অলস্পোর্ট ডেস্ক: ইন্ডিয়ান সুপার লিগে লিগ শিল্ডের লড়াইয়ে টিকে রয়েছে শুধু দু’টি দল, মুম্বই সিটি এফসি ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেরা দুইয়ে থাকার লড়াইয়ে অবশ্য এফসি গোয়া, ওডিশা এফসি-ও রয়েছে। কিন্তু এক নম্বর জায়গাটার জন্য লড়াই চলছে এই দুই দলের মধ্যেই। এই লড়াইয়ে জিততে গেলে শেষ দুই ম্যাচে জিততেই হবে সবুজ-মেরুন বাহিনীকে। যার প্রথমটি তারা খেলতে নামছে বৃহস্পতিবার, বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে, সুনীল ছেত্রীদের বিরুদ্ধে।
লিগ তালিকায় ২১ ম্যাচে ৪৭ পয়েন্ট পেয়ে সবার ওপরে রয়েছে মুম্বই সিটি এফসি। মোহনবাগানের ২০ ম্যাচে ৪২। বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে জিতলে তারা পৌঁছবে ২১ ম্যাচে ৪৫-এ। অর্থাৎ, তখন মুম্বইয়ের সঙ্গে তাদের মাত্র দু’পয়েন্টের ব্যবধান বজায় থাকবে। শেষ ম্যাচে এই মুম্বই-ই প্রতিপক্ষ মোহনবাগানের। সেই ম্যাচে একটি ড্র-ই লিগ শিল্ড এনে দিতে পারে আরব সাগর পাড়ের দলকে। কিন্তু ড্র নয়, মোহনবাগানকে জিততেই হবে।
তবে সেই পরীক্ষায় নামার আগে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর পরীক্ষায় পাস করতে হবে সবুজ-মেরুন বাহিনীকে। এবং সম্ভবত এই ম্যাচেও সাইডলাইনে তারা পাবে না হেড কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে। তিনি এখনও অসুস্থ। সহাল আব্দুল সামাদকেও মাঠের মধ্যে পাওয়ার সম্ভবনা ক্ষীণ। তাই গত ম্যাচে যে দল নিয়ে নেমেছিল বাগান, সেই দল নিয়েই তারা নামবে কি না, সেটাই প্রশ্ন।
লিস্টন কোলাসো, আরমান্দো সাদিকু ও অনিরুদ্ধ থাপাকে গত ম্যাচে রিজার্ভ বেঞ্চে রাখা হয়েছিল। এই ম্যাচে তারা প্রথম দলে ফিরতে পারেন। কার্ড সমস্যার জন্য দীপক টাঙরি খেলতে পারবেন না। তাঁর জায়গায় থাপাকে দেখা যেতে পারে। এর বেশি কোনও পরিবর্তন করার ঝুঁকি নেবে কি না মোহনবাগান, সেটাই দেখার।
সপ্তাহ দুয়েক ছুটির পর প্রথম মাঠে নেমে চেন্নাইন এফসি-র কাছে যে ভাবে হারে মোহনবাগান, তাতে স্পষ্ট মনে হয়েছে যে, ছুটিতে দলের ছন্দটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ, সর্বত্র আগোছালো ভাব দেখা যায় তাদের পারফরম্যান্সে।
কিন্তু গত ম্যাচে পাঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে চেন্নাইন ম্যাচের চেয়ে ভাল পারফরম্যান্স দেখান পেট্রাটসরা। ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক শুভাশিস বোস হাবাসের অনুপস্থিতিতে নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর যে কথা বলেছিলেন, তা সে দিন কাজেও করে দেখান তাঁরা। তবে ফল ১-০ হলেও সে দিন আরও বেশি ব্যবধানে জিততে পারত মোহনবাগান। সারা ম্যাচে তারা সাতটি শট গোলে রাখে। কিন্তু জালে বল জড়াতে পারে একটি থেকেই।
কিন্তু এই একগোলের ব্যবধানই একটা সময় বেশ ঝুঁকির বলে মনে হয়েছিল, কারণ, দ্বিতীয়ার্ধে পাঞ্জাব এফসি গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে। তারা একাধিক গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া না করলে সে দিন মোহনবাগান হয়তো জয়ের হাসি মুখে নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত না। সুযোগ হাতছাড়া করার এই রোগ তাদের প্লে অফেও ভোগাতে পারে। রক্ষণেও তাদের আরও দুর্ভেদ্য হয়ে উঠতে হবে।
বেঙ্গালুরু এফসি গত পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই গোল পেয়েছে। শুধু ওডিশার বিরুদ্ধে গোল করতে পারেনি তারা। সেই ম্যাচ গোলশূন্য ভাবে শেষ হয়। ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে তাদের গোলশূন্য ড্র তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে কেরালা ব্লাস্টার্সকে হারায় তারা, হায়দরাবাদের বিরুদ্ধেও জেতে। এই সাফল্যগুলিই তাদের ফের ছ’নম্বরের দৌড়ে উজ্জ্বল করে তুলেছিল। কিন্তু গত ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-২ হারই তাদের সেই দৌড় থেকে ছিটকে দেয়।
