আর্মান্দো সাদিকু
সুচরিতা সেন চৌধুরী: ১৯ বছর পর আবার ডুরান্ড কাপ ফাইনালে কলকাতা ডার্বি। ১৯ বছর পর আবার ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল। ইতিহাস বলছে ২০০৪-এ শেষবার ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগান তার পরও ডুরান্ড ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল। তবে ২০১৯-এ শেষবার ডুরান্ড ফাইনালে পৌঁছে গোকুলামের কাছে হারতে হয় সবুজ-মেরুনকে। এবার সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে আবার ডুরান্ড কাপে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আবার আর একটা ডার্বি। আবার বাংলার সব রাস্তা, গলি, রাজপথ গিয়ে মিলবে এই যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গনে। আবার ফুটবল উৎসবে মাতবে বাংলা।
আরও একটা ডার্বির লক্ষ্য সামনে নিয়েই ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল খেলতে নেমেছিল মোহনবাগান। সবুজ-মেরুনের চিরকালীন গাঁট মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছনোটা আত্মবিশ্বাস অবশ্যই বাড়িয়ে দিয়েছিল দলের। তার উপর সামনে যখন এফসি গোয়া, কিছুটা বাড়তি আশা তো ছিলই। কিন্তু সমর্থক এবং আয়োজকদের চোখে ছিল শুধুই ডার্বি। এই ডুরান্ড কাপেই মরসুমের প্রথম ডার্বি হয়েছে এবার। দ্বিতীয় ডার্বিও যদি হয় একই টুর্নামেন্টে তাহলে তো কথাই নেই। সেই আশাতেই ফুটছিল বাংলার ফুটবল। আর সেই স্বপ্নকে সফল করে ২-১ গোলে জিতে ফাইনালে পৌঁছে গেল মোহনবাগান।
এদিন অবশ্য ম্যাচের শুরুটা করে দিয়েছিল এফসি গোয়া। ম্যাচ শুরুর ২৩ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল গোয়ার দল। সেন্টার সার্কেলে হুগো বুমৌসের মিস পাস ধরে একা দৌঁড় শুরু করেন গোয়ার নোয়া সাদাওই। প্রায় মাঝমাঠ থেকে তাঁর দৌঁড় শেষ হয় মোহনবাগান জালে বল জরিয়ে। মোহনবাগানের কোনও ডিফেন্ডারই তাঁর পা থেকে বল কাড়তে পারেননি। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় এফসি গোয়া। পিছিয়ে পড়ে খেলার গতি বাড়ায় মোহনবাগান। যার ফল ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করে নেন আশিক কুরুনিয়ান।
যদিও সেই পেনাল্টি নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কুরুনিয়ানকে বক্সের বাইরে ফাউল করেন গোয়ার জয় গুপ্তা। পেনাল্টি দিয়ে দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি জেসন কামিংস। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ১-১ করে ম্যাচকে বাঁচিয়ে রাখে মোহনবাগান। দ্বিতীয়াধের্র শুরুতেই অবশ্য এগিয়ে যায় গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। ৬১ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে দিমিত্রির লম্বা পাস বক্সের বাইরে পেয়ে গিয়েছিলেন সাদিকু। সেখানে অবশ্য হাজির ছিলেন কামিংসও। কিন্তু তিনি বলের নাগাল পাননি। সাদিকু সেই বল ধরে গোয়া রক্ষণকে রীতিমতো পরাস্ত করেই দুরন্ত শটে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান সাদিকু।
তারপরটা যেন ঘর বাঁচিয়ে টিকে থাকার লড়াই। ২-১ গোলে এগিয়ে রক্ষণ পোক্ত করলেন বাগান কোচ হুয়ান ফেরান্দো। সঙ্গে আক্রমণেও লোক বাড়ালেন। এদিন গত ম্যাচের দলে দুটো পরিবর্তন করেছিলেন কোচ। মনবীর আর সাদিকুকে বেঞ্চে রেখেই প্রথম ১১ সাজিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য দু’জনকেই মাঠে নামিয়ে পুরনো দলে ফিরে যান তিনি। আট মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে গোয়া প্রতিপক্ষের বক্সে বার কয়েক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। তবে গোলের নিচে এদিন তৎপর ছিলেন বিশাল। যে কারণে ব্যবধান শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয় মোহনবাগান। অন্যদিকে ব্যবধান বাড়াতেও পারেনি কলকাতার দল। সুযোগ যে আসেনি তা নয়। তবে শেষ কথা জয়। আর এই জয়ের সঙ্গেই ফুটবলের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেল দুই দলের।
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, আনোয়ার আলি, হেক্টর ইয়ুস্তে, আশিস রাই, শুভাশিস বসু, অনিরুদ্ধ থাপা (লিস্টন কোলাসো), সহাল আব্দুল সামাদ, আশিক কুরুনিয়ান (ব্রেন্ডন হামিল), হুগো বুমৌস (সাদিকু), দিমিত্রি পেত্রাতোস, জেসন কামিংস (মনবীর সিং)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
