মুনাল চট্টোপাধ্যায়: সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ডুরান্ড ফাইনালে যুবভারতীর মাঠে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে খেলার আগে ডায়মন্ড হারবার এফসির ফুটবলারদের শরীরি ভাষায় আত্মবিশ্বাস চুঁইয়ে পড়লেও, আত্মতুষ্টি ধারে কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছেন না ডায়মন্ড কোচ কিবু ভিকুনা। বরং ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ফাইনালে ফোকাস করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি ফুটবলারদের।
ডুরান্ড কাপে ফাইনালে ওঠার রাস্তায় সবচেয়ে বেশি আইএসএল দলের মুখোমুখি হয়েছে ডায়মন্ড হারবার। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মহমেডান ও মোহনবাগান। কোয়ার্টাফাইনালে জামশেদপুর। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল। সামনে ফাইনালে প্রতিপক্ষ আর এক আইএসএল দল নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। ট্রফি জেতার ব্যাপার কতটা আশাবাদী? ডায়মন্ড কোচ কিবুর উত্তর, ‘ আশা আর স্বপ্ন যদি না দেখা যায়, তাহলে সফল হওয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রেও ফাইনালে সেই মানসকিতা নিয়ে নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে ঝাঁপাবে ফুটবলাররা। ডুরান্ড কাপের শুরুতে কতজন ভেবেছিলেন, আমরা সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলব? ফুটবলাররা ভাল খেলে, লড়ে ট্রফি জয়ের শেষ ধাপে পৌঁছেছে। ফাইনালেও ভাল খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে কাপ জিততে। অবশ্যই প্রতিপক্ষকে সম্মান ও সমীহ করে। নিজেদের ক্ষমতা বুঝে।’
সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর পর লাল হলুদের একাংশ ডায়মন্ড হারবারকে জয়ের কৃতিত্ব দিতে নারাজ। তারা ঘুরিয়ে ইঙ্গিত করেছেন, ডায়মন্ডের জয় এসেছে ইস্টবেঙ্গলের অবাক করা ঢিলেমিতে। ম্যাচের ফল নাকি আগেই ফিক্সড ছিল। এটা কতটা আঘাত দিচ্ছে আপনাদের? আর কতটাই বা তাতাচ্ছে ফাইনালের আগে? কিবুর মন্তব্য, ‘ কে কী বলছে, সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এসব বলে নিজেদের ফুটবলারদেরই অসম্মান করছে। ছোট করছে। আমি এসব কানে নিচ্ছি না। আমি নিজের দলের খেলা নিয়ে শুধু ভাবছি। এতদিন পর্যন্ত যেভাবে দল খেলিয়ে এসেছি, তাতেই জোর দিচ্ছি ফাইনালের আগে।’
নর্থ ইস্টের দলে আলাদিন আজারের মতো গোলগেটার আছে। তাঁকে আটকানোর জন্য কোনও বিশেষ পরিকল্পনা থাকবে কি? কিবু জানালেন, ‘ কে না জানে আলাদিন আজারে গোলের সামনে কতটা বিপজ্জনক। ওকে আটকানোর প্ল্যানিং অবশ্যই থাকবে, একইসঙ্গে নর্থ ইস্টের গোটা দলটাকেই গুরুত্ব দিতে হবে। ভুললে চলবে না ওরা গতবার ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল যুবভারতীতে মোহনবাগানকে হারিয়ে। শুধু আলাদিন নয়, ওদের দলে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো আরও অনেক ফুটবলার আছে। তাদের কথাও মাথায় রাখছি। ফুটবলারদের বলেছি ফাইনাল বলে বাড়তি কিছু করতে যেও না মাঠে। যে খেলাটা তুলে ধরেছ এতদিন, সেটাই ধরে রাখ। কৌলগত কিছু মাইনর অ্যাডজাস্টমেন্ট আনতে পারি দলে ও খেলায়, বাকিটা এক রেখে।’
