Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ বেশিদিন হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা ছেড়ে নিজের দেশে ফিরতে চাননি ইরানের মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জারা ঘানবারি সহ ৭ ফুটবলার ও এক কর্তা। দেশে ফিরলে প্রাণহানি হতে পারে এই আশঙ্কায়। আসলে টুর্নামেন্টে র প্রথম ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার কারণে টিভি সঞ্চালক ইরান সরকারের নাম করে ফুটবলারদের হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, দেশে ফিরতে তাঁদের জন্য চরম শাস্তি অপেক্ষা করে আছে। এতে ভয় পেয়ে গিয়ে ঘানবারি ও দলের বাকি ৬ সদস্য দেশের না ফিরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন।

তাঁদের কথা শুনে ওই সদস্যদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। কিন্তু তারপর থেকেই আসল চাপের খেলা শুরু করে ইরান সরকার। তলায় তলায় ওই ফুটবলারদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি থেকে আরও নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সুকৌশলে। যার মধ্যে ছিল ইরানে থাকা ফুটবলারদের যাবতীয় সম্পত্তি দখল।

সেই চাপের মুখে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন ইরান মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জারা ঘানবারি সহ ৫ সদস্য। দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ইরানের আইনি সেল জানিয়েছে, মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ঘানবারির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়েছিল ইরান সরকার। তবে ঘানবারি অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনকে ঘানবারির সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে বলেছে আদালত। এই খবর পরিবেশন করেছে ইরানের মিজান সংবাদসংস্থা।

এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ইরান সরকার ঘানবারির আচরণকে নির্দোষ বলার পর। তার আগে অস্ট্রেলিয়াকে দায়ি করেছিল ইরান, তার ফুটবলারদের ভুল বুঝিয়ে আশ্রয় দেওয়ায়। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ৬ ফুটবলার ও এক সাপোর্ট স্টাফের গায়ে বিশ্বাসঘাতক তকমা এঁটে দেওয়ায়। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশে ওই ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফের যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেয়। ফিফা অবশ্য ইরান সরকারকে সাফ জানিয়েছিল, দেশে ফেরার পর ফুটবলারদের সঙ্গে যদি এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যেটা মানবিক, তাহলে ইরানের ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে তারাও কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

তবে দেশের ফেরার পর ইরানের মহিলা ফুটবলারদের সঙ্গে কোনও অমানবিক আচরণ করেনি সেদেশের সরকার। বরং তাদের রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর একটা কারণ অবশ্য অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার পর ফুটবলারদের সেই সিদ্ধান্ত প্র‌ত্যাহারে সারা বিশ্বের নজর ইরানের ওপর থাকায়।

এই মাসের শুরুতে ইরানের মহিলা ফুটবলার মোনা হামুদি ‘‌ আল জারিরা’‌ প্রচারমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘‌ প্রবল চাপের মুখে আমাদের অস্ট্রেলিয়া রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হয়েছিল। বুঝেছিলাম, আমার একটা ভুল সিদ্ধান্ত আমার ও আমার পরিবারের ওপর কী ধরনের অভিশাপ নেম আসতে পারে। তাই খুব ভেবেচিন্তে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দেশে যুদ্ধের পরিবেশ, হুমকিতে ইরানে ফেরা ঠিক হবে, না অস্ট্রেলিয়ার নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে যাব, এনিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম মনে মনে। দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়ে গিয়েছিল। কারণ জানতাম আমার একটা সিদ্ধান্ত অনেক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে সবদিক থেকে।’‌

এখনও ইরানের এক মহিলা ফুটবলার ও এক সাপোর্ট স্টাফ দেশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে গেছেন। সেখানকার ক্লাব ফুটবলের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন। তাঁদের বাজেয়াপ্ত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি ইরানে কী অবস্থায় আছে, সেটা তাঁরাই ভাল বলতে পারবেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *