অলস্পোর্ট ডেস্ক: সেনা বাহিনীর হাতে কারটেল লিডার ‘এল মেনচো’র প্রাণ যাওয়া কেন্দ্র করে গুয়াদালজারা ও তার আশেপাশের শহরগুলোতে তান্ডব চালিয়েছিল ‘এল মেনচো’র অনুরাগীরা। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ও নানা ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রাণ গেছে ৭০ জনের বেশি মানুষের। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ও লুঠ হয়েছে শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে। বাস, গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। রাস্তা অবরুদ্ধ। এর ফলে গুয়াদালজারা ও আশেপাশের শহরে দাঙ্গার প্রভাব পড়া অঞ্চলগুলির স্কুল ও অন্যান্য কাজকর্ম বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিশাল সংখ্যায় সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাঙ্গাবাজদের অনেককে। আকাশে উড়ছে ড্রোন কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনার সন্ধান পেতে। এমন একটা অবস্থাতে বিশ্বের বহু মানুষ মেক্সিকোয় ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন আদৌ সম্ভব কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফিফা শুরুতে এনিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তারা গোটা ব্যাপারটার দিকে নজর রেখে চলছিল। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবুম অবশ্য বিবৃতি দিয়ে দেশবাসীকে এই কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন। কোনওরকম ঝামেলায় জড়াতে নিষেধ করেছিলেন। কেউ নিয়ম ভাঙলে , তা কড়া হাতে দমন করা হবে, এমনটাও বলেন। একইসঙ্গে মেক্সিকোবাসীকে আশ্বস্ত করেন, বিশ্বকাপের সব খেলা সময়মতো তাঁর দেশেই হবে।
তারপরই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মুখ খুলেছেন কলম্বিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে। বলেছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি যেমনই থাক, তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনে কোনও সমস্যা হবে না। ইনফান্তিনোর কথায়,‘ হ্যাঁ, আমরা গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছি। কিন্তু মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবুম যেভাবে সবকিছু সামলাচ্ছেন, তাতে আমি নিশ্চিত মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে ফুটবল সমর্থকদের কোনও বাধা বিপত্তির মধ্য পড়তে হবে না।
রবিবার থেকে জরুরি অবস্থা চলছে জালিস্কো রাজ্য জুড়ে। যার মধ্যে আছে গুয়াদালজারাও। মেক্সিকো সিটি, মনটেরে, গুয়াদালজারা মিলিয়ে ১৩ টি বিশ্বকাপের হাইপ্রোফাইল ম্যাচ রয়েছে ওই শহরের স্টেডিয়ামগুলোয়। এমনকি সামনের মাসেই জালিস্কো এস্তাদিও আকরনে ফিফা ২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একাধিক প্লেঅফ ম্যাচ রয়েছে। তাছাড়া বিশ্বকাপের মূল পর্বের ৪টি ম্যাচ হবে ওই স্টেডিয়ামে।
জালিস্কোর গভর্নর অবশ্য প্রেসিডেন্ট শিনবুম ও ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলেছেন, ‘ মেক্সিকোতে সামনের মাসেই বিশ্বকাপের প্লেঅফ ম্যাচ আছে। তার জন্য আমরা তৈরি। নতুন আজটেকা স্টেডিয়ামের সময়মতো উদ্বোধনও হবে। মেক্সিকো ফুটবেলর দেশ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। এর আগে দু’বার সফলভাবে বিশ্বকাপের আয়োজন হয়েছে এদেশে। আমরা চাঁদে বা অন্য গ্রহে বাস করি না। এখানে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী সবই আছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা আমাদের সকলের কর্তব্য, দায়িত্ব। আমরা সেটা করছি।’
মেক্সিকো সিটিতে একটা ও গুয়াদালজারাতে আর একটা বিশ্বকাপের ম্যাচ রয়েছে কলম্বিয়ার। এনিয়ে কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট রামন জেসুরান বলেছেন, ‘ আমাদের প্রথম ২টে ম্যাচ রয়েছে মেক্সিকোতে। আশা করব, মেক্সিকো বর্তমান সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। এই অঞ্চলের সমস্যা সম্পর্কে আমার জানা আছে। তাই বাড়তি উদ্বিগ্ন নই। দলের খেলা নিয়ে বেশি ভাবছি।’
তবে অনান্য অনেক দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মেক্সিকোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, মার্চে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে অনুষ্ঠেয় ফ্রেন্ডলি ম্যাচ রয়েছে তাদের। সেটা খেলবে কিনা, সেটা ঠিক করবে সর্বশেষ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। ২৬ মার্চ বিশ্বকাপের ইন্টারকন্টিনেন্টাল সেমিফাইনালে গুয়াদালজারার মাঠে জামাইকার মুখোমুখি হওয়ার কথা নিউ ক্যালেডোনিয়ার। ওই ম্যাচের বিজয়ী দল বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পটের জন্য কঙ্গোর মুখোমুখি হবে। এই দুই দেশের ফেডারেশনের সাফ বক্তব্য, ম্যাচটা মার্চের শেষে আছে। ততদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলেই ভাল। তারা কনকাকাফ ও ফিফার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবে এব্যাপারে। যদি তারা ম্যাচের স্থান বদলায়, তাহলে সেখানে খেলবে।
মেক্সিকোর আর এক শহর মন্টেরেতে সুরিনামের বিরুদ্ধে প্লেঅফে অংশ নেবে বলিভিয়া। তাদের বিজয়ী দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে লড়বে ইরাকের বিরুদ্ধে। এই শহরে ম্যাচ হতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য এখন থেকেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে প্রশাসন। মেক্সিকোর সম্মানরক্ষার প্রশ্নটা যে এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে শিনবুম সরকারের কাছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