২০১৯য়ে মোহনবাগান কোচের ভূমিকায় ডুরান্ড ফাইনালে খেলেছিলেন। এবার ডায়মন্ড হারবারের কোচ হিসেবে ফাইনাল খেলার অনুভূতিটা কেমন? কিবু বললেন, ‘ দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলাম আইলিগ ক্লাব গোকুলাম এফসির। এবার সামনে আইএসএল ক্লাব নর্থ ইস্ট, যারা আবার গতবারের চ্যাম্পিয়ন। এছাড়া মোহনবাগানের তুলনায় ডায়মন্ড হারবার নিতান্তই নতুন একটা দল। যার বয়স মাত্র ৪। ধাপে ধাপে উন্নতি করছি আমরা। আইলিগ মূল পর্বে উঠেছি। এমন একটা দলের ডুরান্ড ফাইনাল খেলা সত্যি খুব বড় ব্যাপার। ট্রফি জিতলে সেটা হবে সোনায় সোহাগা।’
ডায়মন্ড হারবারের ওপর বাড়তি প্রত্যাশা না থাকায় আপনার দল প্রতি ম্যাচেই আন্ডারডগ হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। এটা কি মানছেন? একইসঙ্গে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান, ৩টি বাংলার দল ছিটকে গেছে ফাইনালের ওঠার পথে। এখন বাংলা ফুটবলের সম্মানরক্ষার দায়িত্ব আপনাদের ওপর। এটা কি বাড়তি চাপে রাখছে ফাইনালের আগে? ডায়মন্ড কোচ কিবুর প্রতিক্রিয়া, ‘ চাপ আমাদের কাছে আশীর্বাদ। ফাইনাল খেলছি, এটা বড় কথা। এটা ঠিক যে আমাদের ওপর প্রত্যাশা কম থাকায় চাপ কমই ছিল, যেটা ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের ওপর প্রবলভাবেই থাকে সমর্থকদের জন্য। কিন্তু এটা ভেবে খুশি হয়ে ফাইনালে আলগা ভাব দেখানোর যেমন কোনও কারণ নেই, তেমন চাপে কুঁকড়ে থাকার প্রশ্নও নেই। ফুটবলারদের বলেছি, নিজেদের সেরাটা দাও মাঠে, ফলের কথা না ভেবে।’
কিবু জানালেন, দলে কোনও কার্ড সমস্যা নেই। ফাইনালের সকালে ফিটনেস দেখে ঠিক করবেন হোলিচরণকে স্কোয়াডে রাখবেন কিনা। ফাইনালেও দুই বিদেশি ডিফেন্ডার মিকেল কোরটাজার ও স্ট্রাইকার লুকা মায়সেনের ওপরই নির্ভর করছেন কিবু। চোটের জন্য আর এক বিদেশি ক্লেইটন সিলভেরা না থাকায়। একইসঙ্গে কিবুর ভরসা তাঁর ভারতীয় নবীন ব্রিগেড। জানা গেল, ভিসা সমস্যা মিটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি কলকাতায় এসে যাবে ব্রাইট এনোবাখারে।
কিবুর সঙ্গে সুর মিলিয়ে ডায়মন্ড হারবারের ডিফেন্ডার বিক্রমজিতের বক্তব্য, ‘ বাড়তি চাপ নিচ্ছি না। যেভাবে প্রথম ম্যাচ থেকে খোলামনে খেলে আসছি, সেটাই ফাইনালে বজায় থাকবে। তবে এটা বলতে পারি, ফাইনালে নর্থ ইস্টকে হারিয়ে কাপ জিততে ১০০ শতাংশের বেশি উজাড় করে দিতে মাঠে।’
ক্লাব কর্ণধার অভিষেক ব্যানার্জির শুভেচ্ছা বার্তা ফাইনালের আগে পেয়েছেন কিনা, এই প্রশ্নে কিবু বলেন, ‘ ক্লাবের কর্ণধারকে ধন্যবাদ, সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। একইসঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছেও কৃতজ্ঞ সবসময় পাশে থাকার জন্য।’ দলের কর্তা আকাশ ব্যানার্জি জানালেন, অভিষেককে মাঠে আসার জন্য তিনি অনুরোধ করবেন, তবে আসা,না আসাটা তাঁর ওপরই নির্ভর করে। যতদূর জানা গেছে, অভিষেকের মাঠে আসার সম্ভবনা খুব কম।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
