Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
সহাল আব্দুল সামাদ

অলস্পোর্ট ডেস্ক: দু’পক্ষেই যেমন নতুন অতিথির আগমনে আনন্দের বাতাবরণ, তেমনই দু’পক্ষেই রয়েছে ঘরের ছেলের বিদায়ের যন্ত্রণাও। মোহনবাগানের কাছে যেমন ছিলেন প্রীতম কোটাল, যাঁকে বিদায় দেওয়ার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন সবুজ-মেরুন জনতা, তেমনই মন খারাপ কেরালা ব্লাস্টার্স সমর্থকদেরও। গত ছ’মরশুম ধরে যিনি ছিলেন তাঁদের চোখের মণি, প্রীতমের মতোই যিনি হয়ে উঠেছিলেন হলুদ বাহিনীর ঘরের ছেলে, সেই সহাল আব্দুল সামাদ-কে বিদায় দিতেও অনেকেরই কণ্ঠ বুজে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেরই আর্তি, ‘আমাদের ছেড়ে যেও না সহাল। তুমি তো আমাদেরই ‘কুডুম্বাথিল আমগম’ (পরিবারের সদস্য)’।

কিন্তু এই ঘটনা আসলে তাঁদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল ছিল না। নিজেদের দল গোছাতেই যে যার ঘরের ছেলেকে একে অপরের হাতে তুলে দেয় দেশের দুই প্রান্তের দুই ক্লাব। কারণ, তারা যে ফুটবল মাঠে একে অপরের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দীও। গত মরশুমে প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে ব্লাস্টার্সকে ৫-২ গোলে হারানোটা এটিকে মোহনবাগানের কাছে ছিল এক স্মরণীয় জয়। ফিরতি লিগেও তারা নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে হারায়। কিন্তু কেরালার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আরও বড় বেদনাদায়ক সত্যিটা হল, তাদের প্রিয় ক্লাব হিরো আইএসএলে সবুজ-মেরুন বাহিনীকে আজ পর্যন্ত কোনও ম্যাচে হারাতে পারেনি। ছ’বারের মুখোমুখিতে একবার ড্র হয়েছে বটে। কিন্তু বাকি পাঁচবারই জিতেছে কলকাতার দলই।

এ বার যে রকম শক্তিশালী দল গড়ছে সবুজ-মেরুন শিবির, যারা মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট নামে আসন্ন হিরো আইএসএল খেলবে, এ বারও তাদের হারানো খুব একটা সোজা হবে না। হয়তো সেই জন্যই প্রবীর দাসের পর এ বার প্রীতম কোটালকেও শিবিরে নিয়ে এল তারা, যাতে সবুজ-মেরুন কাঁটা দিয়েই মোহনবাগান নামক কাঁটাটি তোলা যায়। একজন ভাল রাইট ব্যাক এবং অধিনায়কেরও প্রয়োজন ছিল তাদের।

ফিরে আসা যাক কেবিএফসি-র ঘরের ছেলে সহাল আব্দুল সমাদ প্রসঙ্গে। মোহনবাগান এসজি-তে সই করে তো তিনি দারুণ রোমাঞ্চিত। বলেছেন, “মোহনবাগানের জার্সি পরে খেলব ভেবেই গর্ব অনুভব করছি। কলকাতা ডার্বিকে সবাই এল ক্লাসিকোর সঙ্গে তুলনা করে। আমার একমাত্র নেশা ফুটবল ম্যাচ দেখা। সময় পেলেই বিশ্বের সেরা লিগগুলির সেরা ম্যাচগুলো দেখি। ডার্বির সময়ও কেমন পরিবেশ থাকে তা টিভিতে বহুবার দেখেছি। খেলা তো দূরের কথা, কখনও গ্যালারিতে বসে ডার্বি দেখিওনি। সেই ম্যাচ খেলতে নামব, এটা ভেবেই দারুণ লাগছে”।

