মুনাল চট্টোপাধ্যায়: বিএসএফকে ৪-০ গোলে কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে হারালেও ডায়মন্ড হারবার এফসির তুলনায় গোলপার্থক্যে পিছিয়ে থাকার কারণে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেক্ষেত্রে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সরাসরি কোয়ার্টারফাইনাল যেতে বাগান ব্রিগেডকে শনিবার যুবভারতীর মাঠে ডায়মন্ড হারবারকে হারাতেই হবে। নইলে সব গ্রুপ মিলিয়ে দ্বিতীয় সেরা হয়ে শেষ আটে যেতে অন্যান্য দলের ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে সবুজ মেরুনকে।
এটা নিয়ে সদস্য-সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ থাকলেও, মোহনবাগান এসজি চিফ কোচ হোসে মোলিনা এতটুকু উদ্বিগ্ন নন। বরং বিএসএফ ম্যাচ জেতার পর ফুরফুরে মেজাজে থেকে মোলিনা বলেন, ‘ ডায়মন্ড হারবার ম্যাচ জেতাই যেখানে লক্ষ্য, সেখানে ১ গোল দরকার ম্যাচটা জিততে। এর বেশি ভাবার কী প্রয়োজন আছে।’ মোলিনার এই ইতিবাচক মনোভাবটাই গোটা দলকে উজ্জীবিত করছে ডায়মন্ড ম্যাচের আগে।
বিএসএফ ম্যাচে দলের খেলায় খুশি মোলিনা। বললেন, ‘ আমি একটা দর্শনেই বিশ্বাসী। ভাল খেলে যত সম্ভব বেশি গোল করা, আর চেষ্টা করা গোল যাতে খেতে না হয়। বিএসএফ ম্যাচে সেই লক্ষ্যপূরণ হয়েছে। দল কোনও গোল হজম করেনি, বরং ৪ গোল করেছে। আরও গোল হতে পারত, লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে, একইসঙ্গে বিএসএফ গোলকিপার কয়েকটা দুর্দানঞত সেভ না করলে। তবে এটা ঠিক, ফুটবলারদের মধ্যে ফিটনেসের অভাব আছে। খেলতে খেলতেই সেটা পূরণ করে ফেলা যাবে এই বিশ্বাস আছে।’
মহমেডান ম্যাচে যুব দলের ফুটবলারদের শুরু থেকে খেলানোর সাহস দেখাতে পারেননি সহকারী কোচ বাস্তব রায়। কিন্তু মোলিনা দেখিয়েছেন প্রথম একাদশে লিউইন কাস্থানা ও রোশনকে রেখে। এই দুজনের খেলা মন ছুঁয়েছে মোলিনার। দীপেন্দু বিশ্বাসের মতো এঁরাও যে বাগানের সম্পদ হয়ে উঠবেন, সেটা মোলিনার বক্তব্যেই উঠে এসেছে। বিরতির পর একসঙ্গে তিনটি বদলে মোহনবাগানের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। মনবীরকে কি চোটের জন্য তুলেছিলেন? সেটা কি গুরুতর বলেই? মোলিনার জবাব, ‘ মনবীরের চোট তেমন কিছু না। আসলে পরিবর্তনগুলো আগে থেকেই পরিকল্পনায় ছিল। ঠিকই করেছিলাম, দ্বিতীয়ার্ধে মনবীরের জায়গায় কিয়ান, থাপার বদলে সাহাল আর টমের পরিবর্ত হিসেবে আলবার্তোকে নামাব। বিশেষ করে সাহাল ও আলবার্তোকে গেম টাইম দিতে। এটা কাজে দিয়েছে। বরং বলতে পারেন ম্যাচের শেষদিকে সুহেলের লাগাটা আচমকাই। ওটা ভাবনায় ছিল না। বাধ্য হয়ে সুহেলের জায়গায় পাসাংকে নামাই। দেখতে হবে সুহেলের চোটটা কতটা বেশি। ডায়মন্ড ম্যাচে পাওয়া যাবে কিনা।’ তবে তার থেকেও বেশি ভাবনার কারণ হল সোমবার বিকেলে ক্লাবের মাঠে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার সময় গ্লেনের সঙ্গে সংঘর্ষে আপুইয়ার চোট পাওয়া। বেশ গুরুতর মনে হয়েছে, আপুইয়া যেভাবে সতীর্থ ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফের কাঁধে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়লেন।
সোমবার রাতে দু’দফায় কলকাতায় পা রাখেন জেমি ম্যাকলারেন ও জেসন কামিংস। শহরে পা দিয়েই বিকেলে মোহনবাগান মাঠে অনুশীলনে নেমেও গেলেন। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে আসবেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। মোলিনার কথায় আভাস, অনুশীলনে ফিটনেস দেখে এঁদের সামনের ম্যাচে ব্যবহারের কথা ভাববেন।
মরশুমে প্রথমবার মাঠে নেমেই বিএসএফ ম্যাচে গোল করিয়ে ও করে সকলের মন জিতেছেন সাহাল আব্দুল সামাদ। এই সাবলীল শুরুর রহস্য কী? হেসে সাহালের উত্তর, ‘ কোনও রহস্য নেই। বরং এটাই স্বাভাবিক। গত মরশুমে দলে অনেকেই ছিল নতুন। তাই বোঝাপড়া গড়ে উঠতে সময় লেগেছে। কোচও ছিলেন নতুন। তাঁর কৌশল রপ্ত করতেও সময় লেগেছিল। এবার বলতে গেলে দল নতুন মুখ হাতে গোনা। সুতরাং সবাই সবাইকে চেনে, কোচের খেলানোর কৌশল জানে। আমাদের নতুন করে কিছু রপ্ত করতে হচ্ছে না। তাতেই মনে হয়নি নতুন মরশুমে প্রথমবার মাঠে নামলাম। যত ম্যাচ এগোবে, দল আরও ভাল খেলবে। এক দল ধরে রাখার এটাই সুবিধা।’ সাফল্য ধরে রাখতে বাগান টিম ম্যানেজমেন্টের এই এক দল ধরে রাখার সিদ্ধান্তটা কতটা সঠিক, সেটা সময়ই বলে দেবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
