অলস্পোর্ট ডেস্ক: একটা গুঞ্জন ছিলই। বর্তমান যুদ্ধের আবহে ইরানের ফুটবল দল ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। বুধবার ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘাতক আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবল দল বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না।
এমনিতেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের মিলিত আক্রমণের মুখে ইরান ক্ষোভে ফুঁসছিল। বিমানহানায় হাজার হাজার ইরানের মানুষের প্রাণ গেছে। ইসলামিক রিপাব্লিকের সুপ্রিমো আয়াতুল্লা খোমেইনি প্রাণ হারিয়েছেন সেই হামলায়। তারওপর এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপে নিজেদের খেলা শেষে ইরানের মহিলা দলের ৫ ফুটবলার প্রাণভয়ে অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয় নিয়েছেন। যেটা ইরানের পক্ষে বেশ অপমানজনক। কারণ তারা মনে করে, আমেরিকা ও ইজরায়েল অণ্যায়ভাবে তাদের ওপর যখন আক্রমণ চালিয়ে মানুষ মারছে, তখন তার প্রতিবাদ না করে, এই ধরনের ঘটনাকে প্রশ্রয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রকান্তরে আমেরিকার আচরণকেই সমর্থন জানাচ্ছে।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী দোনিয়ামালি রাজ্যের টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘ যে দেশের অত্যাচারী, দুষ্ট সরকার আমাদের দেশের লিডারকে হত্যা করেছে, সেই দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের দেশের বাচ্চারা নিরাপদ নয়। যেধরনের ঘৃণ্য আচরণ আমেরিকা করেছে, দুটো যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করেছে গত আট থেকে নয় মাস ধরে, এবং হাজার হাজার মানুষকে খুন করেছে, সেখানে আমাদের উপস্থিত থাকা অনুচিত।’ ইরানের ইউনাইটেড নেশনসের দূত আমির সৈয়দ ইরাভানির কথা অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৩০০ জন ইরানের নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিমানহানায়।
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপে আছে বেলজিয়াম, মিশর, নিউজিল্যান্ড। ইরানের সব ম্যাচ রয়েছে আমেরিকার মাটিতে, দুটি লস এঞ্জেলস ও একটি সিয়াটেলে। গতবছর মার্চে এশিয়া যোগ্যতানির্ণায়ক পর্বে আধিপত্য দেখিয়ে মূল পর্বে খেলার সুযোগ করে নিয়েছিল ইরান। কিন্তু বিশ্বকাপ ড্রয়ের সময় থেকেই বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে একটা চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল ইরানের ফুটবল কর্তাদের মধ্যে। ইরানের কর্তারা ড্রয়ে হাজির থাকতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে একটা সংশয় ছিল। তবে সেটা সেইমুহূর্তে মিটে গেলেও, পরবর্তী সময় আমেরিকায় ইরানের দর্শকরা প্রবেশের অনুমতি পাবেন কিনা, তা নিয়ে একটা সংশয় থেকেই গিয়েছিল।
তবে ইরানের ওপর মারণ হামলা চালালেও, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎই খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব দেখিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্ন ইনফান্তিকো বলেন, যুদ্ধের ব্যাপারটা আলাদা। তার সঙ্গে খেলার কোনও সম্পর্কে নেই। তাই আমেরিকায় ইরানের ফুটবল দল ও দর্শকরা স্বাগত। ট্রাম্পের এই কথাতেই মনে হয়, আরও চটেছেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী। তবে ইরানের বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি নিয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি মেহদি তাজের গলাতেও এক সুর। বলেছেন, ‘এই অবস্থায় বিশ্বকাপে দল পাঠানোর মতো মানসিক অবস্থা কারও নেই।’
ফিফার নিয়ম বলছে, কোনও দল যদি বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে ৩০ দিনের মধ্যে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে ৩২০৮০০ মার্কিন ডলার জরিমান হবে ন্যুনতম। এর সঙ্গে নির্বাসনের শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ফিফা ঠিক করবে, পরবর্তী কতগুলো টুর্নামেন্ট থেকে সেই দলকে অংশগ্রহণে বিরত রাখবে। ইরান না খেললে তার জায়গায় বিকল্প দলকে নেওয়া হবে। যা ইতিমধ্যেই ভেবে রেখেছে ফিফা। সেটা সরাসরি ইরানের গ্রুপে র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকা দল হতে পারে, যারা যোগ্যতার্জন করতে পারেনি। নইলে প্লেঅফ খেলা দলের মধ্যে থেকেও কাউকে নেওয়া যেতে পারে।
ইরান বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারবে বলে টুসকোনের কিং স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বেস ক্যাম্পের ব্যবস্থা করে ফেলেছিল। এখন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলে সেই ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। ইরানের বহু ফুটবল পাগল মানুষ নিজের দলের পাশাপাশি বিশ্বকাপে অন্য ম্যাচ দেখবেন বলে চড়া দামের টিকিট কিনেছিলেন। এখন ইরান না খেললে, তাঁদের মধ্যে টিকিট বিক্রির হিড়িক পড়ে যাবে। অবশ্য এতে লাভই হবে তাঁদের আর্থিক দিক থেকে। কারণ এখন তাঁদের কাছে থাকা টিকিটগুলো অন্যরা বেশি দাম দিয়ে কিনতে চাইবেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