ছ’বছর ব্লাস্টার্সে থাকার পরে দেশের সম্পূর্ণ আলাদা এক প্রান্তের ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর সহাল বলেন, “এ বার মোহনবাগান দলটা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পাওয়ার জন্যও তৈরি হয়েছে। তাদের এই ভাবনা ও সাফল্যের সঙ্গী হতে চাই আমি। কখনও এএফসি কাপে খেলার সুযোগ হয়নি। আশা করি, এ বার সেই স্বপ্নও পূরণ হবে। আমার লক্ষ্য থাকবে দলকে এএফসি কাপে চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করা”।

এ রকম একটা দলের অংশ হয়ে উঠতে পারা অবশ্যই আনন্দের ও গর্বের। কিন্তু একই সঙ্গে ব্লাস্টার্স সমর্থকদের ছেড়ে আসাটাও সহালের কাছে মন খারাপের বিষয়। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডলে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় যেন তাঁর এই মন খারাপের কথাই ফুটে উঠেছে। তিনি ব্লাস্টার্স সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ফুটবল এ রকমই। ফুটবল আমাদের যেখানে নিয়ে যায়, সেখানেই যেতে হয়। আমাকেও সেই ডাকেই সাড়া দিতে হচ্ছে। এত বছর একটা দলে খেলার পরে তাদের ছেড়ে চলে যাওয়াটা সত্যিই কঠিন। কিন্তু এটাই বাস্তব”।

২০১৭-১৮ মরশুম থেকে ব্লাস্টার্সের সিনিয়র দলের হয়ে খেলছেন সহাল। তার পরের মরশুমেই তিনি হিরো আইএসএলের সেরা উঠতি খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান এবং সে মরশুমে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্যই ২০১৯-এ ভারতীয় দলে ডাক পান তিনি। তার পর থেকে তিনি ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠেছেন। কেরালা ব্লাস্টার্সের হয়ে ৯৭টি ম্যাচ খেলেছেন, দশটি গোল করেছেন ও ন’টি করিয়েছেন।

গত ছ’বছর ধরে যে সমর্থন তিনি পেয়েছেন ক্লাব ও সমর্থকদের কাছ থেকে, তা যে কখনও ভুলতে পারবেন না, তা স্বীকার করে নিয়ে সহাল এই বার্তায় বলেন, “সতীর্থরা, যারা ক্রমশ আমার ভাই, দাদা, পরিবার হয়ে উঠেছেন এবং স্টাফ, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। বিশেষ করে মানিয়াপ্পাড়া-দের (সমর্থকেরা), যাঁরা আমাকে আমার রিজার্ভ টিমে খেলার দিন থেকে সমর্থন করে আসছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। সমর্থকদের খুব মিস করব। প্রত্যেকেই আমার হৃদয়ে থাকবেন। আশা করি, আমার প্রতি এই ভালবাসা ও সমর্থন চিরকাল থাকবে। আর কীই বা বলব? সাধারণত, বেশি কথা আমি বলি না। কিন্তু এই কথাগুলো না বললে নয় বলেই এই ভিডিও পোস্ট করলাম”।  

নতুন ক্লাবে যোগ দিয়েও অবশ্য কয়েক লক্ষ্য সমর্থকের ভালবাসা পাবেন সহাল। যথেষ্ট সাহায্যও পাবেন ক্লাবের সতীর্থ, স্টাফ ও কর্মকর্তাদেরও। এ সবে কোনও হেরফের হবে না ঠিকই। কিন্ত নিজের রাজ্যের ক্লাবের হয়ে যতটা উজ্জীবিত হয়ে খেলতে পারতেন, এই প্রথম কোনও ভিনরাজ্যের ক্লাবে গিয়ে কি নিজেকে ঠিক একই রকম ভাবে উজাড় করে দিতে পারবেন সহাল? সময়ই জানিয়ে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর। তবে সত্যিকারের পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার এর চেয়ে বড় সুযোগ বোধহয় সহাল আর পাবেন না। দেখা যাক, এই কঠিন পরীক্ষায় তিনি কত নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেন।

(লেখা ও ছবি আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *