ছবি: আইএসএল
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের বোধনের দিনে উত্তেজনা তৈরি হল নতুন ভাবে। ইরানের ফুটবল সমর্থকদের দেওয়া এক বার্তায়। তাঁদের সাফ বক্তব্য, ইরানের ফুটবল দল ও দেশের জাতীয় পতাকা ঘিরে কোনওরকম অপমানজনক প্রতিবাদ খেলার মাঠে হলে, বিশ্বকাপের ম্যাচ ভন্ডুল করতে উদ্যোগী হবেন। এতে আমেরিকা প্রশাসনের ওপর চাপ বেড়েছে। এর আগে অনেকবার আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ অন্যত্র সরানোর ইরান করলেও, তা কানে তোলেনি ফিফাও। উপরন্তু ইরানের ফুটবলারদের ভিসা দিতে প্রচন্ড দেরি করেছে। এমনকি ইরানের ১৫ জন প্রতিনিধি, কর্তা ও ফুটবল দলের সাপোর্ট স্টাফের ভিসা মঞ্জুর করেনি। শেষমুহূর্তে ইরানের ফুটবল সমর্থকদের খেলা দেখার টিকিটের কোটাও বাতিল করেছে। এর ফলে অনেক ইরান সমর্থক আমেরিকায় খেলা দেখতে যাওয়ার ট্রাভেল প্ল্যান ফাইনাল করার পর বিপদে পড়ছেন। এমনকি ইরানের ফুটবল দলকে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ম্যাচের আগে খেলার কেন্দ্রে পৌঁছে, ম্যাচ শেষেই তাদের মেক্সিকোর ট্রেণিঁ বেসে ফিরে যেতে হবে। সব মিলিয়ে একটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে রয়েছে।
এই হুমকি বা সতর্কবার্তাই বলুন, তা এসেছে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালির থেকে। তিনি সরাসরি ফিফার কাছে তাঁর এই বক্তব্য তুলে ধরেছেন। ইরান গ্রুপ জি-তে ১৫ জুন লস এঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। ২১ জুন লস এঞ্জলসের মাঠেই তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে সিয়াটেলে মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান।
ইরানের প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে দোনিয়ামালি বলেছেন, যদি খেলা চলাকালীন মাঠে ইরানের পতকার প্রতি কোনওরকম অবমাননাকর ঘটনা দেখা যায়, তাহলে ফুটবল দলের কর্তারা তৎক্ষনাত সেব্যাপারে শুধু প্রতিবাদ বা ফিফার অফিসিয়ালদের দৃষ্টিপাত করবেন না, বড় কোনও পদক্ষেপ নিতে তৈরি থাকবেন। তিনি বলেন, ‘ ফিফাকে জানিয়েছি, যদি মাঠে কেউ বা কারা বেসরকারি বা ইরানের স্বীকৃত নয়, এমন কোনও পতাকা নিয়ে মাঠে এসে ইরানের ফুটবল দল বিরোধী শ্লোগান দেন, তাহলে ইরানের ফুটবল ম্যানেজার ম্যাচ থামিয়ে মাঠ থেকে দল তুলে নিতে বাধ্য হবেন। আরও একটা বিষয়, ফিফার কাছ থেকে সিয়াটেলের মাঠে মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচে ইরান ফুটবল দলকে কোনওকম ঝামেলার মুখে পড়তে হবে না, এমন আশ্বাস পেয়েছেন ফিফার থেকে।’
ইরানে সিয়াটেলে ম্যাচ খেলা নিয়ে চিন্তার অন্যতম কারণ হল বিশ্বকাপের ম্যাচ ঘিরে ‘ প্রাইড ম্যাচ বিতর্কের’ কারণে। ইরান ও মিশরের মধ্যে ম্যাচটা সিয়াটেলের বাসিন্দারা ও স্থানীয় সংগঠকরা এটাকে ‘ প্রাইড ম্যাচ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রাইড উইকএন্ড সেলিব্রেশনের অঙ্গ হিসেবে। এখানেই আপত্তি ইরান ও মিশরের ফুটবল ফেডারেশনের। তারা যৌথভাবে ফিফাকে জানিয়েছে ম্যাচ চলাকালীন এলজিবিটি ও প্রাইড সংক্রান্ত কার্যকলাপ বন্ধ রাখতে। এনিয়ে আরও একদফা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানের ম্যাচ খেলা নিয়ে।
এর আগে এপ্রিলে ভ্যাংকুভারে ফিফা কংগ্রেস চলাকালীন প্রতিবাদকারী দল আওয়াজ তুলেছিল ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার জন্য। তাদের বক্তব্য ছিল, ইরানের মানুষের একটা দল নয়, এটা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের একটা প্রতিনিধি দল মাত্র। এখন দেখার ইরান ফুটবল দল ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ও নানা সমস্যা কীভাবে সামাল দেয় আমেরিকা প্রশাসন ও ফিফা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
