Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ কাফা নেশনস কাপের শিবিরে ও ভারতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট তাদের ফুটবলারদের ছাড়েনি। ফিফা উইন্ডোতে টুর্নামেন্ট নয়, একইসঙ্গে তাদের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র খেলা আছে, এই যুক্তিতে। তা নিয়ে অবশ্য কান্নাকাটি জুড়ে দেননি সেইমুহূর্তে সদ্য জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়া ভারতীয় দলের নতুন কোচ খালিদ জামিল। বরং মোহনবাগান ফুটবলারদের ছাড়াই কাফা নেশনস কাপে অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

এবার খালিদ জামিলের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। ৯ অক্টোবর অ্যাওয়ে ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের ম্যাচ রয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের। সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ফিরতি ম্যাচ ১৪ অক্টোবর গোয়ার মাঠে। এই দুটি ম্যাচ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখার জন্য প্রচন্ড গুরুত্বপূর্ণ। একথায় মাস্ট উইন সিচুয়েশন বললেও ভুল হবে না। সেটা মাথায় রেখেই বেঙ্গালুরু জাতীয় শিবিরে ৩০ জন ফুটবলারকে ডেকেছেন কোচ খালিদ জামিল। আগের অভিজ্ঞতা থেকে মোহনবাগান ফুটবলারদের ডাকেননি খালিদ। কিন্তু যাঁদের ডেকেছেন, তাঁদের মধ্যে ইস্টবেঙ্গলের ৩, বেঙ্গালুরুর ৭ ও পাঞ্জাব এফসির ৪ জন ফুটবলার এখনই শিবিরে যোগ দিচ্ছেন না। ক্লাবগুলোর তরফে জানানো হয়েছে, তাদের ফুটবলারদের শিবিরে যোগ দিতে এমাসের শেষ বা পরের মাসের শুরু হয়ে যাবে।

এর অর্থ নতুন করে ডাকা ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজ ও আশির আখতারকে নিয়ে মোট ১৮ জন ফুটবলার নিয়ে সিঙ্গাপুর ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করবেন ভারতীয় কোচ খালিদ। মোহনবাগান বা গোয়ার তাও ফুটবলার না ছাড়ার পেছনে কিছু সঙ্গত যুক্তি আছে, কিন্তু যাদের সামনে কোনও খেলাই নেই, তাদের ফুটবলার না ছাড়ার কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে এক্ষেত্রেও খালিদ কোনও অভিযোগ অনুযোগের পথে হাঁটছেন না। বরং যাঁদের পাবেন, তাঁদের নিয়েই সিঙ্গাপুর ম্যাচ জেতার জন্য ঝাঁপাবেন। বলেই দিলেন ফেডারেশনের ডাকা সাংবাদিক সম্মেলনে, কাফা নেশনস কাপে সাফল্য এসেছে দলগত সংহতি, ফুটবলারদের পরিশ্রম, একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও জোসের কারণে। এবারও সিঙ্গাপুর ম্যাচে সেই মনোভাব নিয়েই ফুটবলাররা লড়বে দেশের সম্মানের কথা মাথায় রেখে। ভারতীয় ফুটবলের মর্যাদার কথা মাথায় রেখে ক্লাবগুলোর কাছে ফুটবলার ছেড়ে সহযোগিতার দেখানোর আবেদন রাখছি। আশা করি, সেটা পাব। তবে কারা শিবিরে পরে যোগ দেবে, তা ভেবে বসে থাকব না। যদি পরে যোগ দেয় ভাল, নইলে যাদের পাব, তাদের নিয়েই লড়ে যাব। সিঙ্গাপুর ভাল দল। লড়াইটা সহজ হবে না। বিশেষ করে ওদের মাঠে। ওরা জানে কাফা নেশনস কাপে তাজিকিস্তান ও ওমানের মতো দলকে হারিয়ে আমরা ব্রোঞ্জ জিতেছি। তাই সিঙ্গাপুর সর্বশক্তি নিয়েই আমাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপাবে। আমাদের সতর্ক হয়ে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করতে হবে বাড়তি প্রত্যাশার চাপ নিয়ে।’‌

কাফা নেশনস কাপে কোনও স্ট্রাইকার নয় গোল করেছিলেন দুই ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গান, আনোয়ার আলি ও মিডফিল্ডার উদান্তা সিং। কাফার ভারতীয় দলে সুনীল ছেত্রী ছিলেন না। সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে সুনীলকে আবার দলে ফেরালেন কী ভেবে?‌ অনূর্ধ্ব ২৩ ভারতীয় দল বা অন্য নবীন প্রতিভাবান স্ট্রাইকারদের ওপর কি ভরসা রাখা যাচ্ছে না?‌ খালিদের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ তা কেন?‌ এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের সিনিয়র মঞ্চ আর অনূর্ধ্ব ২৩ মানের মধ্যে অনেকটা তফাৎ। নবীন ফুটবারদের সুযোগ মতো তুলে আনতে হবে। কিন্তু এইমুহূর্তে পরীক্ষার বিশেষ জায়গা নেই। তাই সুনীলের মতো অভিজ্ঞ একজন ম্যাচ উইনার স্ট্রাইকার দলে থাকা জরুরি। সুনীলকে সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে দলে ফেরানোটা পরিকল্পনার মধ্যেই ছিল। গোলকিপার গুরপ্রীতও তো একবছরের বেশি জাতীয় দলের বাইরে ছিল। কাফা নেশনস কাপে জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরে নিজের দক্ষতা তুলে ধরেছে, ম্যাচ জিতিয়েছে। সুনীলের মধ্যেও এখন অনেক স্পার্ক বাকি আছে।’‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *