Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল

অলস্পোর্ট ডেস্ক: আবার একটা মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল, বরং বলা ভাল মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল —আর তাতেই টগবগ করে ফুটে ওঠে বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের রক্ত। কারও রঙ লাল-হলুদ আবার কারও শরীরে ছোটে সবুজ-মেরুন রক্ত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম কীভাবে যেন আত্মীয়তা বানিয়ে ফেলে এই দুই ক্লাবের সঙ্গে। কিন্তু ক’জন জানে এই দুই ক্লাবের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস। ক’জন খোঁজ রাখেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সেই গল্প যার ভিডিও, অডিও বা স্টিল ছবি প্রায় কিছুই নেই। তবে তথ্য আছে কোনও কোনও ম্যাচের। কোনও কোনও ম্যাচের গল্প আজও শিহরণ জাগায় মনে, শরীরে। তাই ডার্বির আগের দিন একবার ফিরে দেখা যাক সেই ইতিহাসকে। যা আজও বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে এই দুই ক্লাব।

এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি দল প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল ১৯২১-এর ৮ অগস্ট কোচবিহার কাপে। সেই প্রথম সাক্ষাৎ। যদিও সেই ম্যাচ অফিশিয়াল তকমা পায়নি। সেই ম্যাচ থেকেই এই দু’দল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠেছিল কিনা তা জানা নেই। এই দুই দল প্রথম মাঠে নেমেছিল। যদিও তা অফিসিয়াল ম্যাচ ছিল না। ২৮মে কলকাতা ফুটবল লিগে প্রথমবার অফিসিয়ালি মাঠে নামে এই দুই দল। যদিও এই দুই দলের পুরে ইতিহাস লিখতে হলে পাতার পর পাতা লেগে যাবে। তাই বেছে নেওয়া হল বিশেষ বিশেষ কিছু মুহূর্ত, কিছু সময়।

এই দুই ক্লাব বছরে অন্তত তিনবার খেলতে নামে একে অপরের বিপক্ষে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে দু’বার এবং কলকাতা ফুটবল লিগে প্রতি বছর একবার তারা মুখোমুখি হয়। এছাড়াও ডুরান্ড কাপ, আইএফ শিল্ড, সুপার কাপ তো আছেই।

১৯৬০ সাল ছিল মোহনবাগান দলের গোল্ডেন পিরিয়ড। সেই বছর মোহনবাগান লিগ জিতে আইএফ শিল্ড ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষকে নিজের ঘরের মাঠে হারিয়ে দেয়। ৩-৪-এ জিতে যায় মোহনবাগান। অমল দত্তের হাত ধরে প্রথম ৪-২-৪ এই ধরনের সঙ্গে পরিচয় হয় ফুটবল দলের।

সময়ের সঙ্গে সেই ইতিহাসের মোড় ঘোরে। ১০ বছর পর সময় ঘুরে যায় ইস্টবেঙ্গলের দিকে। ১৯৭০-এ ১৯৩২ দিন লাল-হলুদ দল অপরাজিত থাকে ডার্বিতে। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ এই ছয় বছরে ইস্টবেঙ্গল মাত্র একবার হেরেছিল ডার্বিতে। এই রেকর্ডে লাল-হলুদের সব থেকে বড় জয় ছিল ৫-০ গোল। যা আজও ইতিহাস হয়ে আছে। এই হারের পর অনেক মোহনবাগান সমর্থক রাত কাটায় গঙ্গায় নৌকায় ওপর। ম্যাচের এই ফলাফলের পর উমাকান্ত পালোধি যিনি মোহনবাগানের একজন বড় সমর্থক ছিলেন আত্মহত্যা করেন। সুইসাইড নোটে তিনি লিখে গিয়েছিলেন পরের জন্মে তিনি একজন ফুটবলার হবেন এবং এই ৫-০ গোলের প্রতিশোধ নেবেন। ১৯৮০-এর ১৬ অগস্ট কলকাতা ফুটবল লিগের ডার্বি ম্যাচে ইডেন গার্ডেনের গ্যালারিতে পদপিষ্ট হয়ে ১৬জন ফুটবল সমর্থক মারা যান।

আবার সময় ঘোরে। এবার মোহনবাগান আটটি ডার্বি জেতে তার সঙ্গে মোট গোল করে ১৬টি। ১৯৯৭-এর ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনাল ছিল মোহনবাগান দলের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ভারতের সর্বসেরা ফুটবলার ভাইচুং ভুটিয়া হ্যাটট্রিক করেন এই ম্যাচে। ২০০৯-এ মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে দেয়। এই ম্যাচে চিডি এডে হ্যাটট্রিক করেন।

২০১৫-এর ৬ সেপ্টেম্বর আবার এক স্মরণীয় ডার্বি লেখা হয় ইতিহাসের পাতায়। যেখানে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানকে ৪-০-তে হারিয়েছিল। এই ম্যাচে গোল করেছিলেন লক্ষীনারায়ণ, কে প্রসাদ, মুর্গেশ এবং মজিদ।

২০২২-এর ২৯ জানুয়ারি এটিকে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দেয়। কিয়ান নাসিরি যিনি ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার জামশিদ নাসিরির ছেলে তিনি এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন। কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসাবে ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ২০১৯ থেকে ইস্টবেঙ্গল পরপর ছ’টি ডার্বি হেরেছে। এই সবের মধ্যে একটা ডুরান্ড কাপ, একটা আই-লিগ এবং বাকি গুলো হারে আইএসএলে। এই বছর ইস্টবেঙ্গলের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। আর অন্যদিকে মোহনবাগানের সামনে লক্ষ্য জয়ের ধারা ধরে রাখা।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *