অলস্পোর্ট ডেস্ক: গোটা বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ফিফার কাছেও প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন শুভবুদ্ধিমান সম্পন্ন মানুষ। ইরানের প্রশাসকদের বর্বরোচিত আচরণের জন্য। শুনলে শিউরে উঠবেন। ফিফা ২০২৬য়ে বিশ্বকাপে যোগ্যতার্জনকারী নিজের দেশের ফুটবলারদের নৃশংসভাবে খুন করতে দ্বিধাবোধ করছে না ইরানের শাসনের দায়িত্বে থাকা লোকজন। এই পরিস্থিতিতে ফিফার কড়া হস্তক্ষেপ চাইছেন ইরানের ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। তাঁরা চান এই ধরনের ফুটবলার হত্যা এখনই বন্ধ হোক।
বর্তমানে দু’জন ফুটবলার বন্দী রয়েছেন ইরানের জেলে। সেখানে বসে মৃত্যুর দিন গুনছে। তাঁদের মৃত্যুদন্ডের আদেশ জারি করেছে ইরানের সরকার। এঁরা হলেন, ১৯ বছর বয়সী সেপাহান ইসপাহান ক্লাবের স্ট্রাইকার আমির গাডারজাদা ও ২৬ বয়সী পার্সিপোলিস দলের ফুটবলার মহম্মদ হোসেন। এঁদের ফুটবল খেলার ওপর আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ইরান প্রশাসন। দিনের পর দিন এই ধরনের অত্যাচার ও হত্যার শিকার হচ্ছেন ইরানের ফুটবলার ও অন্যান্য অ্যাথলিটরা। বিশেষ করে নবীন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের প্রতি এদের আক্রোশ বেশি।
ইরানের ফুটবলাদের পাশাপাশি অফিসিয়ালদেরও খুনী প্রশসন ছেড়ে কথা বলছে না। মাত্র ১৭ বছরের ফুটবলার রবিন মোরাদিকে নির্দয়ভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে তেহরানের মাটিতে। মহিলা ফুটবল রেফারি সাবা রাস্তিয়ান ও ইরান বিচ সকার টিমের খেলোয়াড় মহম্মদ হাজিপুরের পরিণতিও এক। ইরান অনূর্ধ্ব ২৩ দলের ম্যানেজার ওমিদ রাভানখা দেশে ফেরা মাত্র তাঁর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়। তাঁর অপরাধ ছিল, তিনি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। আর সৌদি আরবে অনূর্ধ্ব ২৩ এশিয়ান কাপের সময় তাঁকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে দেখা যায়নি। দেশে ফেরার পর থেকে তাঁর আর কোনও হদিশ নেই। বেঁচে আছেন কিনা যথেষ্ট সন্দেহ।
ইতমধ্যেই ইরানের একাধিক ফুটবলার ফিফার হস্তক্ষেপ চেয়েছে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে, কিন্তু ফিফা বা ফিফপ্রো তাঁদের সেই আবেদনে কোনও সাড়া দেয়নি। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন সকলেই। বিশেষ করে ফিফার ওপর তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁদের মতে, মুখে ফুটবলের প্রচার ও প্রসারের কথা বলে বেড়ানো ফিফা ইরানের অসহায় ফুটবলারদের ব্যাপারে আশ্চর্যরকম নীরব। কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগ্রহই দেখাচ্ছে না। এমন বিশ্বকাপ করার প্রয়োজন কী, যেখানে রোজই কোনও না কোন ফুটবলার ইরানের খুন হচ্ছে।
ইরানের নামী আন্তর্জাতিক তারকা, বায়ার্ন মিউনিখ ও এশিয়ার বর্ষসেরা ফুটবলার আলি করিমি দেশের খেলোয়াড়দের এই মর্মান্তিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি ইরানের শাসকদের এই খুনী আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে ফিফার কাছে চিঠি লিখেছেন প্রতিকার চেয়ে। লিখেছেন,‘ ফিফা এভাবে চুপ করে বসে থাকতে পারে, তার সদস্যভুক্ত দেশের ফুটবলারদের প্রাণ হারাতে দেখে। শুধু ফুটবলাররাই বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার অভিযোগ হাজার হাজার অ্যাথলিটের প্রাণ সংশয় হয়েছে। জেলে পচছে হাজার খেলোয়াড়।’ এখনও পর্যন্ত শাসকবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। এটা তো সরকারি হিসেব। তার বাইরে আরও কত আছে জানা নেই।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
