অলস্পোর্ট ডেস্ক: খেলার মাঠে খেলোয়াড়ের মৃত্যু নতুন নয়। ভারতের মাটিতে ম্যাচের গোল করার মুহূর্তে ব্রাজিলের ফুটবলার জুনিয়ারের মাঠেই জুনিয়রের মৃত্যু শুধু ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের নয়, বিশ্বের মানুষকেও ভীষণভাবে নাড়া দিয়ে গিয়েছিল। এবার খেলতে খেলতে মাঠেই প্রাণ হারানোর তালিকায় সংযোজন ঘটল নাইজেরিয়া জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার মাইকেল এনেরামোর নাম। নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন থেকে জানিয়েছে, ৪০ বছর বয়সী এনেরামো কাদুনায় এই প্রীতি ম্যাচ খেলছিলেন। ম্যাচ চলাকালীন দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের মাঝেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। মাঠে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি।
নাইজেরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে ১০ টি ম্যাচ খেলেছিলেন এনেরামো। এছাড়া টিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, সৌদি আরব ও তুরস্কের বিভিন্ন ক্লাবে খেলে সুনাম অর্জন করেছিলেন তিনি। এনেরামোর শারীরিক কাঠামো, শক্তি, পরিশ্রম করার ক্ষমতার সঙ্গে গোলস্কোরিং দক্ষতা সকলের নজর টেনেছিল খেলোয়াড় জীবনে। এনেরামোর বড় চেহারা ও বুলডোজিং এবিলিটির কারণে টিউনিশিয়ার ক্লাব এসপারেন্সেতে সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। আর এই দলের প্রিয় সমর্থকরা তাঁকে ‘ আল দাবাবা’ নামে ডাকতেন। যার অর্থ হল ‘দ্য ট্যাঙ্ক’।
এনেরামোর কাছে একসময় টিউনিশিয়ার জাতীয় দলের হয়ে খেলার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে ২০০৯ সালে জামাইকার বিরুদ্ধে নাইজেরিয়া জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক ঘটে তাঁর। নাইজেরিয়ার হয়ে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের যোগ্যতানির্ণায়ক পর্বে এনেরামোর অবদান ভেলার নয়। ঘরের মাঠে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে ২-২ ফলে খেলা শেষ করে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচের ফলাফল নাইজরিয়াকে পরে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের মূল পর্বে নাইজেরিয়াকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিল। তবে কোনও এক অজ্ঞাত কারণে বিশ্বকাপের মূল পর্বের দলে এনেরামোর জায়গা হয়নি।
নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সচিব মহম্মদ সানুসি এক শোক বার্তায় লিখেছেন, ‘ এনেরামোর এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনা মানা যায় না। ফুটবলার হিসেবে শক্তি, নিষ্ঠা ও লক্ষ্যে অবিচল থাকার প্রতীক ছিল। ফুটবলার হিসেবে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছিল। ওর এই আকস্মিক প্রয়াণটা আমাদের কাছে বজ্রপাতের মতো। ঈশ্বরের কাছে এনেরানোর আত্মার শান্তি কামনা করি। একইসঙ্গে ওর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাই। জানি নাইজেরিয়ার ফুটবলপ্রেমী মানুষও আমার মতো এই ঘটনায় সমব্যথী। এটা একটা অপূরণীয় ক্ষতি দেশের ফুটবলের জন্য।’
আফ্রিকান ফুটবলে মাঠে মৃত্যুর ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্যামেরুনের মার্ক ভিভিয়ান-ফো, আইভরি কোস্টের চিক টিয়েটে, ও ঘানার রাফায়েল দোয়ামেনার মতো নামী ফুটবলারের প্রাণ হারানো। ২০০৯ সালে ফিফার মেডিকেল টিমের গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকান অ্যাথলিটদের মধ্যে খেলাধুলো চালানো বা পরবর্তী সময় আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার একটা প্রবল আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর সেকারণে নিয়মিত চেক আপের মাঝে এদের থাকা জরুরি। আইভরি কোস্টের বিশ্বকাপার ও চেলসির প্রাক্তন স্ট্রাইকার দিদিয়ের দ্রোগবারও একই পরামর্শ নিজের ও অন্য দেশের খেলোয়াড়দের জন্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
