মুনাল চট্টোপধ্যায়: শুধু অংশগ্রহণ নয়, ডুরান্ড কাপ জেতাই লক্ষ্য ডায়মন্ড হারবার এফসির চিফ কোচ কিবু ভিকুনার। সেই ভাবনার সঙ্গে সুর মেলালেন দলের তিন ভরাতীয় ফুটবলার জবি জাস্টিন, গিরিক খোসলা, নরহরি শ্রেষ্ঠা। প্রথমদিন অনুশীলনে নামা নবাগত বিদেশি সেন্টারব্যাক মিকেল কোরতাজারের গলাতেও আত্মবিশ্বাসের সুর।
মঙ্গলবার কলকাতা প্রিমিয়ার ডিভিশন ফুটবল লিগে মহমেডান স্পোর্টিংয়ের মুখোমুখি হবে ডায়মন্ড হারবার এফসি। ডুরান্ডে ডায়মন্ড হারবার তাদের অভিযান শুরু করছে একই প্রতিপক্ষ মহমেডানের বিরুদ্ধে ২৮ জুলাই। মহমেডান দল হিসেবে বেশ খারাপ জায়গায় শক্তির দিক থেকে। সাদা কালো ব্রিগেডের দেশি বা বিদেশি কোনও ফুটবলারের সুযোগ নেই, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ট্রান্সফার ব্যান থাকায়। তবু এমন একটা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরপর খেলাটা বাড়তি সুবিধা বলে অবশ্য মানছেন না ডায়মন্ডের চিফ কোচ কিবু।
বাড়তি সতর্কতা নিয়ে কিবু জানালেন, ‘মহমেডান কলকাতা লিগে ইতিমধ্যেই অনেকগুলো ম্যাচ খেলে ফেলেছে। এক দল নিয়ে। সেখানে আমাদের যুব দল মূলত কলকাতা লিগে খেলেছে। ডুরান্ডে দেশি ও বিদিশে মিলিয়ে যারা খেলবে, তারা সিরিয়াস প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। তাই বোঝাপড়া গড়ে ওঠার সমস্যা শুরুতে থাকবে। তবে সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। ট্রফি জিততে হলে, প্রথম ম্যাচ থেকেই জেতার ছন্দটা আনতে হবে দলে।’
ডুরান্ডে কঠিন গ্রুপে আছে ডায়মন্ড হারবার। আইএসএল খেলা মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, মহমেডানের সঙ্গে বিএসএফ। এই ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ থেকে কোয়ার্টারফাইনালে যাওয়ার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী? কোচ কিবুর সঙ্গে গলা মিলিয়ে জবি, গিরিক, নরহরিদের জোরালো বক্তব্য, ‘ জানি লড়াইটা কঠিন, গ্রুপে মোহনবাগান, মহমেডান থাকায়। এমনকি বিএসএফকেও হাল্কাভাবে নিলে ভুল হবে। তার মানে এই নয় যে মাঠে নামার আগেই লড়াই হেরে বসে থাকব। আমরা যেভাবে আইলিগ টু জিতে আইলিগ ওয়ানে উঠে এসেছি, তাতে ডুরান্ডেও আইএসএল ও আইলিগের অন্যান্য দলের সঙ্গে লড়ে কাপ জেতার দৌড়ে শেষপর্যন্ত থাকব, এই বিশ্বাস আছে।’ এই তিন ঘরের ফুটবলার ডুরান্ড কাপকে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের মঞ্চ হিসেবেই নিচ্ছেন ডায়মন্ডের জার্সিতে, ক্লাব কর্তারা খেলার সুযোগ করে দেওয়ায়।
মোহনবাগান কোচের ভূমিকায় আইলিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন কিবু ভিকুনা। ডুরান্ডে সবুজ মেরুনের মুখোমুখি হওয়ার সময় কি ডায়মন্ডের কোচ হিসেবে কোনও বাড়তি আবেগ কাজ করবে? কিবুর উত্তর, ‘মোহনবাগানে খুব ভাল সময় কাটিয়েছি। সদস্য-সমর্থকদের ভালবাসা পেয়েছি। তাই পুরোন দলের মুখোমুখি হলে একটা আবেগ তো থাকবেই। ওটা আমার কাছে একটা স্পেশাল ম্যাচ। তবে পেশাদার কোচ হিসেবে মোহনবাগান এখন আমার প্রতিপক্ষ। কোয়ার্টারফাইনাল যাওয়ার লক্ষ্যে জেতার লক্ষ্যে ঝাঁপাবে আমার ফুটবলাররা ওই ম্যাচে।’
এখনও পর্যন্ত কিবুর হাতে দুই কোচ নাম্বার টেন পজিশনে খেলতে পছন্দ করা ব্রাজিলিয় ফুটবলার ক্লেইটন দা সিলভেইরা। জোসেবা বেইতিয়ার বন্ধু স্প্যানিশ লেফট ব্যাক, যিনি সেন্টার ব্যাকে পারফর্ম করতে সাচ্ছন্দ বোধ করেন সেই মিকেল কোরতাজারের কলকাতায় সোমবারই ছিল প্রথম দলের সঙ্গে প্রথমদিন। কোনওরকম রাখঢাক না করেই বলে দিলেন নবাগত বিদেশি, ‘ ফিটনেস নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। বন্ধু বেইতিয়ার সঙ্গে এখানে আসার আগে প্র্যাকটিস করছিলাম। ওর কাছ থেকে কলকাতা ফুটবলের গল্প, কোচ কিবু ভিকুনার সাফল্যের কথা শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে ডায়মন্ড হারবারে যোগ দিয়েছি। স্পেনের আবহাওয়ার সঙ্গে এখানকার আবহাওয়ার অনেক পার্থক্য। বেশ গরম। তাই মানাতে এক থেকে দু’সপ্তাহ লাগতে পারে। তবে সেটা মাথা থেকে সরিয়ে রেখে সেরা দিতেই মাঠে নামব, প্রতি ম্যাচে দলকে জেতাতে।’
ডায়মন্ড হারবারের কর্ণধার আকাশ ব্যানার্জি জানালেন, আরও দুই বিদেশি ফরোয়ার্ড পাঞ্জাব এফসিতে গত মরশুমে খেলা লুকা মাজসেন ও একদা লাল হলুদ জার্সি গায়ে চাপানো ব্রাইটকে সই করানো হয়েছে। ডুরান্ডের চলাকালীন তাঁদের আনার চেষ্টা চলছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