বৃহস্পতিবার তারা চাপমুক্ত হয়েই মাঠে নামবে, ফলে ঘরের মাঠে মোহনবাগানকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন সুনীল ছেত্রীরা। নিজেদের মাঠে গত ছ’টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে তারা। সবুজ-মেরুনবাহিনী সেই দৌড় থামাতে পারবে কি না সেটাই দেখার।
সাত ম্যাচে গোলের খরা কাটিয়ে গত ম্যাচেই গোলে ফিরেছেন সুনীল ছেত্রী। তাদের স্প্যানিশ মিডফিল্ডার হাভিয়ে হার্নান্ডেজ গত পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে দু’টিতেই গোল করেছেন। সব মিলিয়ে পাঁচটি গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার জায়গাতেও রয়েছেন হার্নান্ডেজ। সুনীল ছেত্রী এ পর্যন্ত চারটি গোল করেছেন ও তিনটি করিয়েছেন। দলের সবচেয়ে বেশি গোল-অবদান তাঁরই। সুনীল এবং হার্নান্ডেজকে কড়া নজরে না রাখলে সমস্যায় পড়তে পারে মোহনবাগান।
তবে তাদের দলের রক্ষণ খুব একটা সফল নয়। চলতি মরশুমে এ পর্যন্ত ২৮টি গোল খেয়েছে তারা। করেছে ১৯টি গোল। তাদের রক্ষণের এই দুর্বলতাকে নিশ্চয়ই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন পেট্রাটস, জেসন কামিংস, আরমান্দো সাদিকুরা।
পরিসংখ্যান বলছে
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে দ্বিতীয় লিগ ডাবলের লক্ষ্য নিয়ে নামবে মোহনবাগান এসজি। সেপ্টেম্বরে প্রথম লেগে তারা ১-০-য় জিতেছিল। শেষ পাঁচটি অ্যাওয়ে ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে মোহনবাগান এসজি। চারটিতে জয় ও একটিতে ড্র। ২০২৩-এ ফেব্রুয়ারিতে তারা টানা ছ’টি অ্যাওয়ে ম্যাচে অপরাজিত ছিল। ম্যাচের ১৬ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট সাতটি গোল করেছে সবুজ-মেরুন বাহিনী, এই মরশুমে যা সর্বোচ্চ। গুরপ্রীত সিং সান্ধুর বিরুদ্ধে প্রথম তিনটি ম্যাচে চারটি গোল করেন দিমিত্রিয়স পেট্রাটস। শুধু চলতি মরশুমের প্রথম ম্যাচেই পেট্রাটস গোল করতে পারেননি। এ মরশুমে মনবীর সিং তাঁর ৫১.৯% শট লক্ষ্যে ছিল। ২৭টির মধ্যে ১৪টি শট গোলে রাখেন তিনি। যা এ মরশুমে ভারতীয় ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ঘরের মাঠে শেষ ছ’টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে বেঙ্গালুরু এফসি। চারটিতে জিতেছে ও দু’টিতে ড্র করেছে তারা। ২০২০-তে তাদের টানা সাতটি ঘরের ম্যাচে অপরাজিত থাকার নজির ছিল। ঘরের মাঠে টানা দু’টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে তারা। তবে আইএসএলে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে কখনও ক্লিন শিট রাখতে পারেনি তারা। ম্যাচের ১৬ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, আট গোল খেয়েছে বেঙ্গালুরু এফসি। সসাত ম্যাচে গোলহীন থাকার পর গত ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল পান সুনীল ছেত্রী।
দ্বৈরথের ইতিহাস
আইএসএলে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে মোট আটবার। তার মধ্যে পাঁচবারই জিতেছে মোহনবাগান, একবার বেঙ্গালুরু ও একটি ম্যাচে ড্র হয়। গত বার প্রথম মুখোমুখিতে দিমিত্রিয়স পেট্রাটসের গোলে জেতে কলকাতার দল। ফিরতি লিগে ২-১-এ জিতে মধুর প্রতিশোধ নেয় বেঙ্গালুরু। প্লে অফে ২-২ হয়। ২১-২২ মরশুমে সুনীল ছেত্রী-হীন বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে ৩-৩-এ ম্যাচ অমীমাংসিত রেখে মাঠ ছাড়ে সবুজ-মেরুন বাহিনী। ফিরতি লেগে ২-০-য় জেতে মোহনবাগান। ২০২০-২১ মরশুমে প্রথমে এটিকে মোহনবাগান ডেভিড উইলিয়ামসের গোলে জেতে ও পরেরবার রয় কৃষ্ণা ও মার্সেলো পেরেরার গোলে জেতে। চলতি লিগে প্রথম মুখোমুখিতে হুগো বুমৌসের গোলে জেতে মোহনবাগান এসজি।
ম্যাচ- বেঙ্গালুরু এফসি বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট
ভেনু- শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়াম, বেঙ্গালুরু
সময়- ১১ এপ্রিল, ২০২৪, সন্ধ্যা ৭.৩০
সরাসরি সম্প্রচার ও স্ট্রিমিং টিভি চ্যানেল: ডিডি বাংলা ও কালার্স বাংলা সিনেমা- বাংলা, স্পোর্টস ১৮ খেল- হিন্দি, স্পোর্টস ১৮ ১ এসডি ও এইচডি- ইংলিশ, ভিএইচ ১ এসডি ও এইচডি- ইংলিশ
(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
