অলস্পোর্ট ডেস্ক: কয়েকদিন আগে ইস্টবেঙ্গল এফসি মুম্বইয়ের মাঠে নেমে গতবারের লিগ, শিল্ড চ্যাম্পিয়নদের গোলশূন্য ড্র-য়ে রুখ দিলেও মুম্বই সিটি এফসি-কে যথেষ্ট কঠিন প্রতিদ্বন্দী হিসেবেই দেখছেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ হুয়ান ফেরান্দো ও তারকা মিডফিল্ডার হুগো বুমৌস। তাঁদের লক্ষ্য এই ম্যাচ থেকে এক নয়, পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে কলকাতায় ফেরা।
কোচ বদলের পর টানা দুটি ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করায় অনেকেই হয়তো মনে করছেন মুম্বই সিটি এফসি-র এখন দুঃসময় চলছে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের হারানোও সম্ভব। কিন্তু মোহনবাগান এসজি-র কোচ ফেরান্দো কিন্তু সে কথা মানতে রাজি নন। তাঁর মতে, ঘরের মাঠে মুম্বইকে হারানো মোটেই সোজা হবে না।
মুম্বইয়ে উড়ে যাওয়ার আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের সবুজ-মেরুন কোচ বলেন, “গত ম্যাচে ওরা ড্র করলেও প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করেছে এবং অনেকগুলো সহজ সুযোগও পেয়েছিল। সে কথা মাথায় রেখেই নিজেদের তৈরি করছি আমরা। ঘরের মাঠে মুম্বই সিটি এফসি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং বাইরের মাঠে খেলা সত্যিই কঠিন। আমাদের কাছে এটা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ”।
কিন্তু এই মরশুমের শুরুতেই, ডুরান্ড কাপে মুম্বই সিটি এফসি-কে হারিয়েছিল তারা। সেই অভিজ্ঞতা কি এখানে কাজে লাগতে পারে ফেরান্দোর দলের ফুটবলারদের? সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে স্প্যানিশ কোচ বলেন, “ডুরান্ড কাপের ম্যাচের চেয়ে এই ম্যাচ একেবারে আলাদা। এখানে অন্যরকমের প্রতিদ্বন্দিতা। আমার দল নিয়ে আমি বরাবরই আত্মবিশ্বাসী। পরের ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা এবং তার উপযুক্ত পরিকল্পনা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীত নিয়ে ভেবে লাভ নেই। ডুরান্ড কাপ ৩-৪ মাস আগে হয়ে গিয়েছে। ওরা ওদের কোচও বদলে ফেলেছে। তাই দুটো ম্যাচের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে”।
মুম্বই সিটি এফসি সম্প্রতি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যে অভিজ্ঞতা তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলেছে বলে মনে করছেন ফেরান্দো। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো টুর্নামেন্টে খেলে এলে যে কোনও দলেরই উন্নতি হয়। মুম্বইয়ের ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার সুবিধা তো এটাই। তাই আইএসএলে সেই সুবিধাও পাচ্ছে ওরা”।
চলতি লিগে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন মুম্বইয়ের তারকা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গ্রেগ স্টুয়ার্ট। ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডাররা গত ম্যাচে তাঁকে কড়া পাহাড়ায় রেখেছিলেন। সবুজ-মেরুন বাহিনীও সে রকমই কিছু পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে কি না, তা জানতে চাইলে ফেরান্দো বলেন, “প্রতিপক্ষের কোনও একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে আলাদা করে বিশেষ পরিকল্পনা আমি কোনওদিনই করিনি। আমি পুরো দলকে নিয়ে পরিকল্পনা করি। নিজের দলের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ওদের রক্ষণ ও আক্রমণের কথা মাথায় রেখে আমি আমার দলকে তৈরি করি। এটাই ফুটবল”।
ফেরান্দোর দলের ফরাসি মিডফিল্ডার ও মুম্বই সিটি এফসি-র প্রাক্তন তারকা হুগো বুমৌসও বলছেন, স্টুয়ার্টের সঙ্গে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত লড়াই নেই এই ম্যাচে। তিনি বলেন, “মুম্বইয়ের দলে অনেক ভাল ভাল ফুটবলার রয়েছে। আমাদের দল সম্পর্কেও একই কথা বলতে পারি। তাই এই ম্যাচে কোনও ব্যক্তিগত লড়াই নেই। খেলাটা দুটো দলের মধ্যে হবে। এই মরশুমে আমরা প্রমাণ করেছি, অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আমরা ভাল খেলতে পারি। এখন পর্যন্ত আমাদের কেউ হারাতে পারেনি। তাই আমাদের বিরুদ্ধে কোনও দল নামলে তাদের পুরো দলের বিরুদ্ধেই লড়তে হবে, একজন-দুজনের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের দিক থেকেও ব্যাপারটা সে রকমই”।
গত ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে মুম্বই সিটি এফসি-র গোলশূন্য ড্র প্রসঙ্গে বুমৌস বলেন, “মুম্বই খুব ভাল দল। গত ম্যাচে ওরা ইস্টবেঙ্গলকে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চাপে রেখেছিল। ইস্টবেঙ্গল সেদিন খুব ভাল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে ওদের তিন পয়েন্ট নিতে দেয়নি। আমাদের মধ্যে ম্যাচে কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে ওদের বিরুদ্ধে আমাদের লক্ষ্য থাকবে তিন পয়েন্ট পাওয়া। (আইএসএলে) গত তিনটে ম্যাচের মধ্যে আমরা ওদের বিরুদ্ধে দুবার ড্র করেছি ও একবার হেরেছি। চলতি লিগের শেষ ম্যাচে আমরা যে ছন্দে ছিলাম, আশা করি, সেই ছন্দেই থাকব এই ম্যাচে”।
আইএসলে একশো ম্যাচ খেলা বুমৌস মনে করেন মুম্বইকে হারানোর ক্ষমতা তাদের দলের আছে। বলেন, “আমাদের দলে ভাল মানের খেলোয়াড় আছে। আমরা শক্তিশালী দল। আমরা যদি মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তা হলে আমি নিশ্চিত, আমরা ওদের হারিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারব। সে জন্য আমাদের প্রত্যেককেই একশো শতাংশ দিতে হবে। যারা শুরু থেকে খেলবে, তারা তো বটেই, যারা পরে বেঞ্চ থেকে নামবে, তাদেরও। আমি এই ম্যাচ নিয়ে খুবই আগ্রহী ও উত্তেজিতও। মুম্বই, এফসি গোয়া ও কেরালা—এই তিন ম্যাচই কঠিন। তবে আর পাঁচটা ম্যাচের আগে যে ভাবে নিজেদের প্রস্তুত করি আমরা, এই ম্যাচগুলোর আগেও সে ভাবেই প্রস্তুত হব। সে আমরা লিগ টেবলের যেখানেই থাকি না কেন”।
চলতি লিগে পাঁচটি ম্যাচ খেলে একটি গোল করেছেন বুমৌস। নিজের পারফরম্যান্স সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই মরশুমে আমি সব ম্যাচে খেলতে পারিনি। কিন্তু যখনই মাঠে নেমেছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দলের জন্য খেলেছি। দলের আমাকে যে ভাবে প্রয়োজন হয়েছে, সেভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি। মাঝমাঠ থেকে গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছি, প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে গোলও করেছি। এখন পর্যন্ত নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টাই করেছি, পরের ম্যাচগুলোতেও একই চেষ্টা থাকবে”।
(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
