Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: রবিবারের সন্ধে থেকে মোহনবাগান সমর্থকদের একটাই গন্তব্য ছিল, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। ওড়িশায় শেষ হাসি হাসতে না পারলেও কলকাতায় শেষ হাসি হাসল মোহনবাগানই। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ ২-০ গোলে জিতে ৩-২ গোলে জয় নিয়েই ফাইনালে নামবে কলকাতার দল। ৬২ হাজারে গ্যালারির আজকে প্রাপ্তি মোহনবাগানের এই লড়াইটাই যা তারা ওড়িশায় হারিয়ে ফেলেছিল, ঘরের মাঠে ফিরতেই আবার সেই চেনা ছন্দে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। চেনা ছন্দে মোহনবাগানের গ্যালারি। কতটা আস্থা, বিশ্বাস আর ভালবাসা থাকলে প্রবল গরমের মধ্যে ১০০ মিনিট ধরে মাঠে বসে দলকে তাতিয়ে যাওয়া যায়। যদিও ম্যাচ শেষে প্লেয়াররা ভাল নজির গড়লেন না। প্রতিপক্ষ প্লেয়ারদের সঙ্গে ঝামেলায় জরিয়ে পড়লেন শুভাশিসরা।

ম্যাচের আগের দিনই মোহনবাগান কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস বলেছিলেন, ম্যাচ শেষ করতে চান ৯০ মি‌নিটের মধ্যেই। একই পরিকল্পনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই এসেছিলেন ওড়িশা এফসি কোচ সার্জিও লোবেরা। যার ফল ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবলে মাতল। কখনও মোহনবাগান তো কখনও ওড়িশা। শুরুটা অবশ্য করে দিল মোহনবাগানই। ৩৬ সেকেন্ডের মধ্যেই দিমিত্রির গোলমুখি শট বাইরে গেল। তার পর থেকে চলল দুই পক্ষেরই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ। আর এই সমানে সমানে লড়াইয়ের মধ্যেই এগিয়ে গেল মোহনবাগান। কিন্তু এই ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া যে যথেষ্ট নয় সেটা দু’দলেরই জানা। ৯০ মিনিটের সঙ্গে প্রথমার্ধে ছয় ও দ্বিতীয়ার্ধে সাত মিনিটের তখনও শেষ হতে বাকি আরও তিন মিনিট। ঠিক সেই সময়ই মোহনবাগানের হয়ে ২-০ করে গেলেন সহাল। এক কথায় সুপার সাব। মোট ৩-২ গোলে জিতে আইএসএল ২০২৩-২৪ ফাইনালে পৌঁছে গেল মোহনবাগান। লিগ-শিল্ডের পর আরও একটা ট্রফির অপেক্ষা আগামী ৪ মে পর্যন্ত।

২১ মিনিটে বক্সের মধ্যে গোলে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। তার আগে অবশ্য লিস্টনের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়ার খেলা খেলেই গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন দিমিত্রি। সেই বল কোনও রকমে বাঁচিয়ে দেন ওড়িশা গোলকিপার অমরিন্দর সিং। কিন্তু বলের দখল নিজের কাছে রাখতে পারেননি। ফিরতি বল আবার পেয়ে যান দিমিত্রি। যার প্রতি পাসেই থাকে গোলের ঠিকানা। এবার অবশ্য ততক্ষণে ছ’গজ বক্সের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন জেসন কামিংস। দিমিত্রি বক্সের বাইরে থেকে গোলের ঠিকানা লেখা বলটি সাজিয়ে দিয়েছিলেন কামিংসকে লক্ষ্য করে। সেখান থেকে গোল না করতে পারলেই অপরাধ হত। তবে সেই ভুল করেননি তিনি। ছোট্ট টোকায় বল জরিয়ে দেন ওড়িশা গোল।

এর পর বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল ওড়িশা এফসি। একবার তো রয় কৃষ্ণার শট গোল লাইন সেভ করলে‌ন হেক্টর ইউয়েস্তে। তার পরও আধা সুযোগ তৈরি করে দুই পক্ষ কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলেই। ১-০ গোলে দ্বিতীয় লেগে এগিয়ে যাওয়া মানে ম্যাচের ফল ড্র। জিতে ফাইনালে যেতে হলে এই ম্যাচে দু’গোলের ব্যবধানে জিততেই হত মোহনবাগানকে। সেই লক্ষ্যে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে আরও ধার বাড়াল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। দীপক টাংরিকে তুলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হাবাস নামিয়ে দিলেন অভিষেক সূর্যবংশীকে। মাঝ মাঠ থেকে এদিন দারুণ অপারেট করলেন অনিরুদ্ধ থাপা। একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেন। ৬২ মিনিটে নিচু হয়ে আসা মনবীরের পাসের গোলের সামনে থেকে বসে পড়ে হেড করেছিলেন থাপা কিন্তু সেই বল গোল লাইন ছুঁয়ে হেলতে দুলতে বেরিয়ে যায় বাইরে।

এর আগেও নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন মনবীর সিং। তখন ম্যাচের বয়স ৫৪। ফাঁকা গোল পেয়েও তা গোল কিপারের হাতে জমা দেন। ডানদিক থেকে বল নিয়ে ওঠার সময় কেটে গিয়েছিলেন ওড়িশা এফসির ডিফেন্ডাররা। সামনে তখন শুধু গোলকিপার অমরিন্দর ফাস্টপোস্ট আগলে। দ্বিতীয় পোস্ট ফাঁকা পড়ে থাকলে মনবীরের দুর্বল শট জমা পড়ল গোলকিপারের হাতে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অনিরুদ্ধ থাপা ও লিস্টন কোলাসোর জুটি বাঁদিক থেকে ওড়িশা গোলের মুখ প্রায় খুলেই ফেলেছিলেন কিন্তু তাও গোল হল না।

এর পর জোড়া পরিবর্তন করলেন হাবাস। লিস্টনের জায়গায় কিয়ান ও আনোয়ারের জায়গায় দীপেন্দু। তার কিছু আগেই থাপার জায়গায় নামিয়েছিলেন সহালকে। বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে আরও একবার উঠেছিলেন মনবীর। কিন্তু ততক্ষণে তাঁকে ঘিরে ফেলেছে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগেই তিনি গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন কিন্তু সেই বল পেয়ে যান সহাল। কিছু ভাবার সময় দেননি তিনি, বল নিয়েই ঢুকে পড়েন গোলে।

মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, আনোয়ার আলি (দীপেন্দু বিশ্বাস), হেক্টর ইউয়েস্তে, শুভাশিস বোস, দীপক টাংরি (অভিষেক সূর্যবংশী), অনিরুদ্ধ থাপা (সহাল আব্দুল সামাদ), লিস্টন কোলাসো (কিয়ান নাসিরি), জনি কাউকো, মনবীর সিং, দিমিত্রি পেত্রাতোস, জেসন কামিংস।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *