সুচরিতা সেন চৌধুরী : বিক্ষোভের আবহ তো ছিলই। গত কয়েকদিন ধরে মোহনবাগান ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। তাঁর জের পৌঁছে গেল কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনেও। এদিন আইএফএ শিল্ড ২০২৫-এর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল মোহনবাগান। প্রতিপক্ষ গোকুলাম কেরালা। তবে খেলার থেকে বেশি বাইরের আবহ গ্ৰাস করল এই খেলাকে। ১২ হাজারের গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন ২০০ থেকে ৩০০ জনের মতো সমর্থক তবে সমর্থন নয় প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে। যাঁর ফল, গোল করেও মোহনবাগান ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস প্রদর্শন করতে দেখা গেল না।
প্রেসবক্সের উল্টোদিকের গ্যালারিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মোহনবাগান সমর্থকদের গলায় তখন গো ব্যাক ধ্বনি। হাততালি নয়, কখনও ‘গো ব্যাক’ তো কখনও ‘শেম শেম’ ধ্বনিতেই গম গম করল স্টেডিয়াম উত্তর। আর তাদের সামলাতে প্রায় সমসংখ্যক পুলিশ হাজির হল গ্যালারিতে। খেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাতেই দেখা গেল ব্যানার। তাতে লেখা ‘কাওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট ‘।
যদিও টিফো নিয়ে মাঠে ঢোকার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়লেন সমর্থকরা। তা মাঠে নিয়ে ঢুকতে দিল না পুলিশ। তবে সুযোগ পেয়ে একটা ব্যানার নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন সমর্থকরা। তা নিয়েই শুরু হয় প্রতিবাদ। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে ব্যানার বেশিক্ষণ গ্যালারিতে রাখা সম্ভব হয়নি। প্রতিবাদ অবশ্য চলতেই থাকে। আর তার সঙ্গে এই প্রথম মনে হয়, কলকাতার ফুটবল মাঠে পুলিশকে দেখা গেল খেলা না দেখে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে থাকতে। তবুও প্রতিবাদ চলল ম্যাচ শুরুর পরেও।
প্রথমার্ধের শুরুতেই দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি চলল গ্যালারি থেকে। সমর্থকদের আসল ক্ষোভের কারণ এসিএল ২-এর ম্যাচ খেলতে মোহনবাগানের ইরানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত। যাঁর ফলে গত মরসুমের মতো এই মরসুমেও আর এসিএল ২ খেলা হবে না মোহনবাগানের। এএফসি জানিয়ে দিয়েছে, তারা ধরে নিচ্ছে, মোহনবাগান এসিএল ২ থেকে নাম তুলে নিয়েছে। দু’দিন আগে এই নিয়েই সমর্থকদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন দলের তিন বিদেশি। সব মিলে এই একটা জয়ে যে ক্ষোভ কমবে না তা স্পষ্ট।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
