অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএলের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে চেন্নাইয়ের মাঠে চেন্নাইন এফসিকে হারিয়ে এসেছে ইস্টবেঙ্গল ৩-১ গোলে। তাতে বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে যুবভারতীতে বেঙ্গালুরু এফসির মুখোমুখি হওয়ার আগে লাল হলুদ ব্রিগেডের আত্মবিশ্বাস যে তুঙ্গে থাকবে, সেটা জানাই ছিল। বুধবার বিকেলে নববর্ষের দিনে যুবভারতীর ট্রেণিং গ্রাউন্ডের অনুশীলনে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের শরীরি ভাষায় আত্মবিশ্বাসটা ধরাও পড়েছে। কিন্তু সেটা যাতে বেঙ্গালুরু ম্যাচের আগে আত্মতুষ্টিতে বদলে না যায়, সেজন্য বেশ সতর্ক লাল হলুদের হেড স্যার অস্কার ব্রুজোঁ। ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ৪ নম্বর স্থানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল, সেখানে ৮ ম্যাচে সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৫ নম্বরে বেঙ্গালুরু। তাদের বিরুদ্ধে জিতলে ইস্টবেঙ্গল ২ নম্বরে উঠে এসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে ভাল জায়গায় থাকবে।
অস্কারের সাফ বক্তব্য, ‘ সবদিক থেকে আমরা ভালই এগোচ্ছি আইএসএলে। আমরা এমন একটা দল যারা বেশি গোল করেছি, খেয়েছি কম। তিন ম্যাচে গোল হজম করেনি দল রক্ষণভাগের ফুটবলারদের চোট সমস্যা থাকতেও। শেষ ২ ম্যাচে আমরা ১০ গোল করেছি, খেয়েছি মাত্র একটা। কিন্তু ভুললে চলবে না, এবার আমাদের সামনে ঝামেলায় ফেলে দেওয়ার মতো দল বেঙ্গালুরু। ওরা গত ম্যাচে কেরালা ব্লাস্টার্সের কাছে হেরেছে। কোচও নতুন যোগ দিয়েছে। তাই বাড়তি উদ্যম নিয়ে ঝাঁপাবে বেঙ্গালুরু ম্যাচ জিততে। আমাদের সামনে বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে টানা ৩ ম্যাচ জয়ের সুযোগ। জিতলে খুবই ভাল, কিন্তু এক পয়েন্ট পেলে আকাশ ভেঙে পড়বে না মাথায়। আমাদের তারপরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ ওড়িশা। যত সম্ভব পয়েন্ট জুড়তে জুড়তে এগোন যায় ভাল। ফুটবলারদের বলেছি মাথা ঠান্ডা রাখতে। এখন শুধু বেঙ্গালুরু ম্যাচে ফোকাস করতে। এক একটা ম্যাচ ধরে লক্ষ্যের দিকে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ।’
বেঙ্গালুরু এফসির সুনীল ছেত্রী এই ম্যাচে কোনও ফ্যাক্টর হতে পারেন কি? তাঁকে আটকানোর কোনও আলাদা ছক কষছেন কি? অস্কারের উত্তর,‘ আমার দলের মিগুয়েল, সলরাও এই ম্যাচে ফ্যাক্টর। নিজের ফুটবলারদের ওপর আমার ভরসা আছে। সুনীল নিঃসন্দেহে বেঙ্গালুরুর গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার, ওদের লিডার। সুনীল এমন একজন ফুটবলার, যে ম্যাচের রং একমুহূর্তে বদলে দিতে পারে। গত আইএসএলে সারাম্যাচে কিছুই না করে, বক্সের মধ্যে শরীরটাকে কাজে লাগিয়ে এমন একটা ভঙ্গি করে পড়ে গিয়ে রেফারির থেকে ফাউল অর পেনাল্টিও আদায় করে নিয়েছিল, যেটা সবাইকে অবাক করে। তাই ওকে তো গুরুত্ব দিতেই হবে।’
অস্কার ব্যাখ্যা করেন কেন চেন্নাইন এফসি ম্যাচ জিতলেও দল গোটা ম্যাচে চেনা ছন্দে ছিল না। বলেন, গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর যে প্রেসিং ফুটবলটা চালিয়ে যাওয়ার দরকার ছিল, সেটা পারেনি ফুটবলাররা। তাতেই গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল প্রতিপক্ষ। তবে তিনি গোলটা হজম করে ফুটবলারদের সম্বিত ফেরে। তারা দ্বিতীয় গোলটা তুলে নিয়ে চেন্নাইনকে চাপে ফেলে দেয়।
রেফারিং নিয়ে খুশি থাকলেও ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ভূমিকায় বেশ ক্ষুব্ধ অস্কার। বলেন, ‘ এবার রেফারিংয়ে মান বেশ ভাল গতবারের তুলনায়। কিন্তু বেশ অবাক লেগেছে বেঙ্গালুরু ম্যাচের আগে ওদের ফুটবলার স্যাঞ্চেজের লাল কার্ডের নির্বাসনের শান্তি প্রত্যাহার করে নেওয়ায়। ভুল সকলেই করেন, ফুটবলার, কোচ, রেফারি। কিন্তু একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমাদের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু মুখোমুখি হওয়ার আগে সেটা প্রত্যাহার করে নেওয়াটা কীভাবে ঠিক? স্যাঞ্চেজ খেলবে না ধরে নিয়েই তো আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এখন জেনেছি, ওর শাস্তি মকুব হয়ে গেছে, ও খেলবে। এইধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে খেলার মাঠে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে না। এটা লিগের পেশাদারি মনোভাবের অভাব বলেই মনে করি।’
এখন দেখার অস্কার নিজের ক্ষোভটা কতটা ছড়িয়ে দিতে পারেন নিজের দলের ফুটবলারদের খেলায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
