মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ছোটখাটো চেহারার মানুষ, কিন্তু বড় মনের মানুষ। হাসিখুশি, প্রাণখোলা। শনিবার সকালে একান্ত আলাপচারিতায় ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগ ও দূরদর্শিতার দিকটা অকপটে তুলে ধরলেন কথা কথায়। তিনি জামশেদপুর এফসির সিইও মুকুল চৌধুরি। টাটা স্পোর্টসের শীর্ষ কথার মনোভাব থেকে বুঝতে অসুবিধা হল না, শুধু লাভের কথা না ভেবে ফুটবলের ভালবাসায় দেশকে নতুন নতুন প্রতিভা উপহার দেওয়ার ব্রতে মজে মকুল চৌধুরি।
চলতি আইএসএল শুরু হওয়া নিয়ে একটা ঘোর অনিশ্চয়তা ছিল। অন্যান্য ক্লাব যখন ফেডারেশনের সামনে নানা প্রশ্ন তুলছিল বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে আইএসএল খেলা নিয়ে, তখন প্রথম থেকেই আপনি বলে এসেছেন, যাই হোক, জামশেদপুর এফসি আইএসএল খেলতে রাজি। আপনি আর নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের অন্যদের স্রোতে গা ভাসাননি। কেন? মুকুলের উত্তর, ‘ দিনের শেষে আমাদের লক্ষ্য ফুটবল খেলা। জানি সমস্যা আগেও ছিল, পরেও থাকবে। এতদিন আইএসএলের আয়োজক ছিল রিলায়েন্স। এবার দায়িত্বে ফেডারেশন। হাজার হলেও ফেডারেশন আমাদের পেরেন্ট বডি, অভিভাবক বললে ভুল হবে না। ফেডারেশনের কাছে ক্লাবগুলোর প্রত্যাশা থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ফেডারেশনকে সহযোগিতা করা, শুধু বিরোধিতার করার জন্যই বিরোধিতা করা নয়। আগেও আমরা ফুটবল ইকোসিস্টমের অঙ্গ ছিলাম, এখনও তাই। অংশগ্রহনকারী ক্লাব ছিলাম, লিগের মালিকানা ছিল না ক্লাবের। সেটা বদলায়নি। আর ফেডারেশনের তো আমাদের মত পোষণের সুযোগ দিচ্ছে। এর আগে যারা দায়িত্বে ছিল, তারা তো সে সুযোগই ক্লাবগুলোকে দিত না। মনে রাখতে হবে লিগটা আমাদের। একটা ফুটবল ইকো সিস্টেমে মধ্যে লিগ শক্তিশালী হলে ক্লাবগুলিরই লাভ। তার জন্য সকলে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’
মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডানের ঐতিহ্যকে সম্মান করেই মুকুলের বক্তব্য, ‘ তিনটেই সমর্থকদের ক্লাব। তাই দলের দায়িত্বে থাকা কর্তা ও মালিককে সমর্থকদের প্রত্যাশাপূরণ করতেই হয়। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে কথা বলেই বুঝেছি, খেলার প্রতি ওঁর একটা আলাদা আবেগ আছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই ওঁকে দল তৈরি করতে হয়, খরচ যাই হোক। মোহনবাগানের মত ইস্টবেঙ্গলেরও মনোভাব তাই। আমাদের সমর্থক আছে। তবে আমরা মধ্যবিত্ত ক্লাব, তাই বাজেট ফ্রেন্ডলি থেকেই সবকিছু করতে হয়। কিন্তু ঐতিহ্যের দিক থেকে টাটা খুব একটা পিছিয়ে মনে করি না। ‘স্পোর্টস ইজ এ লাইফ ইন টাটা স্টিল’। ১৮ টি খেলাধুলোর সঙ্গে জড়িয়ে দেশকে সফল অ্যাথলিট উপহার দিয়েছে। টাটা ফুটবল আকাদেমির মতো ফুটবল প্রতিভা দেশকে উপহার দেওয়ার পাশাপাশি আইএসএলে নতুন নতুন প্রতিভা তুলে আনার দিকে মন দিয়েছি। আর যখন ক্রিকেটের রমরমার বাজারে ফুটবলে কর্পোরটে স্পনসর পাওয়া বেশ কঠিন ছিল, তখন টাটাই সুপার সকারের মতো ইভেন্ট বছরের পর বছর আযোজন করেছিল। সাও পাওলো, বোখুমের মতো দল এনেছিল। জামশেদপুর এফসির আইএসএলের মতো ফুটবলের মূল স্রোতে আসাও সেই ঐতিহ্যের একটা অংশ। একইসঙ্গে টিঁকে থাকাও জরুরি অন্যদের সঙ্গে লড়ে।’
বর্তমানে চলতি আইএসএলে বানিজ্যিক স্পনসর হিসেবে যুক্ত হয়ে রয়েছে ফ্যান কোড। ফেডারেশনে দীর্ঘমেয়াদী বানিজ্যিক সহযোগী হিসেবে দরপত্র আহ্বান করার পর ফ্যান কোড ও জিনিয়াস স্পোর্টস ১৫ প্লাস ৫ বছরের জন্য পরের মরশুম থেকে যুক্ত হতে চেয়েছে আবেদন করেছে। জিনিয়াস স্পোর্টস দ্বিগুন অর্থ লগ্নি করতে হয়েছে ফ্যান কোডের তুলনায়। আপাতত কে বানিজ্যিক সহযোগী হবে, সে বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। ১৫ প্লাস ৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি কি যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে? মুকুলের প্রতিক্রিয়া, ‘ এর ভাল মন্দ দুটো দিক আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শর্ট টাইম বানিজ্যিক সহযোগী পাওয়া কঠিন। আবার লংটার্মে কেউ থাকলে কী হয়, সেটা সকলে আমরা দেখেছি। তাই বুঝে শুনেই ঠিক করতে হবে বানিজ্যিক সহযোগীর সঙ্গে কীধরনে চুক্তিতে লিগের কী লাভ? সকলে মিলে বসেই একমত হওয়া ভাল।’
মুকুল চৌধুরি মনে করেন, যোগ্যতা অনুযায়ী ফুটবলারদের টাকা দেওয়াতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আইএসএলের নামে কোনও ফুটবলারকে যোগ্যতার মান না বুঝেই অন্যের সঙ্গে টানাটানিতে গিয়ে বেশি টাকার পক্ষে তিনি নন। এতে ক্লাব ও ভারতীয় ফুটবলের খুব একটা লাভ হয় না, এইধরনের টাকা ঢালায়। আইএসএলে অবনমন চালু নিয়ে মুকুলের মন্তব্য, ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি ফুটবলের উন্নতির স্বার্থে ও লিগকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে অবনমন দরকার।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
