Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র কাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে, সে বিষয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো ফিফা যেভাবে সামলাচ্ছে তার পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি সমালোচকদের ‘শান্ত ও ধীরস্থির’ থাকার আহ্বান জানান—বিশেষ করে যখন টুর্নামেন্টটি শুরু হতে আর কয়েক ঘণ্টাই বাকি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে বুধবার মেক্সিকো সিটিতে ৬৬ মিনিটের এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইনফান্তিনো টুর্নামেন্ট শুরুর আগের বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্যে ছিল সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানের প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ম্যাচগুলোতে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ।

ফিফার ম্যাচ পরিচালনাকারীদের চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সোমালিয়া থেকে প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের ইতিহাস গড়ার কথা ছিল আরতানের। কিন্তু ইস্তাম্বুল থেকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে কথিত সম্পৃক্ততার’ কারণে আরতানকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ইনফান্তিনো এই পরিস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করলেও জোর দিয়ে বলেন যে, সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ফিফার প্রভাবের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইনফান্তিনো বলেন, “আমার কথা বিশ্বাস করুন—অথবা না-ই বা করলেন—আমরা সবসময়ই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করি, সবসময়ই। তবে আমাদের এটাও মেনে নিতে হবে যে, আমরা বিশ্বের কোনও রাজা নই যারা সরকার বা পুলিশ বাহিনীর ওপর হুকুম চালাতে পারি। আমরা একটি ক্রীড়া সংস্থা; আমাদের হাতে যা আছে, তা দিয়েই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।”

ফিফা সভাপতি জানান, কোনও সমস্যা দেখা দিলেই সংস্থাটি পর্দার আড়ালে কাজ করে যায়, তবে তিনি জনসমক্ষে খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয়ে সতর্ক করেন। ইনফান্তিনো বলেন, “সোমালিয়ার রেফারি ওমরের সঙ্গে যা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু আবারও বলছি, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। আমরা চেষ্টা করি, আলোচনা করি, পরিস্থিতি দেখি। মাঝে মাঝে শান্ত ও ধীরস্থির থাকাও ভালো। আমরা সব বিষয় নিয়েই কাজ করি এবং সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করি।”

তিনি যুক্তি দেন যে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় সরকারের সঙ্গে জড়িত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর সমাধানে জনচাপ ও তাৎক্ষণিক সমালোচনা সবসময় সহায়ক হয় না। তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে হইচই বা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে সমাধানের ক্ষেত্রে উল্টো ফল পাওয়া যায়। আমরা সবসময়ই সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করি। তবে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, আমরা বিশ্বের কোনও রাজা-বাদশা নই যে সরকার বা পুলিশ বাহিনীর ওপর হুকুম চালাতে পারব।’’

মানুষকে “শান্ত থাকার” (chill) আহ্বান জানিয়ে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছিলেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইনফান্তিনো স্পষ্ট করেন যে, ফিফা কোনও উদ্বেগের বিষয়কে উপেক্ষা না করে বরং তা সমাধানের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ‘‘আমার কথার অর্থ এই নয় যে শান্ত হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে; বরং আমি বলতে চেয়েছি আমাদের ওপর আস্থা রাখুন—আমরা পর্দার আড়ালে কাজ করছি এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছি। আমাদের অনেক কিছু জানানো হয়, আবার অনেক কিছু জানানো হয় না। আমরা সবসময়ই পরিস্থিতি ইতিবাচক রাখার এবং সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করি,’’ তিনি বলেন।

জটিল রাজনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফিফার প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে ইনফান্তিনো এই টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন। ইরানি দলটি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় রয়েছে এবং ম্যাচ খেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আবার সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে আসবে। ‘‘ইরানকে আমেরিকায় খেলতে নিয়ে আসাটা একটা সাফল্য; জানি না অন্য কেউ এমনটা করতে পারত কি না। আমরা তো আর চাঁদে বাস করি না, আমরা এই পৃথিবীতেই থাকি এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করি,’’ ইনফান্তিনো বলেন।

টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগের দিনগুলোতে ভিসা-সংক্রান্ত কিছু সমস্যা দেখা দিলেও, ইনফান্তিনো জানান যে যুক্তরাষ্ট্রকে আয়োজক করার সিদ্ধান্তে ফিফার কোনও অনুশোচনা নেই; উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। টুর্নামেন্টের টিকিটের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক এবং টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেলদের চলতি তদন্তের বিষয়টি নিয়েও ফিফা প্রধান কথা বলেন।

টিকিটের দাম নিয়ে ফিফা সমালোচনার মুখে পড়েছে; নিউ জার্সিতে ১৯ জুলাই ভারতীয় সময় ২০ জুলাই ফাইনাল ম্যাচের কিছু আসনের দাম ৮,৬৮০ ডলার পর্যন্ত রাখা হয়েছে। তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে সংস্থাটি সমর্থকদের জন্য জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক ৬০ ডলারের টিকিট বাজারে ছাড়ে।

ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেন যে, টিকিটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ফিফা তাদের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে সন্তুষ্ট এবং তারা এই তদন্তকে স্বাগত জানায়। ‘‘আমি এটুকু বলতে পারি যে, এ বিষয়ে আমরা বেশ নিশ্চিন্ত। কারণ, ৭০ লাখ টিকিট বিক্রি শুরুর আগেই আমরা সেরা আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আমাদের কর্মপদ্ধতি যাচাই করে নিয়েছিলাম,’’ তিনি বলেন।

ইনফান্তিনোর তথ্যমতে, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর জন্য ফিফা প্রায় ৮ লাখ টিকিট বিক্রি করেছে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে মাত্র চারটি অভিযোগ পেয়েছে। ‘‘ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর জন্য আমরা ৮ লাখ টিকিট বিক্রি করেছিলাম। এই ৮ লাখের মধ্যে মাত্র তিনজন ক্রেতা অভিযোগ করেছিলেন। এরপর চতুর্থ আরেকজন অভিযোগ নিয়ে এসেছেন,’’ তিনি বলেন।

‘‘তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই এসব বিষয়ের সুরাহা করা হয়েছিল। আমরা যে কোনও তদন্তকে স্বাগত জানাই। আমরা সব তথ্য তুলে ধরব এবং আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমাদের অর্জিত প্রতিটি ডলার যেন ফুটবলের উন্নয়নেই পুনরায় ব্যয় করা হয়,’’ বলেন তিনি।

ফিফা সভাপতি আরও উল্লেখ করেন যে, টুর্নামেন্টের টিকিটের গড় মূল্য ছিল ৫০০ ডলারের নিচে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ক্রীড়া লিগগুলোর প্লে-অফ ম্যাচের টিকিটের মূল্যের সঙ্গে তুলনীয়।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটি বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় শুরু হচ্ছে; ফুটবল ইতিহাসের এই বৃহত্তম টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আয়োজক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে সম্প্রসারিত এই প্রতিযোগিতাটি শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিফা। এ সময় সংস্থাটির প্রধান ইনফান্তিনো জানান যে, পর্দার আড়ালে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে; তবে তিনি এ-ও স্বীকার করেন যে, ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের হাতেই রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবসময়ই সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করি। তবে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে এবং সম্মান জানাতে হবে যে, আমরা বিশ্বের রাজা নই।’’

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *