অলস্পোর্ট ডেস্ক: চুম্বন বিতর্ক-এর জল অনেক দুর গড়িয়েছে। আইনি মামলা থেকে ফিফার নির্বাসন, সব কিছুর মুখেই পড়তে হয়েছে রুবিয়ালেসকে। তারপরও তিনি বারবার এটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে তিনি জোর করে কিছু করেননি এবং তিনি নির্দোষ। তবে জেনি হারমোসা সর্ব সমক্ষে দাবি করেছেন তাঁকে জোর করেই চুম্বন করেছিলেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। মঙ্গলবার একটি সাক্ষাৎকারে রুবিয়ালেস আবার বলেন যে এই চুম্বন ছিল সম্মতিপূর্ণ।
পরে বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার জেনি হারমোসা সমাজ মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে চুম্বনটি সম্মতিপূর্ণ ছিল না। এরপর তিনি জাতীয় আদালতেও যৌন নিপীড়নের মামলা করেছিলেন। আদালত থেকে বিচারপতি রুবিয়ালেসকে ডেকে পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটার প্রায় তিন সপ্তাহ পরে রুবিয়ালেস সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং তিনি নিজে ‘সত্যি’ কথা বলছেন তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।
একটি টক শো তে রুবিয়ালেস বলেছিলেন, ‘‘ আমি যা করেছি তা সম্পূর্ণভাবে ছিল স্বতঃস্ফূর্ততার বহিঃপ্রকাশ। অন্য কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। এবং এতে দু’জনেরই সম্মতি ছিল। পুরো ঘটনাটি কেবল আবেগ এবং আনন্দের প্রকাশ ছিল।’’
৪৬-এর রুবিয়ালেস এই চুম্বনটিকে “অ-যৌন” হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এবং পূর্বে তিনি তাঁর মেয়েদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করেন সেই তুলনাও টেনে এনেছিলেন। ‘‘আমার উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ সৎ। ১০০ শতাংশ অ-যৌন। আবার বলছি ১০০ শতাংশ,’’ বলেছিলেন রুবিয়ালেস।
প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি পদত্যাগ করার আগে ফিফা দ্বারা সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি এও বলেছিলেন যে চুম্বনটি আনন্দের মুহুর্তে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ছিল।
‘‘আনন্দের সময় উদযাপন করার সময় কেউই অনুমতি চায় না। সেই সময় সকলেই শুধু মাত্র উদযাপনই করে থাকে,’’ বলেছেন রুবিয়ালেস। রুবিয়ালেস দাবি করেছেন যে তিনি চুম্বনের জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। যেটিকে তিনি “আ পেক” হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। এবং ফেডারেশনের সভাপতি হিসাবে এই কাজটি তাঁর ভুল ছিল বলে স্বীকারও করেছেন। “অবশ্যই, আমি প্রথম থেকেই বলেছি, আমি ভুল করেছি এবং আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছি,” তিনি বলেছিলেন।
“একজন রাষ্ট্রপতি আলিঙ্গন করতে পারেন, তবে সেটা কূটনৈতিক এবং ভদ্রতার আচরন হিসাবে মেনে নেওয়া হয়,’’ বলেছিলেন তিনি। পদত্যাগে তাঁর প্রাথমিক প্রত্যাখ্যানের পর রুবিয়ালেস সমালোচনার মুখে পড়েন।
আগে স্পেনের জাতীয় মহিলা ফুটবল দল থেকে ৮০ জনেরও বেশী মহিলা ফুটবলার প্রতিবাদ করেছিলেন বিতর্কিত কোচ হোর্হে ভিলদার অপসারণ চেয়ে। বর্তমানে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন।
প্রাক্তন সভাপতি রবিবার বলেছিলেন যে তিনি এখন স্পেনের ২০৩০ পুরুষদের বিশ্বকাপ দলকে সাহায্য করার জন্য নিজের জায়গা থেকে সরে যাচ্ছেন। সেইসঙ্গে এই ঘটনার জেরে তাঁর পরিবারের উপর সৃষ্টি হওয়া চাপ থেকে তাদের মুক্তি দেওয়াও তাঁর লক্ষ্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
