দর্শনীয় বাইসাইকেল কিক থেকে গত মরশুমেও একটি গোল করেন হাভি। এ বার লিগের শুরুতেই দেখিয়ে দিলেন। দীর্ঘ লিগে তাঁর পা থেকে এ রকম আরও গোল দেখার অপেক্ষায় থাকবেন বেঙ্গালুরুর সমর্থকেরা। 

এই গোলের পর ইস্টবেঙ্গল তা শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে থেকে দু-দু’টি ফ্রি কিকও পান। গত ম্যাচে ক্লেটন সিলভা যে ভাবে শেষ মুহূর্তে ফ্রি কিক থেকে গোল করে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন, সমর্থকেরা হয়তো ভেবেছিলেন, এ দিনও সে ভাবেই ম্যাচ জেতাবেন ব্রাজিলীয় তারকা। কিন্তু এ দিন কোনও সুযোগই কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। একটি শট সোজা গোলকিপারের হাতে চলে যায় ও অপরটি পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। শেষে রেফারি ছ’মিনিট বাড়তি সময় দিলেও তাকে কাজে লাগাতে পারেনি কলকাতার দল। 

এই ম্যাচে জিততে পারলে লাল-হলুদ বাহিনী লিগ তালিকার শীর্ষে চলে যেতে পারত। কিন্তু তাদের সেই আশা পূরণ হল না। কুয়াদ্রাতের দল রয়ে গেল পাঁচ নম্বরেই। বরং বেঙ্গালুরু এফসি দশ থেকে উঠে এল আট নম্বরে।   

ইস্টবেঙ্গল এফসি দল: প্রভসুখন গিল (গোল), নিশু কুমার (শৌভিক চক্রবর্তী), হরমনজ্যোৎ সিং খাবরা, হোসে পার্দো, মন্দার রাও দেশাই, লালচুঙনুঙ্গা, সল ক্রেসপো, বোরহা হেরেরা (হাভিয়ে সিভেরিও), নন্দকুমার শেখর, মহেশ সিং (পুতিয়া), ক্লেটন সিলভা। 

লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *