সুচরিতা সেন চৌধুরী: মুম্বই ম্যাচ হারের পর নিজেদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে এই ম্যাচ জিততে চেয়েছিলেন মোহনবাগান কোচ হুয়ান ফেরান্দো । কিন্তু শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়তে হল হোমটিমকে। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল না ফেরান্দোর ছেলেরা। যদিও যে পেনাল্টি থেকে গোল করে গোয়া এফসি এগিয়ে গেল তা নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। আবার প্রশ্ন উঠবে রেফারিং নিয়ে। কিন্তু বাকি দুই গোল মোহনবাগানকে হজম করতে হল নিজেদের খেলার ভুলেই। একই রকম ভুলে গোলের মুখও খুলতে পারল না গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। বরং টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড হাতছাড়া হওয়ার পরের ম্যাচেও হারতে হল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। খেলার ফল মোহনবাগান ১, গোয়া ৪।
এর মধ্যেই ম্যাচের ৭৩ মিনিটে বিপদে ফেলল ব্রেন্ডন হামিলের চোট। ততক্ষণে। পাঁচটি পরিবর্তন করে ফেলেছেন ফেরান্দো। হামিলকে তুলে অন্য কাউকে নামানোর আর সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে হামিলেরও খেলার মতো পরিস্থিতি ছিল না। আলোচনার পর ১০ জনেই খেলার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন মোহনবাগান কোচ। তার আগেই কিয়ান নাসিরি, হুগো বুমৌস, সুহেল ভাটদের নামিয়ে গোলের মুখ খোলার চেষ্টা করলেন ফেরান্দো। কিন্তু লাভ হল না কিছুই। ৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরেই থেকে গেল মোহনবাগান। শীর্ষে থাকা গোয়া ৯ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে জায়গা আরও মজবুত করল।
ম্যাচ শুরুর আট মিনিটের মাথায় নিজেদের বক্সের মধ্যে উঁচু হয়ে আসা একটি বলকে ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রায় হেড হাইটে পা তুলে দিয়েছিলেন। যদিও কাউকে ফাউল করেননি। কিন্তু রেফারি পেনাল্টি দেন। প্রতিবাদ শুরু হয় মোহনবাগানের পক্ষ থেকে। রেফারিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বজায় রাখেন জামাল মহম্মদ। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি নোয়া ওয়ালি। ১০ মিনিটেই মোহনবাগানকে পিছনে ফেলে দেয় গোয়া।
শুরুতে ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে পৌঁছে যায় অ্যাওয়ে টিম। যার ফল প্রথমার্ধে তিন গোল করে এগিয়েই শেষ করে গোয়া এফসি। মোহনবাগানের তরফে উদ্দেশ্যহীন দৌঁড় আর বক্সের মধ্যে লক্ষ্যহীন শট ছাড়া কিছুই পাওয়া গেল না। এদিন মোহনবাগান রক্ষণে ছিলেন না আশিস রাই ও হেক্টর ইনিয়েস্তা। মাঝ মাঠে ছিলেন না ক্লেটন সিলভা। তার প্রভাব যে মোহনবাগানের খেলায় পড়বে সেটা স্বাভাবিক। প্রথম থেকেই বোঝা গেল এই দলটার মধ্যের বোঝাপড়ার অভাব। যে গোল হল তা একক প্রচেষ্টায়।
তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে খেলার মোর ঘুরিয়ে দেওয়ার একটা জোড়াল ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন মোহনবাগানের দিমিত্রি পেত্রাতোস। ৩০ গজের বেশি দূর থেকে ফ্রি কিকে যে শটে তিনি সরাসরি জালে বল জড়ালেন তাতে এই সেট পিস গোল লেখা থাকবে আইএসএল-এর ইতিহাসে। এই গোল এল অতিরিক্ত সময়েরও অতিরিক্ত সময়ে, প্রায় প্রথমার্ধের ৫৩ মিনিটে। তার আগের পুরো সময়টাই ছিল গোয়া এফসির দখলে।
ম্যাচের শুরুতে যে দল পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল সেই দল প্রথমার্ধের পুরো সময়টাই দাপট দেখাল। ৪২ মিনিটে ভিক্টর রডরিগেজ রোমেরোর গোলে ২-০-তে গিয়ে যায় গোয়া। প্রথমার্ধেই দলের হয়ে তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ফেলেন নোয়া। ৩-০ গোলে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়া প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন তবে ফুটবলে সবই সম্ভব। যার শুরুটা প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগে করেছিলেন দিমিত্রি কিন্তু আর কেউ সেই গোলের খিদেটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেন না। বরং দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমার্ধের ফুটবলটাই হারিয়ে গেল।
শেষ মিনিটে সংযোজন আরও একটি পেনাল্টি। এবারও গোয়া এফসির পক্ষে। বক্সের মধ্যে ফাউল করে গোয়াকে পেনাল্টি পাইয়ে দিলেন অনিরুদ্ধ থাপা। গোল করতে ভুল করেননি কার্লোস মার্টিনেজ। তার পরই প্রায় ২৯ হাজারের গ্যালারি থেকে দাবি উঠে গেল “গো ব্যাক ফেরান্দো।” তাহলে কি মোহনবাগানে ফেরান্দো যুগের ইতির ডঙ্কা বেজে গেল বছর শেষেই?
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, শুভাশিস বোস, সুমিত রাঠি (লালরিনলিয়ানা হামতে), ব্রেন্ডন হামিল, দীপক টাংরি (কিয়ান নাসিরি), গ্লেন মার্টিন্স (রবি বাহাদুর রানা), অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর সিং (সুহেল ভাট), দিমিত্রি পেত্রাতস, জেসন কামিংস (হুগো বুমৌস), আর্মান্দো সাদিকু।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
