Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ গতমরশুমে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ইরানে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র ম্যাচ খেলতে যায়নি মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এবারও ৩০ সেপ্টেম্বর ইরানের মাঠে অনুষ্ঠেয় সেপাহান এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে না সবুজ মেরুন ব্রিগেড। তার জন্য নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ও বিদেশি ফুটবলারদের ইরানে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞার যুক্তিকে ঢাল করে না যাওয়াকে সামনে রাখলেও, সেটা এএফসির কাছে তা ঢোপে টিঁকবে না। গত মরসুমে ইরানের ম্যাচ না খেলায় এসিএল ২ থেকে বাতিল হয়েছিল মোহনবাগান। এবার ইরানে খেলতে না যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র এসিএল ২ থেকে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বাতিলই হবে না, গোটা মরশুমের জন্য এএফসির সব খেলা থেকে নির্বাসিত হবে, এমনকি সেই মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, মোহনবাগানের কাছে ফুটবলার,কর্তা, ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তা রক্ষাই হল শেষ কথা। ইরান যাওয়া নিয়ে আমাদের ফুটবলার ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। অনেক চিন্তা ভাবনার পর ক্লাব সেটাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা নির্দেশ ও ইরান খেলতে যাওয়ার ঝুঁকি, সর্বোপরি ফুটবলারদের নিরাপত্তা, আবেগ ও আবেদন মাথায় রেখে ইরানে গিয়ে সেপাহান ম্যাচ খেলা থেকে বিরত থাকল মোহনবাগান। ক্লাব নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে, বলা ভাল শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে, সুবিচার চেয়ে কোর্ট আর্বিট্রশনের(‌সিএএস)‌ দারস্থ হচ্ছে।

অথচ চলতি মরশুমে এসিএল ২য়ের সূচী বেরুনোর পর মোহনবাগান এসজির টিম ম্যানেজমেন্টের মুখে ইরানে ম্যাচ খেলতে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে কোনও কথা বলতে শোনা যায়নি। গত মরশুমে ইরানের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সত্যিই খুব গুরুতর ছিল, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ঘোরালো থাকায়। দেশি ও বিদেশি ফুটবলাররা নিজেদের প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে তাঁদের ইরান খেলতে যেতে বাধ্য না করার আবেদন রেখেছিল। একযোগে চিঠি দিয়ে। সেটা এএফসির কাছে পাঠিয়েওছিল, এমনকি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও বিদেশ মন্ত্রকের কাছেও। ফুটবলারদের জীবনের থেকে কোনও কিছু বড় নয়, এই যুক্তি তুলে ধরে নির্বাসনের ঝুঁকি থাকতেও দল পাঠায়নি। এএফসির শাস্তির মুখেও পড়ে।

এবারও সূচী বেরুনোর পর দেখা যায় মোহনবাগানকে ইরানে ৩০ সেপ্টেম্বর সেপাহান এফসির বিপক্ষে খেলতে হবে। কিন্তু ঘরের মাঠে যুবভারতীতে আহাল এফকে ম্যাচ খেলা বা হারা পর্যন্ত ইরান ম্যাচ খেলতে যাওয়া নিয়ে মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্টের মুখে কোনও আপত্তিসূচক কথা শোনা যায়নি। ইরান ম্যাচ খেলার দিন এগিয়ে আসার পরই হঠাৎ এব্যাপারে মোহনবাগান শিবিরে গুঞ্জন শুরু হয়। তাদের মুখে শোনা যায় দলের তিন অস্ট্রেলীয় বিশ্বকাপার ম্যাকলারেন, পেত্রাতোস, কামিংস ও স্কটিশ আলড্রেডের ইরান খেলতে যাওয়া নিয়ে ঘোরতর সমস্যা রয়েছে। তাঁদের পাসপোর্টে ইরানের ছাপ পড়ে গেলে, আর তাঁরা নিজেদের দেশে ফিরতে পারবেন না। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের নাগরিকত্ব চলে যাবে। এই সমস্যা চিঠি চাপাটি করেও মেটানো যায়নি।

একটা সময় পর্যন্ত মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্ট চেষ্টা চালিয়েছিল দুই বিদেশি রবসন রবিনহো ও আলবার্তো রডড্রিগজের সঙ্গে দেশি ফুটবলারদের রেখে ইরানে সেপাহান ম্যাচ খেলতে দল পাঠাতে। কিন্তু ৪ বিদেশি যাচ্ছে না জেনে বাকি ২ বিদেশি ও দলের দেশি ফুটবলাররাও বেঁকে বসে ইরান খেলতে যাওয়া নিয়ে। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার যুক্তি তুলে ধরে। এরপর আর মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে ইরানে দল পাঠানো স্থগিত রাখা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। এর ফল অবশ্য অবশ্য তাদের ভুগতে হবে, যতই তারা কোর্ট অফ আর্বিট্রেশনের (‌সিএএস)‌ দারস্থ হোক। এবারও এসিএল ২ থেকে তারা বাতিল হবে, সঙ্গে নির্বাসনের খাঁড়া ঝুলবে। আর তা যদি হয়, তাহলে সুপার কাপ খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বা আইএসএল জিতে কী লাভ হবে মোহনবাগানের?‌ এএফসি তাদের টুর্নামেন্টে কি আদৌ খেলতে দেবে?‌

এই পরিস্থিতিতে ঘরে বাইরে প্রচন্ড চাপের মুখে পড়তে হবে বুঝেই মোহনবাগান অবাক করা সিদ্ধান্ত নিল। এতদিন টালবাহানা চালানোর পর আইএফএকে চিঠি দিয়ে জানাল, তারা শিল্ডে অংশ নেবে। মোহনবাগান শিল্ডের ম্যাচ নিজেদের মাঠ, কিশোর ভারতী ও যুবভারতীতে খেলতে চেয়েছে। মোহনবাগান শিবিরের ভেতরের খবর, এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের জন্য শুরুতে জাতীয় শিবিরে মোহনবাগান ফুটবলারদের না ডাকলেও, ইরান খেলতে যাচ্ছে না জেনে সবুজ মেরুনের ৬ ফুটবলারকে শিবিরে ডাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল। মোহনবাগান তাদের শিবিরে ছেড়েও দেবে। সেক্ষেত্রে ৬ বিদেশি ও হাতে থাকা বাকি বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে লড়বে।

এতে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তর মুখের হাসি চওড়া হল। ডায়মন্ড হারবার ও মহমেডান শিল্ডে খেলবে না জানিয়েছিল। তাতে আইএফএর আর কিছু আসে যায় না, শিল্ডে দুই বড় দল মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল খেলতে রাজি থাকায়। ৬ দলীয় এই শিল্ডের দু’‌টো গ্রুপের একটাতে থাকবে মোহনবাগান, অন্যটায় ইস্টবেঙ্গল। বাকি অংশগ্রহনকারী দলগুলোর মধ্যে নামধারী এফসি ও গোকুলাম এফসির অংশগ্রহণ চুড়ান্ত। আইএফএ চেষ্টা করছে পাঞ্জাব এফসি ছাড়াও আইলিগের একটি দল পেতে। শেষপর্যন্ত আইলিগের দল না পেলে, ইউনাইটেড স্পোর্টসের শিল্ডে খেলার সুযোগ এসে যেতে পারে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *