Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

‌মেক্সিকো ২(‌কিনোনেস, জিমিনেজ)‌            দক্ষিণ আফ্রিকা ০

মুনাল চট্টোপাধ্যায়: মেক্সিকোর‌ আইকনিক আজটেকা স্টেডিয়ামে ১৯৭০য়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন পেলে। ১৯৮৬তে এই স্টেডিয়ামে বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছিলেন ফুটবলের আর এক জাদুকর মারাদোনা। আর সেই মাঠেই ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১-‌০ গোলের মধুর জয় তুলে নিল মেক্সিকো। মাঠ ভরা ঘরের সমর্থকদের সামনে। মেক্সিকো এই নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সংগঠকের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার সুযোগ পেল। এর আগে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে মেক্সিকো প্রথম ম্যাচে এই দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু জিতে মাঠ ছাড়তে পারেনি ম্যাচটা ১-‌১ ফলে শেষ হওয়ায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার কিনোনেসের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানটা ভালভাবেই শুরু করল মেক্সিকো।

আজটেকা স্টেডিয়ামে শাকিরা ‘‌দাই দাই’‌ গানে বিশ্বকাপ শুরুর সুরটা চমৎকার বেঁধে দিয়েছিলেন। সেটাই যেন ধরে রেখে গোটা ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর আধিপত্য দেখালেন মেক্সিকোর ফুটবলাররা। মেক্সিকো কোচ জাভিয়ার আগুইরে ৪-‌১-‌২-‌৩ ছকের আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রথম থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। উল্টোদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোস মূলত ৫-‌৪-‌১ ছকে রক্ষণ আঁটোসাটো রেখে প্রতিআক্রমণ হানার পথে হাঁটতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সে পরিকল্পনা শুরুতেই মাঠে মারা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার উইলিয়ামসের ভুলে। ৯ মিনিটের মাথায় নিজের দখলে থাকা বল উইলিয়ামস ঠিকমতো পাস করতে পারেননি বক্সের মাথায় দাঁড়ানো সতীর্থ ডিফেন্ডারকে। আর তাতেই ওই ডিফেন্ডারের পা থেকে বল বেরিয়ে যায় সামান্য দূরে। সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন মেক্সিকোর এরিক লাই। তিনি বল ধরে পাশে পাস বাড়ান সতীর্থ জুলিয়ান কিনোনেসকে। জোরালো গড়ানো শট কিনোনোস হার মানান গোলকিপার উইলিয়ামসকে। অথচ এই উইলিয়ামসই তার আগে জিমিনেজের শট দুরন্ত দক্ষতায় রুখে দলের পতন বাঁচিয়েছিলেন।

প্রথমার্ধের শেষদিকে মেক্সিকোর পক্ষে দ্বিতীয় গোল প্রায় পেয়ে গিয়েছিলেন কিনোনেস। তাঁর নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফেরে। এছাড়া গুইতেরেজের প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়। তবে এই গুইতেরেজকে ফাউল করে রুখতে গিয়ে দলের বিপদ ডেকে আনেন দক্ষিণ আফ্রিকার সিথোলো। রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখালে ৫০ মিনিট থেকে দশজনে খেলতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এমনিতে ১১ জনেই মেক্সিকোর আক্রমণ সামাল দিতে পারছিল না তারা, তারওপর গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো তাদের পক্ষে ১০ জনে হার বাঁচানো সম্ভব ছিল না। পারেওনি, ৬৭ মিনিটে মেক্সিকো দ্বিতীয় গোল করায়। রবার্তো আলভারদোর মাপা ক্রশে দর্শনীয় হেডে ২-‌০ করেন রাউল জিমিনেজ।

বাকি সময় দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে রাখে মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দশা আরও বাড়ে ৮৪ মিনিটে আলভারাদোর মুখে হাত চালিয়ে থেমবাজোয়ান ম্যাচের দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখায়। ব্রাজিলের রেফারি ভার প্রয়োগ করে থেমবাকে মার্চিং অর্ডার দেন। প্রথম ম্যাচে হারের পাশাপাশি জোড়া লাল কার্ড দেখায় ম্যাচে ফেরার কোনও সুযোগ তো ছিলই না, উপরন্তু পরের ম্যাচগুলোয় দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে কতটা ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে, তা বলা মুশকিল। কারণ তাদের খেলায় কোনও ছন্দ , বোঝাপড়া বা বাঁধুনি নজরে আসেনি। এই খেলার জোরে নকআউটে যাওয়া কঠিন দক্ষিণ আফ্রিকার।

অন্যদিকে মাঠ ভরতি সমর্থকদের মেক্সিকান ওয়েভসের মাঝে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর মাধ্যমে নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ালো ঠিকই, তবে একবালতি দুধে এক ফোঁটা চোনা পড়ে গেল ৯২ মিনিটে মেক্সিকোর মন্টেস অনর্থক ফাউল করে লাল কার্ড দেখায়। ম্যাচের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল মেক্সিকোর জার্সিতে আলভারো ফিদালগোর পরিবর্ত হিসেবে ১৭ বছরের গিলবার্তো মোরার মাঠে নামা। বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চে ১৭ বছরের মোরাকে খেলার সুযোগ দেওয়ার জন্য মেক্সিকো কোচ জাভিয়ার আগুইরের প্রশংসা করতেই হবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *