বিপিন সিং। ছবি- ইস্টবেঙ্গল
ইস্টবেঙ্গল ৫(লালচুংনুঙ্গা, সল-পেনাল্টি, বিপিন, দিমি, মহেশ ) সাউথ ইউনাইটেড ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: বুধবার যুবভারতীর মাঠে অনায়াস জয় দিয়ে ডুরান্ড অভিযান শুরু করল ইস্টবেঙ্গল। বলতে গেলে মরশুমের শুরুতে মধুরেণ সমাপয়েৎ পূর্ণশক্তির লাল হলুদের, দুর্বল সাউথ ইউনাইটেড এফসির বিরুদ্ধে ৫-০ গোলের জয়ে। লালচুংনুঙ্গার গোলে শুরু, দিয়ামান্তাকোসের গোলে শেষ। ফাইভস্টার এই পারফরমেন্সের জোরে ৬ আগস্ট গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে নামধারী এফসির মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে নিল ইস্টবেঙ্গল।
১২ মিনিটে লালচুংনুঙ্গার দুরন্ত গোলে এগিয়ে যায় লাল হলুদ। বক্সের ডানপ্রান্ত থেকে তোলা বল সাউথ ইউনাইটেডের ফুটবলার আংশিক ক্লিয়ার করলে, তা বক্সের ঠিক বাইরে গড়িয়ে চলে আসে। লালচুংনুঙ্গা সেই বলে ডানপায়ে গোলার মতো শট নিলে, তা গোলকিপার নিশান্তের বাড়ানো হাতের নাগাল এড়িয়ে ক্রশপিসের ভেতর দিকে লেগে গোলের ভেতর আছড়ে পড়ে। তার ২ মিনিট আগেই বক্সের ভেতর থেকে লালরিনডিকার নেওয়া শট গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ডেভিডের গায়ে লেগে ফেরায় গোল খাওয়ার হাত থেকে বেঁচেছিল বেঙ্গালুরু দল।
গোল পেয়ে প্রতিপক্ষকে আরও চেপে ধরেছিল অস্কারের ইস্টবেঙ্গল। তাতে দ্বিতীয় গোল পাওয়াটা ছিল সময়ের অপেক্ষা। শক্তিশালী লাল হলুদের তুলনায় সাউথ ইউনাইটেডকে ম্যাচের শুরু থেকেই অত্যন্ত দুর্বল প্রতিপক্ষ লেগেছে। কলকাতা লিগে প্রিমিয়ার তো দূরের কথা প্রথম ডিভিশনে খেলার যোগ্যতা আছে বলে মনে হয়নি। মাত্র ২ জন বিদেশি নবাগত রশিদ ও চেনামুখ সল ক্রেসপোকে মাঝমাঠে রেখে ৪-৪-২ ছকে দল সাজিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের হেডস্যার অস্কার। স্ট্রাইকিং জোনে ডেভিড ও লালরিনডিকাকে রেখে উইং দিয়ে মহেশ ও বিষ্ণুকে দিয়ে আক্রমণ শানিয়ে প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস তুলে দেন।
এতটাই চাপে ছিল বেঙ্গালুরুর দলটি আগাগোড়া, যে প্রথম ৪৫ মিনিট নিজেদের অর্ধ ছেড়ে উঠতেই পারেনি। নিজেদের বক্সের আশাপাশে ভিড় জমিয়ে গোল বাঁচানোর কাজটা চালিয়ে যায়। সাউথ ইউনাইটেডের গোলকিপার একাধিক সেভ করায় গোলসংখ্যা আর বাড়েনি ৩৭ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু ৩৮ মিনিটের মাথায় বেঙ্গালুরু দলের আব্দুল সালা বক্সের মাঝে লালরিনডিকাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। সল ক্রেসপো পেনাল্টি থেকে গোল করে ২-০ ব্যবধান গড়তে কোনও ভুল করেননি।
৫৮ মিনিটের মাথায় পিভি বিষ্ণু চোট পাওয়ায় তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ অস্কার। ৫৯ মিনিটে বিষ্ণু সহ আরও ২টি পরিবর্তন ঘটান দলে। বিষ্ণুর জায়গায় নামেন নন্দকুমার, ডেভিডের বদলে দিয়ামান্তাকোস(দিমি) ও ক্লান্ত সল ক্রেসপোর জায়গায় জিকসন। ৭৩ মিনিটে লালরিনডিকার পরিবর্তে মাঠে আসেন বিপিন। ৮০ মিনিটে দিয়ামান্তাকোসের ডিফেন্স চেরা থ্রু অনুসরণ করে বক্সের ভেতর বাঁদিক থেকে ডানপায়ের বাঁক খাওয়ানো শট নিয়ে গোলে জড়িয়ে দেন বিপিন। ৮৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দিয়ামান্তোকোসের গড়ানো ফ্রিকিক শট গোলকিপারের হাতে লেগে গোলে ঢুকলে ৪-০। ৯০ মিনিটে বিপিনের কর্নারে মহেশের গোলে ৫-০।
প্রতিপক্ষ এতই দুর্বল ছিল এদিন, নবাগত বিদেশি রশিদের দক্ষতার পরীক্ষা সেভাবে হল না। তার জন্য আরও কয়েকটা ম্যাচ অপেক্ষা করতে হবে। মূলত নকআউট পর্বেই বোঝা যাবে রশিদের কতটা কার্যকর। তবে এমন একটা জয়ের দিনে অল্পসংখ্যক লাল হলুদ সমর্থকদের উপস্থিতি ফুটবলের জন্য ভাল বিজ্ঞাপন নয়। বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ম্যাচের শুরুতে বল মেরে ও দু’দল ফুটবলারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ডুরান্ড কাপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের দিনে।
ইস্টবেঙ্গল: দেবজিত মজুমদার, মহম্মদ রাকিপ, আনোয়ার আলি(প্রভাত লাকরা), মার্তন্ড রাণা, লালচুংনুঙ্গা, নাওরেম মহেশ, সল ক্রেসপো(জিকসন), মহম্মদ রশিদ, পিভি বিষ্ণু(নন্দকুমার), ডেভিড লালানসাঙ্গা(দিয়ামান্তাকোস), এডমুন্ড লালরিনডিকা(বিপিন)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
