মুনাল চট্টোপাধ্যায় : অবশেষে জল্পনা কল্পনার অবসান। জমা পড়া ৭টি দরপত্রের মধ্যে শেষপর্যন্ত বাজিমাত করল ফ্যানকোড ও কেপিএস স্টুডিও(ক্যালাইডোস্কোপ)। ব্রডকাস্টিং রাইটসের অধিকারী হল ফ্যানকোড, আর ওয়ার্ল্ড ফিডের প্রোডাক্সান রাইটসের দায়িত্ব পেল ক্যালাইডোস্কোপ। সোনি স্পোর্টস বা জি নেটওয়ার্ক দরপত্র জমা দেয়নি। ফ্যানকোড যেহেতু অ্যাপ, সেক্ষেত্রে সোনি স্পোর্টসের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে আইএসএলের খেলা দেখাতে পারে, এমনটাই মনে হচ্ছে।
এতদিন একটা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে ছিল আইএসএলের ব্রডকাস্টিংয়ের ব্যাপারটা। এর আগে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন যখন বিড ইভালুয়েশন কমিটি তৈরি করে বানিজ্যিক সহযোগী নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল, তখন কেউ আগ্রহ দেখায়নি। পরবর্তী সময় ক্লাবজোটের কমিটি ও ফেডারেশনের মধ্যে বৈঠকের পর আইএসএল পরিচালন কমিটি তৈরি হয়। সেখানে আইএসএল ক্লাবদের অংশগ্রহণ নিয়ে একটা জট তৈরি হয়েছিল। সেটা কাটাতে সক্রিয় হস্তক্ষেপ করেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্তব্য তাতে কাজ হয়। সব ক্লাবই অংশগ্রহণে রাজি হয়। ক্রীড়ামন্ত্রী ঘোষণা করে দেন ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আইএসএল শুরু হবে।
এরপরই আইএসএলের সূচী নির্ধারণ কমিটি প্রতিযোগিতার সূচী তৈরি করে ফেলে সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে। সূচী তৈরি হওয়ার পর তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় ২০২৫-২৬ মরশুমের ব্রডকাস্টিং পার্টনার ঠিক করতে। সেটা মাথায় রেখে নিয়ম মেনে দরপত্র আহ্বান করা হয় ব্রডকাস্টিং বা মিডিয়া রাইটসের জন্য। মাঝে আগ্রহী বিডারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক সেরেছিল এআইএফএফ ব্রডকাস্টিংয়ের ব্যাপারে কী কী শর্তপূরণ করতে হবে, তা জানাতে। বিডাররাও ভালভাবে বুঝে নেন, তাদের আর্থিক লগ্নি কতটা করতে হবে। ফেডারেশনকেই বা কী দিতে হবে মিডিয়া রাইটস পেতে।
আইএসএল ও ফেডারেশনের যৌথ কমিটি ব্রডকাস্টিং রাইটসের অধিকার পেতে দরপত্র জমা দেওয়ার দিন স্থির করেছিল ১ ফেব্রুয়ারি। জমা পড়া ৭টি দরপত্রের বাইরে আরও কয়েকটি বিডার বাড়তি সময় চেয়েছিল দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু ফেডারেশন তা মানেনি। কারণ ১৪ ফেব্রুয়ারি আইএসএল শুরু করতে গেলে, আর দেরি করা সম্ভব ছিল না। তাই ১ ফেব্রুয়ারি দরপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন ছিল। সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি সকালে দরপত্র খোলার সময় ধার্য হয়েছিল।
তাতে দেখা যায়, ফ্যানকোড, জিও স্টার, ক্যালাইডোস্কোপ প্রোডাক্সন অ্যান্ড সার্ভিসেস(কেপিএস স্টুডিও), ব্রিটিশ মিডিয়া হাউস টু সার্কলস, এবিপি নেটওয়ার্ক, মনার্ক ইউথ পিআর সলিউশন, স্পোর্টজওয়ার্কজ দরপত্র জমা দিয়েছে। এই দরপত্রগুলির দেওয়া আর্থিক শর্তপূরণের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা, টেকনিকাল সাপোর্টের ক্ষমতার দিকগুলো খুঁটিয়ে দেখেন আইএসএলের ক্লাব ও ফেডারেশনের যৌথ কমিটির সদস্যরা। তাতে সন্তোষজনকভাবে সবকটি শর্তপূরণ করায় ব্রডকাস্টিং রাইটস জিতে নিল ফ্যানকোড। যাদের দেওয়া ৯ কোটির কাছাকাছি দর সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। এআইএফএফ ফ্যানকোডের থেকে আনুমানিক ১.৫ কোটি পাবে। ওয়ার্ল্ড ফিডের প্রোডাক্সন রাইটস পেল ক্যালাইডোস্কোপ তাদের দর মনোমত হওয়ায়।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
