অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএফএ শিল্ডে অংশগ্রহণ করবে না মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, এটা একপ্রকার বলেও দেওয়া যায়, তাদের ভাবভঙ্গি দেখে। তাদের শিল্ডে না অংশগ্রহণের রাস্তা আরও জোরালো হয়েছে ডায়মন্ড হারবার এফসি চিঠি দিয়ে শিল্ডে না খেলার অক্ষমতার কথা জানানোয়। আর এক প্রধান মহমেডান এখনও পর্যন্ত কোনও চিঠি না দিলেও, তারা মোখিকভাবে আইএফএকে জানিয়েছে, শিল্ড খেলার মতো অবস্থায় নেই দল। একমাত্র ইস্টবেঙ্গলই শিল্ড খেলার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে কলকাতার চার বড় দলের মধ্যে।
এতে আইএফএ শিল্ডের জৌলুস অনেকটাই কমতে পারে, ভিন রাজ্য থেকে নামী দল এনে এই জায়গাগুলো পূরণ করতে না পারলে। আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত সেই বিকল্প পথ খোলা রাখছেন, একযোগে কলকাতার তিন বড় দল মোহনবাগান, মহমেডান, ডায়মন্ড না খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে।
ডুরান্ডের পর ইস্টবেঙ্গলের সিনিয়র দলের সামনে কোনও খেলা ছিল না। সুপার কাপ ২৫ অক্টোবর শুরু হবে ধরে নিয়ে লাল হলুদ ব্রিগেড ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুঁজো শিল্ডকে সুপার কাপের ম্যাচ প্র্যাকটিস হিসেবে নিয়ে দলটাকে গোছাতে চাইছেন। যাতে সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু প্লেঅফ খেলার সুযোগ এসে যায়। উপরন্ত শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হলে লাল হলুদের ঘরে কলকাতা লিগের পর আরও একটা ট্রফি এসে যাবে।
সেখানে ডায়মন্ড হারবারের সামনে এখন কোনও লক্ষ্য নেই। কারণ তারা সুপার কাপে খেলার ডাক পাবে না। আইলিগের ম্যাচ কবে হবে তা জানা নেই। ফেডারেশন সুপার কাপ ও আইএসএল নিয়ে এতটাই ঘেঁটে আছে, আইলিগ লিগ নিয়ে আপাতত ভাবতেই পারছে না। তাই ডায়মন্ড হারবার কর্তারা ফুটবলারদের শুধু শুধু আটকে রেখে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার কোনও মানে খুঁজে পাননি। কোচ কিবু ভিকুনাও মনে করেন, আইলিগের সূচী ঘোষণা হওয়ার পরই ফুটবলারদের প্রস্তুতির জন্য ডেকে নিলেই হল। এখন ফুটবলারদের ছেড়ে দেওয়াই ভাল।
তাই করেছে ডায়মন্ড হারবার। ফুটবলারদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি দিয়েছে। সেটাই উল্লেখ করে ডায়মন্ড কর্তারা আইএফএ সচিবকে জানিয়েছেন, ফুটবলারদের আগেই ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছিল। তাই এইমুহূর্তে শিল্ডে খেলা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ডায়মন্ডের সঙ্গে সুর মিলিয়ে মহমেডান কর্তারাও বলেছেন, তাঁদের ফুটবলারদের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে। ফুটবলাররা সেইমতো সকলেই বাড়ি চলে গেছেন। এখন তাঁদের ফেরানো সম্ভব নয়। তাঁদের আবার অনুশীলনে ডাকা হবে সুপার কাপের সূচী দেখে। আসলে মহমেডান এখন স্পনসরের অভাবে আর্থিকভাবে এতটাই ধুঁকছে, তারা ফুটবলারদের ওপর কোনও বাড়তি চাপ দেওয়ার জায়াগায় নেই।
আর নানা কারণে আইএফএর ভূমিকায় অখুশি মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে রাজি নয়। তাই শিল্ড অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাদের তো যুক্তি খাড়াই করা আছে। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র ম্যাচ খেলতে তারা ব্যস্ত। তার সঙ্গে রয়েছে সুপার কাপ। তাই তার মাঝে শিল্ড খেলে নিজেদের চোট বাড়াতে, এসিএল টুর প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটাতে নারাজ।
তবে কি শিল্ড হবে নিতান্তই জৌলুসহীন? আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত তিন বড় দলের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরও তেমন মনে করেন না। বলেন, ‘ আমি সবসময় আশাবাদী। চেষ্টা করছি মহমেডানকে রাজি করাতে। বাকিদেরও আবার অনুরোধ জানাব। তবে একান্তই ওদের না পাওয়া গেলে অন্য নামী দল এনে শিল্ড জাঁকজমকের সঙ্গে করার উদ্যোগ নেব। তা নিয়ে কাজ চলছে। সময়মতো সব জানাব।’ শোনা যাচ্ছে আইলিগের ভিন রাজ্যের কয়েকটি দলের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে আইএফএ শিল্ড খেলার জন্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
