Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

কে এই তুলসী দাস বলরাম?? পিছিয়ে যেতে হয় ১৯৩৬ সালে…ওই বছর ৪ ঠা অক্টোবর সেকেন্দ্রাবাদের বোলারুশের আমগুড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তুলসীদাস বলরাম….  চাষের জমিতেই শুরু হয় তুলসীদাস বলরামের ফুটবল সাধনা… পারিবারিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিলোনা ফলে আধপেটা আহারেই ফুটবল খেলার নেশায় মেতে থাকতেন….দারিদ্রতা বলরামের পা থেকে ফুটবল কেড়ে নিতে পারেনি….

প্রখ‍্যাত কোচ রহিম সাহেব কোনও এক আঞ্চলিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় বলরাম কে স্পট করেন এবং ডেকে নিলেন এর্নাকুলামে সন্তোষ ট্রফির ক‍্যাম্পে….কিন্ত বাধা হয়ে দাঁড়ালো অর্থ….বলরামের যে কিছুই নেই…তাই রহিম সাহেব বলরামের হাতে তুলে দিতেন যাতায়াত ভাড়া বাবদ ১টাকা ৪ আনা….শুরু হলো রহিম সাহেবের কাছে বলরামের ফুটবলের তালিম…..ধীরে ধীরে বলরাম ভারতীয় ফুটবলে পরিচিত হন….

১৯৫৭ সালে ইস্টবেঙ্গলে আসেন…. ততদিনে পঞ্চ পান্ডব জোটের ইতি ঘটে  গেছে… ইস্টবেঙ্গল পেয়ে যায় ভারতীয় ফুটবলের এই উজ্জ্বল জ‍্যোতিষ্ক কে…..ততদিনে বলরাম ভারতীয় ফুটবলে এক পরিচিত নাম…….. ১৯৫৭-১৯৬২ পর্যন্ত  ইস্টবেঙ্গলে চুটিয়ে খেলেন….  জায়গা করে নেন লাল হলুদ সমর্থক দের হৃদয়ে…..১৯৬১ সালে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক হন….শীল্ড এবং জয়ের কৃতিত্ব লাভ করেন….২৩ টা গোল করে সেবার লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন বলরাম…..১৯৫৯  সালের শীল্ডে সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন বলরাম…সেমিফাইনালে মহামেডানের বিপক্ষে হ‍্যাটট্রিক করেছিলেন….দলের পক্ষে সবচাইতে বেশী গোল ছিলো বলরামের কিন্তু সেবার শীল্ড ফাইনাল পরিতক্ত হয়েছিলো….১৯৬৩ সালে বলরাম বি এন আরে চলে যান…. ওখানে একটা বছর খেলার পর শারীরিক অসুবিধার জন্য বুট জোড়া তুলে রাখতে বাধ্য হন…..

১৯৫৬ থেকে ১৯৬২ এই সময় টাকে বলা হয় ভারতীয় ফুটবলের সোনার সময়….১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিকে চতুর্থ হওয়া….১৯৬২ সালে এশিয়ান গেমস ফুটবলে স্বর্ন পদক জয়….১৯৫৯ সালে মারডেকা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে রানার আপ হওয়া সবেতেই তুলসীদাস বলরামের অবদান অনস্বীকার্য….

সতীর্থ ফুটবলার পিকে ব‍্যানার্জী র ভাষায় বলরাম মাঠে যেন অদৃশ্য বিনের তালে বল নিয়ে ড্রিবল করতেন….আউট সাইড এবং ইন সাইড ডজ দুটোতেই ছিলেন পারদর্শী…..সাথে ছিলো অসাধারন বল কনট্রোল….নিঃশব্দে সারা মাঠ চষে বেড়িয়ে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে যেতেন…..আর বলরামের পাস??? পূজোতে অঞ্জলী দেওয়া ভক্তের  ফুল যেমন অভ্রান্ত নিশানায় বিগ্রহের চরনে গিয়ে পড়ে ঠিক তেমনি বলরামের পাস গুলোও সতীর্থ দের পায়ে গিয়ে বলতো নাও গোল করো…….

যে ফুটবলার চূনী গোস্বামী র অধিনায়কত্বে র লালসা এবং চূনী গোস্বামী কে দলে আনার জন্য বাংলা দলের অধিনায়কত্ব চূনী গোস্বামী র হাতে তুলে দিতে পারেন তিনি মানুষের ও ঊর্ধ্বে…….এবং নিঃসন্দেহে বিরাট টিম ম্যান….

ক্লাবের প্রতি ক্লাব অফিসিয়াল দের প্রতি অনেক ক্ষোভ অনেক অভিমান বুকে নিয়ে ইস্টবেঙ্গল থেকে অনেক আগেই দূরে সরে ছিলেন….তাও তো আমাদের মধ্যে ছিলেন কিন্তু আজ সবাই কে ছেড়ে অনেক অনেক দূরে চলে গেলেন…..যেখান থেকে আর কখনোই ফিরে আসা সম্ভব নয়…….যে সম্মান ওনার প্রাপ্য ছিলো সেই সম্মান পাওয়া থেকে উনি বঞ্চিত ই রইলেন……….. ক্লাবের প্রতি  উনি এতোটাই অভিমানী ছিলেন যে বলেই দিয়েছিলেন আমার মৃত্যু র পর আমার মরদেহ যেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে না নিয়ে যাওয়া হয়……

যেখানেই থাকুন ভালো থাকবেন স্যার…..আপনার প্রতি যে  অসম্মান যে  বঞ্চনা করা হয়েছে তার কোনো ক্ষমা হয়না জানি….তবুও সমর্থক দের ক্ষমা করবেন কারন আমরা  তো কোনও দোষ করিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *