Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

‌ভারতআফগানিস্তান

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ কাফা নেশনস কাপে হিসোর স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে অত্যন্ত সাদামাটা, সেফ ফুটবল খেলে গোলশূণ্য ড্র করল ভারতীয় ফুটবল দল। সেই ফলের সুবাদে ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় প্লেঅফের তৃতীয়-‌চতুর্থ স্থান নির্ণায়ক লড়াইয়ের সুযোগ পেল খালিদ জামিলের ব্রিগেড। ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের খেলা শেষ করেও ভারতীয় দলকে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল ইরানের বিরুদ্ধে আয়োজক তাজিকিস্তান যেন না জেতে তার জন্য। তাজিকিস্তান ২ গোলে ইরানের কাছে পিছিয়ে পড়ে ২ গোল দিয়ে ম্যাচ ড্র করলেও প্লেঅফে যেতে পারল না। ৪ পয়েন্ট পেলেও হেড টু হেডে ভারতই গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে প্লেঅফে গেল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই নিয়ে শেষ তিনটি সাক্ষাতের একটিও জিততে পারল না ভারত।

ভারতীয় কোচ খালিদ জামিল বরাবরই ঝুঁকিহীন ফুটবল খেলা পছন্দ করেন। আর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যে সেটা বেশিই দেখা যাবে, বুঝতে অসুবিধা হয়নি চোট পাওয়ার কারণে স্টপার পজিশনে সন্দেশ ঝিঙ্গান না থাকায়। খালিদ জানতেনই, ম্যাচ ড্র রাখতে পারলে ভারতের তৃতীয়-‌চতুর্থ স্থানের জন্য লড়াইয়ের সম্ভাবনা জিইয়ে থাকবে। কারণ গ্রুপের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইরান ও তাজিকিস্তান। অঘটন কিছু না ঘটলে ইরানের হারের সম্ভাবনা কম তাজিকিস্তানের কাছে। তাই ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লেঅফ খেলার রাস্তাটা খোলা থাকবে আফগানিস্তান ম্যাচে ১ পয়েন্ট পেলে। সুতরাং তাজিকিস্তান ম্যাচের মতো শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলার পথে হাঁটেননি ভারতীয় কোচ। বরং খানিকটা সাবধানী ফুটবলই বেছে নেন।

ইগর স্টিমাকের কোচিংয়ে প্রিওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২টো ম্যাচেই ভারত জিততে পারেনি। বাইরের মাঠে ড্র করেছিল। ঘরের মাঠে গুয়াহাটিতে অপ্রত্যাশিত হারের মুখে পড়ে। তাই মুখে ম্যাচ জেতার জন্য ঝাঁপানোর কথা বললেও, ভারতীয় কোচ খালিদের স্ট্র‌্যাটেজিতে অতিরিক্ত কিছু না করে হার বাঁচিয়ে ১ পয়েন্ট পাওয়ার প্রবণতাই বেশি চোখে পড়ে খেলার ধরনে। রক্ষণ জমাট রেখে প্রয়োজন মতো প্রতিআক্রমণে গিয়ে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান বক্সে হানা দেওয়া।

সন্দেশের অভাব যাতে অনুভূত না হয়, তাই রক্ষণ সংগঠন মজবুত করেন ব্যাক ফোরে রদবদল এনে। গত ২ ম্যাচে স্টপারে আনোয়ারের জুটি ছিলেন সন্দেশ। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সন্দেশের জায়গায় আনোয়ারের পাশে স্টপারে রাহুল বেকেকে নিয়ে আসেন খালিদ। লেফট ব্যাকে উভেসকে রেখে, ভালপুইয়াকে রাইট ব্যাকে আনেন তিনি। খালিদের ৪-‌৪-‌২ ছকে মহেশ, সুরেশদের মাঝমাঠে খেলাটা নতুন কিছু নয়। তবে আশিককে মিডফিল্ডে খেলানোর পেছনে কী যুক্তি আছে, বোঝা গেল না। আশিক দুটো পজিশনে সাচ্ছন্দ বোধ করেন, হয় একবারে স্ট্রাইকিং পজিশনে, নইলে লেফট উইংয়ে।

ফলে ভারতের মাঝমাঠ কোনওসময় দানা বাধেনি প্রথমার্ধে। সামনে ইরফান বা উইংয়ে জিতিনকে কোনওসময় কার্যকরী কোনও ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। পুরো ম্যাচে ভারত গোলের একটাও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং আফগানিস্তানের আধিপত্য ছিল বেশি। তবে ভারতীয় রক্ষণ ও গোলকিপার সতর্ক থাকায় কোনও বিপদ ঘটেনি। ২৪ মিনিটে গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল আফগানিস্তান । বক্সের বাইরে থেকে পানাহির শট ঝাঁপিয়ে রোখেন গুরুপ্রীত। ফিরতি বল গোলে রাখতে পারেননি হানিফি।

প্রথমার্ধের শেষদিকে ইরফান ও আশিক হলুদ কার্ড দেখায়, তাঁদের আর দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে রাখার ঝুঁকি নেননি কোচ খালিদ। তাঁদের জায়গায় আনেন মনবীর জুনিয়র ও বিক্রমপ্রতাপকে। এতে খানিকটা হলেও আক্রমণভাগে বাড়তি সচল ভাব চোখে পড়েছিল। তবে তা যথেষ্ট ছিল না গোল তুলে নেওয়ার জন্য। ফলে আফগানিস্তান আক্রমণ শানানোর সুযোগ পেয়ে যাচ্ছিল। ৭০ মিনিটে জামানির মাইনাসে বক্সের মাঝ থেকে নেওয়া ইয়ামা শেরজাদের শট গোলকিপার গুরপ্রীতের হাত ছুঁয়ে ক্রশপিসে লেগে না ফিরলে, ভারতকে পিছিয়ে পড়তে হত। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে গুরপ্রীতের দুরন্ত ফর্ম ভারতকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

৮০ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি বদল আনেন খালিদ দলে তাজা ভাব বজায় রাখতে। সুরেশ, জিতিন ও মহেশকে তুলে নামান দানিশ, উদান্তা ও ছাংতেকে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে বাকি সময় কাটিয়ে দেয় ভারত ম্যাচ ড্র রাখতে। তবে জিতে থাকলে, ইরান ও তাজিকিস্তান ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত না, প্লেঅফে তৃতীয়-‌চতুর্থ স্থানের ম্যাচ খেলার জন্য।

ভারত:‌ গুরপ্রীত, ভালপুইয়া, বেকে, আনোয়ার, উভেস(‌রোশন)‌, নিখিল, সুরেশ(‌দানিশ)‌, মহেশ(‌ছাংতে)‌, আশিক(‌বিক্রমপ্রতাপ)‌, জিতিন(‌উদান্তা)‌, ইরফান(‌মনবীর, জুনিয়র)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...