ডার্বির আগের সকালে সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত ও ফুটবলার মন্দার রাও দেশাই
সুচরিতা সেন চৌধুরী: লড়াইটা আসলে ৯০ মিনিটের। লড়াইটা আসলে মাঠের। তার বাইরে কেউ বন্ধু, কেউ প্রশংসক আবার কেউ শুধুই প্রতিপক্ষ। তবে কলকাতা ডার্বি সব সময়ই ভারতীয় ফুটবলকে নতুন কিছু শিখিয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে ভারতীয় ফুটবল তথা ক্লাব ফুটবলের অনেককিছু। শুধু বদলায়নি এই দুই দলের লড়াই ঘিরে অনন্ত আবেগ। যা ২০২৩-এ এসেও একই রকম শোনায়। সেই টিকিটের হাহাকার, দলের জন্য গলা ফাটানো আর এই ক’দিন বন্ধু হলেও তাঁরা কেউ ইস্টবেঙ্গল তো কেউ মোহনবাগান। সেই আবেগকে কয়েকদিনেই টের পেয়ে গিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। তাই হয়তো ডার্বির আগের সাংবাদিক সম্মলনেও তাঁর গলায় বার বার শোনা গেল সমর্থকদের কথা।
যেদিন কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেছিলেন, সেদিন দেখেছিলেন সেখানে তাঁকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা। তার পর কলকাতা লিগে দেখেছেন আর ডুরান্ড কাপের ম্যাচে দল নিয়ে নেমেছেন। সেখানেও দেখেছেন দলের পাশে কীভাবে বার বার ব্যর্থতার পরও থেকে গিয়েছেন সেই সমর্থকরাই। আবেগের বিস্ফোরণ কখনও কখনও যে হয়নি তা নয় কিন্তু ভালবাসাটা তো আর বদলায় না। তাই হয়তো শুরুতেই কুয়াদ্রাত বলে দিলেন, ‘‘এখানে আসার পর থেকে ফ্যানদের দেখছি। ওদের অনেক কিছু দেওয়ার আছে। ওদের সেই ফল উপহার দিতে চাই। ওরা জানে এটা সবে শুরু। আমাদের দলের ধারাবাহিকতা আনতে হবে। সেই লক্ষ্যেই রয়েছি। ওদের ধন্যবাদ। আশা করব গ্যালারি থেকে সমর্থন করতে ওরা আসবেন।’’
কোচের কথার রেশ ধরেই ফুটবলার মন্দা রাও দেশাই বলেন, ‘‘ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনেক সমর্থক এসেছিল। কিন্তু তাদের প্রাপ্য ফল দিতে পারিনি। তবে আমরা উন্নতি করছি। আমরা ওদের কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই।’’
সমর্থকদের জন্য এটাই অনেকটা পাওনা। তার সঙ্গে যদি জয় তুলে দিতে পারেন কুয়াদ্রাত অ্যান্ড টিম তাহলে তো কথাই নেই। তবে সেই আত্মবিশ্বাস শোনা গেল না ইস্টবেঙ্গল কোচের গলায়। বরং তিনি বার বারই বোঝাতে চাইলেন, তাঁদের দল নতুন। আর সেই দলকে সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা পুরো নতুন দল। কিছু পরিবর্তন নয় পুরো দলটিই তৈরি করতে হবে। দলের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করতে হবে। ধারাবাহিকতা তৈরি করতে হবে।’’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘‘আমাদের কাছে প্রতিভা রয়েছে। দল গোল খাচ্ছে। নতুন নতুন প্লেয়ার খেলছে। দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমি ম্যাচ জিততে চাই। তিন পয়েন্ট পেতে চাই।’’
ডুরান্ড কাপের ডার্বির পাশাপাশি এই ম্যাচ মরসুমের প্রথম ডার্বিও বটে। যে কারণে এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তার মধ্যে বেশ কিছুটা আন্ডারডগ হয়েই শুরু করবে ইস্টবেঙ্গল। ডার্বিই হতে চলেছে কুয়াদ্রাতের দ্বিতীয় ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলের হয়ে। তার আগে ছিলেন বেঙ্গালুরু এফসিতে। তবে দুই ক্লাবের সমর্থক যে চরিত্রগতভাবে একদমই আলাদা তা তিনি জানেন। এবার সামনে বসে সেটা অনুভব করবেন তিনি। তাই হয়তো অনেকটাই শক্তি সঞ্চয় করে তিনি এ কথাও বল দিলেন, তাঁরা কাজটা মাঠে নেমেই করবেন। তিনি বলেন, ‘‘আণরা মাঠের বাইরে বেশি কথা বলি না যা প্রমান করার মাঠেই করি। ক্লাব মাঠে নেমে প্রমান করবে। আমরা জানি আমাদের পয়েন্ট নষ্ট করা চলবে না।’’
এই বক্তব্যের পর একটা প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাহলে কি ড্র ডার্বির কথা ভেবেই এগোচ্ছেন কুয়াদ্রাত। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, মোহনবাগান শক্তিশালী দল আর তাঁর দল শক্তিশালী হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। সব মিলে স্বয়ং ইস্টবেঙ্গল কোচও এগিয়ে রাখছেন মোহনবাগানকে। তবে কথায় আছে ডার্বি সবয়মই অনিশ্চিত। কেউ জানে না ওই ৯০ মিনিট কী হতে চলেছে। কে হয়ে উঠবেন ভিলেন আবার কেই বা নায়ক। তিনি মনে করেন, ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচ জিততে পারত দল। তাই তিনি বলেন, ‘‘ফুটবল খুবই অনিশ্চিত খেলা। মোহনবাগান শক্তিশালী দল। আমরাও চেষ্টা করছি। মোহনবাগান টানা আট ম্যাচ জিতেছে। পাশাপাশি ওরা এএফসি কাপের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।’’
কুয়াদ্রাত বলেই দিচ্ছেন অবশ্যই এগিয়ে থাকবে মোহনবাগান। তিনি বলেন, ‘‘মানসিকভাবে তো অবশ্যই এগিয়ে থাকবে মোহনবাগান।’’ তবে দলের জন্য তাঁর উপদেশ, নিজের খেলাটা উপভোগ করে খেলা এবং যেভাবে অনুশীলন হয়েছে সেটাই মাঠে উজার করে দেওয়া। কারণ এই ইস্টবেঙ্গল দলে কোচের সঙ্গে সঙ্গে ডার্বির অভিজ্ঞতা প্রায় শূন্য। কুয়াদ্রাত বলেন, ‘‘মোহনবাগান পরের পর্বে যাওয়ার খুব কাছে রয়েছে। ওদের রহাতে ৬ পয়েন্ট রয়েছে।’’ একই বক্তব্য মন্দারেরও। তিনি বলেন, ‘ওরা শেষ দুটো ম্যাচ জিতেছেয় ৬ পয়েন্ট নিয়ে খেলতে নামবে। তবে আমরাও প্রস্তুত।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
