সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: আইএসএল ২০২৩-২৪-এর প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচ খেলতে কলকাতা ছেড়ে ওড়িশা পাড়ি দেওয়ার আগে মোহনবাগানের হেড কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস চেয়েছিলেন, ম্যাচে এমন খেলবে তাঁর দল যাতে পরের ম্যাচের উপর আর নির্ভর করতে না হয়। মানে প্রথম ৯০ মিনিটেই সেমিফাইনাল দখলে নিয়ে নিতে চেয়েছিলেন যাতে হোম ম্যাচে কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে নামতে পারে দল। কিন্তু মঙ্গলবার ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে শুরুটা করেও খেলা থেকে হারিয়ে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। হাবাস যেটা চেয়েছিলেন ঠিক তার বিপরীতটাই এদিন খেলল তাঁর দল। যার ফল ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েও ১-২ গোলে হেরেই ঘরের মাঠে ফিরতি লিগের সেমিফাইনালে নামতে হচ্ছে তাদের।
মঙ্গলবার সাদিকু, দিমিত্রিকে সামনে রেখেই দল সাজিয়েছিলেন হাবাস। সঙ্গে পিছন থেকে মনবীর সিং। সেই মনবীরের গোলেই ম্যাচ শুরুর মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু কথায় আছে, দ্রুত গোল করে এগিয়ে যাওয়া দল অনেকবেশি চাপে পড়ে যায়। এক তো এগিয়ে গিয়ে সেটা ধরে রাখার চাপ সঙ্গে প্রতিপক্ষকে সমতায় ফিরতে না দেওয়া। সব মিলে শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ঠিক এই কারণেই হয়তো চাপটা ধরে রাখতে পারল না লিগ-শিল্ড চ্যাম্পিয়নরা।
তিন মিনিটে ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়া ওড়িশা এফসি ম্যাচে ফিরল ১১ মিনিটেই। আহমেদ জহুর কর্নার থেকে কার্লোস দেলগাডোর পায়ে লেগে বল চলে গেল মোহনবাগান গোলে। ঘরের মাঠে সমতায় ফিরে যেন টগবগ করে ফুটতে শুরু করল ওড়িশা এফসি। যার ফল ২-১ গোলে এগিয়ে গেল ওড়িশা। ৩৯ মিনিটে ইউয়েস্তেকে ঘারে নিয়েই মোহনবাগান জালে বল জড়ালেন প্রাক্তন মোহনবাগানী রয় কৃষ্ণা। ম্যাচের সেরাও তিনি। তার আগে ১৪ মিনিটে অফ সাইডের জন্য পেনাল্টি বাতিল হল ওড়িশার। ১৯ মিনিটে গোল লাইন থেকে ওড়িশার নিশ্চিত গোল আটকালেন আনোয়ার আলি।
প্রথমার্ধ ১-২ গোলে পিছিয়ে থেকে শেষ করল মোহনবাগান। কিন্তু এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ ছিল অতি নাটকীয়। দুই দলের এক জন করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন। দুই দলকেই খেলতে হল ১০ জনে। ৬৭ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন মোহনবাগানের আর্মান্দো সাদিকু। ৭৩ মিনিটে বক্সের মধ্যো হ্যান্ড বল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে বেরিয়ে যেতে হল ওড়িশার দেলগাডোকে। দুই দলের দুই লাল কার্ডে কিছুটা উত্তেজনাও ছড়াল গ্যালারিতে। যদিও তা বেশিদূর গড়ায়নি।
চোটের কারণে ৮৪ মিনিটে মাঠ ছাড়লেন দুই দলেরই পাখির চোখ রয় কৃষ্ণা। তাতে কিছুটা স্বস্তি পেল মোহনবাগান ঠিকই। কারণ রীতিমতো মোহনবাগান গোলের সামনে আতঙ্ক তৈরি করছিলেন তিনি। উঠে গিয়েও ডাগআউট থেকে নির্দেশ দিতে থাকলেন দলকে। এতটাই একশো শতাংশ জরিয়ে থাকা। ঠিক যেমনটা দেখালেন মোহনবাগানের দিমিত্রি পেত্রাতোস। শুরু থেকে শেষ একইভাবে সেরাটা দিয়ে গেলেন। উঠে-নেমে দলকে খেলিয়ে গেলেন। গোলের বল দিলেন। শুধু সমতায় ফিরতে পারল না দল।
ফাইনালে যেতে হলে ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে মোহনবাগানকে নির্ধারিত সময়ে দুই গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। এক গোলের ব্যবধানে জিতলে দুই ম্যাচের ফল মিলে ড্র হয়ে যাবে। তাহলে ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। তার পরও সিদ্ধান্ত না হলে টাইব্রেকারে। ম্যাচ শেষে হাবাস তাই বলে গেলেন, ‘‘বুঝতেই পারছি দীর্ঘ ম্যাচ খেলতে হবে।’’
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, আনোয়ার আলি, হেক্টর ইউয়েস্তে, অভিষেক সূর্যবংশী (দীপক টাংরি), শুভাশিস বোস, জনি কাউকো (জেসন কামিংস), অনিরুদ্ধ থাপা, লিস্টন কোলাসো (কিয়ান নাসিরি), মনবীর সিং, আর্মান্দো সাদিকু, দিমিত্রি পেত্রাতোস
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
